মুজিববর্ষেই সারাদেশ বিদ্যুতের আওতায় আসবেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

1360

Published on নভেম্বর 13, 2019
  • Details Image

মুজিববর্ষেই সারাদেশ শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ৭টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও ১০ জেলার ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ; সময়কে আমরা মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ইনশাল্লাহ, এই যে মুজিববর্ষ ঘোষণা দিয়েছি, এরই মাঝে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হব, বলে আশা করছি। কেউ অন্ধকারে থাকবে না। সব ঘরেই আলো জ্বলবে।’

তিনি বলেন, সব ঘরে কিভাবে আলো জ্বালাব? সব জায়গায় তো আমাদের গ্রিড লাইন নেই। যেখানে গ্রিড লাইন নেই বা দুর্গম এলাকা, চর, হাওড়, পাহাড়সহ যে সব অঞ্চলে এখনও গ্রিড লাইন পৌঁছায় নি, সেখানে আমরা আমাদের সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বা সোলার প্যানেলসহ বিভিন্ন উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা পৌঁছে দিয়ে সেই ঘরগুলিও যাতে অন্ধকার না থাকে, সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমরা করব। সেইভাবেই আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

সরকার যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, এতে যে অর্থ খরচ হয় তার থেকে কম খরচে সরবরাহ ও ভতুর্কি দেওয়া হচ্ছে। এজন্য সকলকে অনুরোধ জানিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ অপচয় আপনারা বন্ধ করবেন। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবেন, মিতব্যয়ী হবেন। তাতে যারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে তারাও লাভজনক হবে। কারণ বিলটা কম আসবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমদ কায়কাউস স্বাগত বক্তব্যে জানান, একটি সরকারি এবং ৬টি বেসরকারি উৎপাদন কেন্দ্র এবং ১০টি জেলার ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে আরও জানান, ইতোমধ্যে ২১১টি উপজেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। আজকে ২৩টিসহ মোট ২৩৪টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন হল। বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে আরও ১২৭টি উপজেলা। অর্থাৎ বাকি যে ৬১টি উপজেলা আছে সেগুলো আগামী বছরের জুনের ভেতরে শেষ করা সম্ভব হবে। ২০৪১ সালে আমাদের অর্জিত হবে, স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ।

প্রায় ৯৪ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে পেরেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এখন আমরা প্রায় ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছি। আমরা কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ে, হাত পেতে চলতে চাই না। আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই, মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলতে চাই।’

এছাড়া তৎকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সমস্যার প্রকটতা তুলে ধরেন এবং সেই সময় মাত্র ১৬ শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হত সে কথা তুলে ধরে বলেন, ‘সারাদেশ অন্ধকারে ছিল। তখন আমরা উদ্যোগ নিলাম শুধু সরকারিভাবে না, বেসরকারিভাবেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে।’

এরপর তার সরকারের মেয়াদে কিছু উদ্যোগ নিয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার তিন শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পাঁচ বছর পর আমরা সরকারে আসতে পারেনি। এরপর আসল বিএনপি-জামায়াত জোট। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, তাদের পাঁচ বছর এবং এর পরবর্তীতে আরও দুই বছর ইমার্জেন্সি দিয়েছিল কেয়ারটেকার সরকার।’

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠন করলাম তখন দেখলাম ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রেখে গিয়েছিলাম, তার থেকে উৎপাদন কমে গেছে। সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে আজকে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি প্রায় ২২ হাজার মেগাওয়াট। তার সঙ্গে আজকে যোগ হবে ৭৯০ মেগাওয়াট। প্রায় ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এখন উৎপাদন করতে পারছি। আমরা ইতোমধ্যে প্রায় ৯৪ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছি। বিতরণ এবং সঞ্চালনের ব্যবস্থা করছি। উৎপাদনের সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং বিতরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং তার শুভফল দেশের মানুষ পাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যাতে এই ফলটা ভোগ করতে পারে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। উন্নয়ন শুধু শহরে বসবাস করা বা রাজধানীতে বসবাস করা কিছু মানুষেরই উন্নয়ন না, উন্নয়নটা হচ্ছে একেবারে গ্রাম পর্যায়ের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, আর্থ-সামাজিক উন্নতি করা, তাদের জীবনমান উন্নত করা, কর্মসংস্থান করা। তাদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাসহ সব ধরনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা।’

উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে অগ্রাধিকার দিয়েছি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে। আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এখন খাদ্য-পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা। কারও কাছে ভিক্ষা চেয়ে হাত পেতে চলতে চাই না। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের খাদ্য উৎপাদন করে আমরা সরবরাহ করতে চাই। আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাই। মাথা উঁচু করে বিশ্ব দরবারে চলতে চাই। যেটা আমাদের জাতির পিতা শিখিয়েছেন।’

এছাড়া দেশবাসীকে সরকারের গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বারবার আমাদের ভোট দিয়েছেন এবং তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগ দিয়েছেন বলেই আজকে আমরা দেশের উন্নয়নটা করতে পারছি।’

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত