অবকাঠামো: উন্নয়নের রাজপথ

 

যোগাযোগ ও অবকাঠামগত আধুনিকায়ন একটি জাতির প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম শর্ত। এই শর্ত পুরণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচেষ্টা চোখে পড়ার মত। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য খাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার ভুমিকা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। সরকার গঠনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ এই প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

সড়কপথঃ
বিগত সরকারের আমলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বর্তমান সরকার দেশকে ধ্বংসস্তুপ থেকে তুলে বিশ্বের কাছে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়াসে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করেছে। একটি টেকসই, মানসম্পন্ন ও নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো এবং সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার ৩০.৫ কিলোমিটার নতুন সড়ক এবং ৪ হাজার ৪৬ মিটার কংক্রিট সেতু নির্মাণ করেছে। ২হাজার ২৭০ কিলোমিটার সড়ক মেরামত, ৫২৮ কিমি সড়ক প্রশস্তকরণ ও ২হাজার ৩৭২ কিমি সড়ক সারফেসিং করার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার দুয়ার খুলে দিয়েছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ওপর শাহ আমানত সেতুসহ সারাদেশে ১৩টি ব্রিজ নির্মাণ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেছে সরকার। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সবচেয়ে বড় দুটি মাইলফলক হল রাজধানীতে যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তান সংযোগকারী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ও চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে এম এ মান্নান ফ্লাইওভার। যাত্রাবাড়ীর যানজট সমস্যা নিরসনে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার অনেক গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করবে। ঢাকার আশপাশের জেলা গুলো থেকে পুর্বের চেয়ে কম সময়ে যানবাহন যাতায়াত করতে পারবে। এম এ মান্নান ফ্লাইওভার চট্টগ্রামের মানুষের প্রানের দাবী ছিল। এই প্রতিশ্রুতি পুরন করে সরকার আবার প্রমাণ করে দিলো তারা জনগণের জন্য কাজ করতেই সরকার গঠন করেছে এবং ভবিষ্যতেও এল্কখ্যে কাজ করে যাবে। যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার অত্যাধুনিক রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নম্বর প্লেট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ট্যাগ প্রবর্তন করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট নিরসনে এটিকে ৪-লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

রেলওয়েঃ
বাংলাদেশের যোগাযগ ব্যবস্থায় রেল একটি গুরুত্বপুর্ণ মাধ্যম। রেলপথের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ঢাকা-রংপুর লাইনে রংপুর এক্সপ্রেস, ঢাকা-চট্টগ্রাম লাইনে চট্টলা এক্সপ্রেস সহ ৪৫টি নতুন ট্রেন চালু করেছে।

নদীপথঃ
দক্ষিনবঙ্গের মানুষের কাছে নদীপথ একটি অপরিহার্য মাধ্যম। এলক্ষ্যে টঙ্গী, নোয়াপাড়া, ভৈরব ও বরগুনায় ৪টি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর স্থাপন করা হয়েছে, ঢাকা ও বরিশাল নদীবন্দরকে করেছে আরো আধুনিক ও উন্নত।

ভবিষ্যত পরিকল্পনাঃ
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে মাঠে নেমেছে সরকার। কিন্তু একটি কার্যকরী যোগাযোগব্যবস্থা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই মহাজোট সরকার ২০বছর মেয়াদী ২০০৯-২০২৯ সড়ক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং সেই লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার-লেনে উন্নীত করা এবং দক্ষিন ও দক্ষিন-পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আজীবন লালিত স্বপ্ন পদ্মা সেতুকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সাধারণ পরিবহনের ওপর চাপ কমাতে ঢাকায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন আসবে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ছাড়া অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যবসা-বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পরতে বাধ্য। বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ অনুকরণীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

Share this
TOP