Elektronik Sigara বিএনপি ক্ষমতায় যেতে সবসময় বাঁকা পথ খোঁজে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

বিএনপি ক্ষমতায় যেতে সবসময় বাঁকা পথ খোঁজে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
শুক্রবার | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২ | ১২ ফাল্গুন ১৪১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সোজা পথ নয়, ক্ষমতায় যেতে সবসময় বাঁকা পথ খোঁজে। জনগণের প্রতি আস্থা নেই বলেই অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা দখলের চিন্তা করে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করেছে। জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবে, নইলে নয়। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার গণভবনে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যার আলামত নষ্ট হওয়া ও তদন্তের আগেই গণমাধ্যমে বিভিন্ন খবর প্রকাশের কারণে খুনিরা নিজেদের আড়াল করার সুযোগ পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, সাগর-রুনী তাদের বেডরুমে মারা গেছেন। সরকারের পক্ষে তো প্রত্যেকের বেডরুমে ঢুকে নিরাপত্তা কিংবা পাহারার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করতে গণমাধ্যম কর্মীসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সময় সাংবাদিক মানিক সাহা, হুমায়ুন কবির বালু হত্যাকাণ্ডের সময় সাংবাদিকরা সবাই এভাবে আন্দোলনে নামলে হয়তো এ ধরনের ঘটনা আর ঘটত না। সে সময় ১৬ জন সাংবাদিক নিহত ও ১৮শ' নির্যাতিত হয়েছেন। তখন সবাই আন্দোলনে নামেননি, কারণ বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। এখন আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই হয়তো আন্দোলনে নামতে সাহস পেয়েছেন। গণমাধ্যম এখন মুক্ত-স্বাধীন। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সাগর-রুনী হত্যার পর তাদের ৬ বছরের শিশু সন্তান মেঘকে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে যেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তা সত্যিই অমানবিক। এতটুকু বাচ্চাকে যেভাবে সাক্ষাৎকারের নামে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তা ঠিক নয়। এতে তার জীবনটাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেল। সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কেননা তাদের কাজ জিজ্ঞাসাবাদ করা নয়, এ কাজ গোয়েন্দাদের। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বারবার ছোট শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদের কারণে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দয়া করে ছোট শিশুটিকে একটু রেহাই দিন। একটি ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ছোট শিশুটির সঙ্গে কথা বলাটাকে তারা কৃতিত্ব হিসেবে জাহির করেছে। আর এটুকু শিশুর সাক্ষাৎকার নিয়ে রিপোর্ট করার কারণে খুনিরা নিজেদের আড়াল করার সুযোগ পেয়েছে। এটা কারোরই কাম্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, মিডিয়ায় অনেক সময় অনেক মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। যে কথা বলিনি, সেটাও ছেপে দেওয়া হচ্ছে। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। অনুরোধ করব, এটা করবেন না।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন শামীম সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন। জেলা সভাপতি আ ন ম শফিকুল হকের নেতৃত্বে বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা ছাড়াও দল সমর্থিত সাংসদ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দেন। শুরুতে জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করায় শেখ হাসিনাকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সভা পরিচালনা করেন দলের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহউদ্দিন সিরাজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণই ঠিক করবে তারা কাদের ক্ষমতায় দেখতে চায়। দেশবাসীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা শান্তি-সমৃদ্ধি চায়, নাকি অতীতের মতো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবাজদের আবার ক্ষমতায় বসাবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। এ বিচার অবশ্যই শেষ হবে। তবে বিরোধীদলীয় নেতাকে বলব, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্দোলনের নামে জনগণকে কষ্ট দেবেন না। লাশের ওপর পা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। সংগঠনকে শক্তিশালী করাসহ সরকারের অর্জিত সাফল্যগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা ভারত, চীনসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছি। দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সীমান্ত সমস্যাসহ সব সংকট সমাধান করছি। ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। এখন তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি এবং টিপাইমুখ বাঁধ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। আমরা ভারত সরকারকে জানিয়ে দিয়েছি টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে যৌথ সমীক্ষায় এ দেশের প্রতিনিধি রাখতে হবে। ওই বাঁধ নির্মাণ হলে বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে কি-না, তা সমীক্ষায় উঠে আসবে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হোক এমন কাজ তারা করবেন না।

এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সতীশ চন্দ্র রায়, মাহবুবউল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, হাবিবুর রহমান সিরাজ, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, মৃণাল কান্তি দাস, একেএম এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

অনলাইন রেডিও

You are here চলতি খবর বিএনপি ক্ষমতায় যেতে সবসময় বাঁকা পথ খোঁজে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা