মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষাব্যবস্থা ডিজিটালকরণে এক গুরুত্ত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

 

শিক্ষা ক্ষেত্রে এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন দ্বারা উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষা দান ও শিক্ষা গ্রহণ কে শিক্ষক শিক্ষার্থী উভয়ের কাছে আরো বেশি কার্যকরী ও আনন্দদায়ক করে তোলা। এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্নিমাণে একটি ত্রিমুখী পদ্ধতি অনুসরণ করেছে ঃ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া শ্রেনীকক্ষ স্থাপন করা, শিক্ষকদের তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে সহজে বোধগম্য হয় না, এমন বিষয়ে পাঠদানের উপাদান তৈরি করতে প্রশিক্ষণ দেয়া এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ের সাথে সাথে কারীগরি, বৃত্তিমূলক ও মাদ্রাসার পাঠ্যবইয়েরও ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ তৈ্রি করা। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্নিমাণের অংশ হিসেবে, এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন সরকারি-ব্যক্তিগত মালিকানা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫০০ টি মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ স্থাপন এবং প্রায় ৪৫০০ শিক্ষকদের পাবলিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এর ৪০০ প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ দেয়া সম্পন্ন করেছে।

প্রয়োজনীয়তাঃ

বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক বুদ্ধিদীপ্ত তরুণ আছে যাদেরকে যথার্থ শিক্ষা নিশ্চিত করে একুশ শতকের চাহিদা মোতাবেক মূল্যবান মানব সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ পরিবর্তন এবং শিক্ষা উপকরণ পূণ অলংকরণ পরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বহুমুখীতা ও খরচ সাশ্রয়ী হওয়ায়, সাধারণ তথ্য প্রযুক্তি সুবিধা সম্পন্ন সংশোধন করাকেই বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

কিভাবে এটি এসেছে:

এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫০০ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ স্থাপন করে যার প্রতিটিতে ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি ল্যাপটপ এবং একটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দেয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন অপেক্ষা অনেক সস্তা এবং অর্থনৈতিকভাবে সম্ভবপর বলে প্রমাণিত হয়।এই শ্রেণীকক্ষ গুলো শ্রেণীতে শিক্ষার মান বাড়াতে, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়াতে এবং শিক্ষকদের পড়ানোর পদ্ধতিকে কার্যকরী করতে সফল হয়েছে। এই সাফল্যকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন ৪৫০০ শিক্ষকদের ‘শিক্ষক নেতৃত্বাধীন ডিজিটাল কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দান করে। এই প্রোগ্রামের অধীনে শিক্ষকগণ তাদের শ্রেণীকক্ষের জন্য ইন্টারনেট ও সাধারণ প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার দ্বারা ডিজিটাল বিষয়বস্তুর উন্নয়ন ও উপস্থাপন করা আয়ত্ত করবেন। শিক্ষকগণ তাদের বানানো কন্টেন্টগুলো এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন দ্বারা পরিচালিত একটি শিক্ষামূলক ব্লগে শেয়ারও করেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ের সাথে সাথে কারীগরি, বৃত্তিমূলক ও মাদ্রাসার পাঠ্যবইয়েরও ইলেক্ট্রনিক সংস্করণ সহজলভ্য করার কাজ চলছে। দেখতে আকর্ষনীয় এবং খোজা ও লিখা বড় করা সুবিধা সম্পন্ন প্রায় ৩০০ টির ও বেশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ই-বুক এই পর্যন্ত বানানো হয়েছে এবং ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। যে কেউ যে কোনো জায়গা থেকে তা বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পড়তে পারবে। এই উদ্যোগ গুলো কার্যকর করতে এ্যাকসেস টু ইনফরমেশন এর অংশীদার হিসেবে আছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পরিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা পরিদপ্তর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাগত মান উন্নয়ন সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় তথ্য-প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রজেক্ট, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, বাংলালিংক, ইন্টেল, হোসাফ গ্রুপ এবং অন্যান্য বেসরকারী সংস্থা কাজ করেছে।

ফলাফল কি হবে:

মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ, ডিজিটাল বিষয়বস্তু এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ একত্রিত হয়ে কার্যকরী ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার ব্যাপ্তী বাড়াবে এবং মুখস্ত নির্ভরতা দূর করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন করবে।
লিঙ্ক - See more at: http://a2i.pmo.gov.bd/content/multimedia-class-room#sthash.7XddlfxV.dpuf

TOP