সরকার গঠন, দলে ভাঙন ও ক্ষমতা হরণ

Formation

যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে যাওয়ার পর, ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রাদেশিক সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। 

এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন আতাউর রহমান খান এবং শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রমবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান শেখ মুজিবুর রহমানমাত্র ২ বছরের শাসনকালে বহু সফলতা অর্জন করে এই সরকারসাফল্যের সাথে খাদ্য সংকট সামাল দেয়া ছাড়াও অর্জনের তালিকায় ছিল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তিদান, ভূমিহীন কৃষকদের টেস্ট রিলিফ প্রদান, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, ২১ ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা, পহেলা বৈশাখকে বাংলা নববর্ষের দিন হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত, চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন স্থাপন, ময়মনসিংহে ভেটেরেনারি কলেজ, ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা, সাভারে ডেইরি ফার্ম স্থাপনআর এসকল অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন বঙ্গবন্ধু

পরবর্তীতে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সময় দেয়ার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন শেখ মুজিবতিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে মাঠে নামেন তিনিঠিক সেই সময়ই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ থেকে মাত্র ১৩ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় নতুন সরকার। সরকারের বাকি সদস্যদের তৎকালীন প্রসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত রিপাবলিকান পার্টি থেকে নেয়া হয়। তবে এই সরকার মাত্র ১৩ মাস স্থায়ী হয় (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬-১১ অক্টোবর ১৯৫৭)। এই স্বল্প সময়েই প্রশাসনে বেসামরিক ও সামরিক আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় সোহরাওয়ার্দী সরকারগণতন্ত্রের যাত্রা সমুন্নত রাখতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয় নেন সোহরাওয়ার্দীতার এই সাহসী পদক্ষেপে ভীত হয়ে পড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা। কেন্দ্রীয় সরকারের যোগসাজশে সোহরাওয়ার্দী সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় রিপাবলিকান পার্টি ফলশ্রুতিতে প্রেসিডেন্টের চাপে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী

একই সময়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীমাওলানা ভাসানী ছিলেন জোট-নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির পক্ষে, অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জোট গঠনের পক্ষপাতীএই বিরোধের জেরে ১৯৫৭ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মাওলানা ভাসানী এবং কয়েকদিনের মাঝে দলের ওয়ার্কিং কমিটির ৩৭ জন সদস্যের ৯ জনই ভাসানীর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। সে বছরেরই জুলাই মাসে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে এক নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন মাওলানা ভাসানীএমন সঙ্কটময় অবস্থায় এগিয়ে আসেন শেখ মুজিবমূলতঃ তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়ই প্রায় নিশ্চিত বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পায় আওয়ামী লীগ।

Share this
TOP