আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা এবং ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান:

69ছয় দফা দাবির প্রতি ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনকে দাবিয়ে রাখতে নতুন এক ফন্দি আঁটেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান

 

ছয় দফা দাবির প্রতি ক্রমবর্ধমান জনসমর্থনকে দাবিয়ে রাখতে নতুন এক ফন্দি আঁটেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় যেখানে ৩৫ জন বাঙালি সরকারি কর্মচারী এবং সামরিক কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়। “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য” নামের এই মামলায় শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রধান আসামি। অভিযুক্তদের বিচার করার জন্য প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। এই মামলার ফলে ক্ষোভে ফুঁসে উঠে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ। আইয়ুব শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রসমাজ। হাজার হাজার ছাত্র জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে, ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়ে। তাদের স্লোগান ছিল, “জেলের তালা ভাঙবো, শেখ মুজিবকে আনবো। তোমার নেতা, আমার নেতা, শেখ মুজিব শেখ মুজিব”। পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিক্ষুব্ধ জনগণের উপর গুলিবর্ষণ করে। এই আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন অনেকেই। এদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডঃ সামসুজ্জোহা, স্কুল ছাত্র মতিউর ও সার্জেন্ট জহুরুল হক অন্যতম। অবশেষে ২২শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শেখ মুজিবকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এর পরের দিন রেসকোর্স ময়দানে এক আড়ম্বরপূর্ণ সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ মুজিব কে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এবং আইয়ুব শাহীর একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে।

Share this
TOP