কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ ও দোহারে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

 

ঢাকার কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার ফসলের মাঠ সরিষা ফুলের হলুদ আচ্ছাদনে ঢেঁেক গেছে। প্রকৃতি যেন তার আপন মহিমায় ফসলের মাঠকে সাজিয়েছে বর্ণিল সাজে। দূর থেকে দেখে মনে হয় এসব এলাকার মাঠ জুড়ে কেউ যেন হলুদ চাঁদর বিছিয়ে রেখেছে।

একইসাথে হলুদ রংয়ের আভার সাথে বাতাসে বইছে সরষে ফুলের মধুর মৌ মৌ গন্ধ। মৌ মাছিরা আকুল ব্যকুল হয়ে ছুটছে মধু সংগ্রহ করতে। এ দৃশ্য দেখতে প্রকৃতি প্রেমীরা আসছেন সরষে মাঠের কাছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী, বাস্তা, রুহিতপুর, কলাতিয়া, তারানগর ও হযরতপুর এলাকার মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে হলুদ সরষে গাছ।এছাড়া দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় আড়িয়াল বিল, কোঠাবাড়ি চক, মুকসেদপুর, নারিশা, বিলাশপুর, পদ্মা নদীর চর এলাকা, শোল্লা, পাতিলঝাপ, ভাওয়ালি, এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে সরিষার ব্যাপক আবাদ হয়েছে।
কৃষি অফিসের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এ বছর এ তিন উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.জামিলুর রহমান জানান, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ২ হাজার ২শ’ ৮৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়াও রয়েছে অনুকূলে। যে কারণে সরিষা গাছও রয়েছে রোগ মুক্ত। ফলে এবছর সরিষার ভালো ফলন আশা করা যায় বলে তিনি জানান।
দোহার উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর আনুমানিক ৫শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও তা বেড়ে ১ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে।
অপরদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে নবাবগঞ্জে ৩ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।
নারিশা জোয়ার চর এলাকার কৃষক ফজলু সরকার জানান, বিঘা প্রতি ৬ মণ সরিষার উৎপাদন হলেও সমস্ত খরচের পর লাভবান হবেন বলে আশা করেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কর্মকর্তা কৃষিবিদ মকবুল আহমেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ১শ’ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। তবে তীব্র শীত ও ঘন কুঁয়াশায় ফসল হানির কারণ। ফসলের অনুকূল আবহাওয়া থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।