অপশক্তির ক্ষমতায় আসা বন্ধ করতেই সংবিধান সংশোধন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মে ১৫, ২০১১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যতে অপশক্তির ক্ষমতায় আসা বন্ধ করার জন্যই সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে। আদালতে মামলাজট কমানোর জন্য বিচারপতিদের আরও আন্তরিক হতে হবে। বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিনোদন কেন্দ্র ও হাইরাইজ রেসিডেন্সিয়াল টাওয়ার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধান সংশোধন এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে আর কখনও কোনো অপশক্তি অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসতে না পারে। বারবারই এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে আর তা হাতছাড়া হয়েছে। তাই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে। এতে বন্ধ হয়ে যাবে অপশক্তির ক্ষমতায় আসার পথ।
বিচারপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'সাধারণ মানুষ, নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। এ কারণে আমি আপনাদের প্রতি আদালতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখার মতো কাজ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।'
প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন। তাছাড়া বক্তব্য রাখেন আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান ও স্থানীয় সাংসদ রাশেদ খান মেনন।
সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য নিম্ন আদালতে প্রায় ২০ লাখ মামলা বিচারাধীন থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বিচারকদের প্রতি এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এসব মামলার সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের ভাগ্য জড়িত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে পুরনো ও জরুরি মামলাগুলোর তালিকা তৈরি করে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, 'বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সমাজের সব স্তরে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কেননা আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার হচ্ছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।'
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবল্পুব্দ হত্যাকাণ্ডের পর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা বেয়নেটের খোঁচায় সংবিধান ক্ষতবিক্ষত এবং বাংলাদেশের জনগণের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছিল। এমনকি তারা বঙ্গবল্পুব্দর হত্যাকারীদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পুনর্বাসিত এবং তাদের কয়েকজনকে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনে নিয়োগ দিয়েছিল।
