Elektronik Sigara শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপিত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপিত

বিএনপির দুর্নীতিবাজদের বিচার হবেই: আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ

মে ১৮, ২০১১

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া লন্ডনে নিজেই স্বীকার করেছেন জিয়াউর রহমান ও তার আমলে বিএনপির অনেক নেতা অনেক ধন-সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমান সরকার ওইসব দুর্নীতিবাজ নেতার বিচার করে জনগণের সম্পদ ফিরিয়ে নেবে। এ সম্পদ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে। নেতারা একই সঙ্গে ২০২১ সালের মধ্যে উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। কেননা আওয়ামী লীগ জানে কীভাবে আন্দোলন করতে ও মোকাবেলা করতে হয়।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতারা এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে লাখো মানুষের বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সকালে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও এতিমখানায় খাবার বিতরণ শেষে বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।


বিকেলের আনন্দ শোভাযাত্রায় দল ও সহযোগী সংগঠনসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের লাখো নেতাকর্মী-সমর্থকের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। হেঁটে এবং বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে শোভাযাত্রায় যোগ দেয় তারা। সারিবদ্ধ ট্রাকমিছিল এবং হাতি, গরু ও ঘোড়ার গাড়িতে চেপে অংশ নেওয়া মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা সবার দৃষ্টি কাড়ে। ব্যান্ডপার্টির তালে তালে নেচে-গেয়ে কর্মীরা শোভাযাত্রার পরিবেশকে উৎসবমুখর করে রাখে।
বিকেল ৩টায় শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরের আগে থেকেই নগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও এলাকা থেকে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ সমবেত হতে শুরু করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, মৎস্য ভবন ও শাহবাগ এলাকায়। বিকেল নাগাদ সেখানে দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বিকেল পৌনে ৫টায় শোভাযাত্রা শুরু হয়। অগ্রভাগে একটি খোলা ট্রাকে দলের কেন্দ্রীয় ও নগর নেতারা নেতৃত্ব দেন। অংশগ্রহণকারীরা বিশালাকৃতির গাঢ় লাল-সবুজের জাতীয় ও দলীয় পতাকা ছাড়াও রঙবেরঙের ছোট ছোট পতাকা, বেলুন, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করে। অনেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্থিরচিত্র সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসে। ঠেলাগাড়ি ও ভ্যানে করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকাও বহন করা হয়। এ সময় মাইকে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ও শেখ হাসিনার ভাষণসহ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের উদ্দীপনামূলক গান এবং গণসঙ্গীত ছাড়াও খোলা ট্রাকে ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, মিরপুর রোড হয়ে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন পর্যন্ত শোভাযাত্রার যাত্রাপথে দু'পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো জনগণ একে স্বাগত জানায়। আশপাশের উঁচু ভবনগুলো থেকেও অনেকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানায়। কেউ কেউ মিছিলে একাত্ম হয়। সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে মিছিলের প্রথম ভাগ যখন বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে পৌঁছে তখনও শেষভাগ ছিল সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে। এ শোভাযাত্রার কারণে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মৎস্য ভবন, কাকরাইল, শাহবাগ ও মিরপুর রোডসহ নগরজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে আনন্দ শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে সমাবেশের সভাপতি ও দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা বাংলাদেশে বাঙালিরাই থাকবে। সেখানে রাজাকার-আলবদর ও ষড়যন্ত্রকারীদের ঠাঁই হবে না। উচ্চ আদালতের রায়ে যেভাবে সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল হয়েছে, একইভাবে এ দালালরাও একদিন বাতিল হয়ে যাবে। সমাবেশে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনা বাংলার মানুষকে সামরিক শাসন থেকে মুক্ত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন।
উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে না এলে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতো না। খালেদা জিয়া যত কথাই বলুন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আমাদের আজকের দিনের অঙ্গীকার। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, লাখ লাখ মানুষের এ র্যালি প্রমাণ করেছে মানুষ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এমএ আজিজ, আশরাফুন্নেছা মোশাররফ এমপি, রায় রমেশচন্দ্র, মোতাহার হোসেন মোল্লা, পংকজ দেবনাথ, হারুনুর রশীদ, নাজমা আখতার এমপি, অপু উকিল এমপি, মাহমুদ হাসান রিপন ও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। পরিচালনা করেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ নাসিম, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ড. আবদুর রাজ্জাক, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ প্রমুখ। পরে মহানগর আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতি লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদসহ দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে। সকাল ১০টায় শ্যামলীতে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বিশ্রামাগারে তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেতারা। দুপুর দেড়টায় বিভিন্ন এতিমখানায় খাবার বিতরণ করা হয়।
শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিরোধী দলকে সংসদে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেখানে-সেখানে বসে মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইলে লাভ হবে না। মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইলে সংসদে এসে অনাস্থা প্রস্তাব আনুন। অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলে অবশ্যই আবারও নির্বাচন হবে। মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া লন্ডনে নিজেই স্বীকার করেছেন জিয়াউর রহমান ও তার আমলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী অনেক ধন-সম্পদের মালিক হয়েছেন। বর্তমান সরকার ওইসব দুর্নীতিবাজ নেতার বিচার করে জনগণের সম্পদ ফিরিয়ে নেবে। ওই সম্পদ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাবে। এ উপলক্ষে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে শেখ হাসিনার অবদানের ওপর একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে গোটা রাজধানীতে বিলবোর্ড, ফেস্টুন, পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে দু'মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ-জনগণের কল্যাণে তার ব্যাপক সাফল্যও তুলে ধরা হয়। এছাড়া শেখ হাসিনার জীবন ও কর্মের ওপর প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা হয়েছে।
আরও আয়োজন : দিবসটি উপলক্ষে এন্টারপ্রাইজ অব ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজ স্টাডিজ আয়োজিত
'শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : গণতন্ত্র, প্রগতি ও উন্নয়নের পথে যাত্রা' শীর্ষক আলোচনা সভায় 'আলোকচিত্রে বঙ্গবন্ধু' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বীরবিক্রম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট র‌্যালি ও সমাবেশ করেছে। এতে অরুণ সরকার রানা, নাসিমা আক্তার রাবু, রফিকুল ইসলাম মৃধা, নাজমুল হাসান পলাশ, পারুল আক্তার লোপা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সংগঠনের সভাপতি ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন অধ্যাপক ড. শাহ-ই-আলম, অধ্যক্ষ এএফএম নজরুল মজিদ বেলাল, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক সিরাজুল হক আলো, অধ্যাপক কাজী মীজানুল ইসলাম, শাহজালাল মিয়া, অধ্যাপক অশোক তরুণ প্রমুখ। 'আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানে'র আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন এমদাদুল হক, নূরুজ্জামান ভুট্টো, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নয়ন, আমিনুল ইসলাম রিপন, ফাহাদ ইউসুফ হোসেন প্রমিত প্রমুখ।

অনলাইন রেডিও

You are here আর্কাইভ