Elektronik Sigara যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত ১৪ দলের

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত ১৪ দলের

প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১৪ দল নেতাদের বৈঠক

২১ ডিসেম্বর ২০১১, ৭ পৌষ ১৪১৮

PM2_21122011একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহাজোটভুক্ত ১৪ দল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চৌদ্দ দলের নেতাদের দীর্ঘ বৈঠকে এ বিষয়ে মতৈক্যের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিএনপি-জামায়াত জোটের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত সম্পর্কে সারাদেশে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ব্যাপক জনমত সৃষ্টির ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়। চৌদ্দ দলের নেতারা দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপিসহ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির দেশকে অস্থিতিশীল করতে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বোমা মেরে মানুষ খুনসহ তাদের অপরাজনীতি মোকাবেলার কৌশল, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপের উদ্যোগ, ঢাকাসহ সারাদেশে চৌদ্দ দলকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি এবং পরে অপরাপর দল ও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার পরই এ তারিখ নির্ধারণ করা হবে। শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে তার সরকারের অবস্থান ও কর্মপন্থা তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধাপরাধী জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকায় প্রশাসনসহ সব সেক্টরে এদের লোক রয়ে গেছে। এ অবস্থায় যত সহজে এ বিচারের কথা বলা হচ্ছে, বিষয়টি ততটা সহজ ছিল না। এগুলোর সমাধানসহ বিচার শুরুর আগে বিশ্বজনমত তৈরির লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে বিভিন্ন দেশে পাঠাতে হয়েছে। এসব কারণে বিচার শুরু করতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বৈঠকে শরিক নেতারা জ্বালানি, সারসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-পানি সংকট ও যানজটসহ জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যার উল্লেখ করে এসব সংকট নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয় ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধের ঐক্যকে সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তারা । প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। বৈঠকে চৌদ্দ দলের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির প্রত্যক্ষ মদদে জামায়াতসহ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে নস্যাত করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গোপন ও সশস্ত্র জঙ্গীদের সঙ্গে একজোট হয়ে তারা সন্ত্রাস ও অন্তর্ঘাত চালাচ্ছে। এ অপশক্তিকে মোকাবেলায় চৌদ্দ দলের ঐক্যকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া চৌদ্দ দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন এমপি, বিমল বিশ্বাস, জাসদের হাসানুল হক ইনু এমপি, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, ন্যাপের এ্যাডভোকেট এনামুল হক, আমেনা আহমেদ এমপি, গণআজাদী লীগের হাজী আবদুস সামাদ, গণতন্ত্রী পার্টির নুরম্নর রহমান সেলিম, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজিদুল ইসলাম খান , ডা. অসিত বরণ রায় এবং গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির জাকির হোসেন।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আমু এ বিচার ইস্যুতে '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মতো গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে নামানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে যে গণজাগরণ দেখা গেছে, দেশবাসী এবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে সে ধরনের গণজাগরণই দেখতে পারবে।
তোফায়েল আহমেদ জানান, এ বিচার ইস্যুতে একদিন রাজধানী ঢাকাকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করা হবে। এছাড়া সারাদেশের জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, মহল্লা ও গ্রাম পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ কমিটি গড়ে তুলে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা হবে।

সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টার এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুল জলিল, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ওবায়দুল কাদের, মাহবুবউল আলম হানিফ, আহমদ হোসেন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, নূহ-উল-আলম লেনিন, আবদুল মান্নান খান, মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল, আখতারুজ্জামান, ওয়ার্কার্স পার্টির বিমল বিশ্বাস, কামরুল আহসান, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম, মাহমুদুর রহমান বাবু, ন্যাপের আমেনা আহমদ, জাসদের শরীফ নূরুল আম্বিয়া, শিরীন আক্তার, নাজমুল হক প্রধান, হাবিবুর রহমান শওকত, সাম্যবাদী দলের আবু হামেদ শাহাবুদ্দিন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের মাওলানা হোসেন আলী প্রমুখ।

অনলাইন রেডিও

You are here আর্কাইভ