২৩ ডিসেম্বর ২০১১ | ৯ পৌষ ১৪১৮
সবাইকে আবারও একাত্তরের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ১৪ দলের নেতারা। তাঁরা অভিযোগ করে বলেছেন, খালেদা জিয়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে অশুভ শক্তির হাতে তুলে দিতে চান। এ অবস্থায় একাত্তরের মতো ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে বিএনপির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নগর ১৪ দলের সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা এ কথা বলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং এই বিচারের পক্ষে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে জোটের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য বিমল বিশ্বাস, কামরুল আহসানসহ নগর আওয়ামী লীগ ও নগর ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নেতারা প্রশ্ন তুলে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের কোনো ষড়যন্ত্র টিকবে না। সভায় চলতি মাসের শেষের দিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে নগরীতে গণমিছিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গণমিছিলে লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটানো, ঢাকার ১০০ ওয়ার্ড থেকে মিছিল নিয়ে ঐতিহাসিক শিখা চিরন্তনের সামনে আসা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে ঢাকাসহ সারা দেশে ১৪ দলের ইউনিট করা ইত্যাদি। একপর্যায়ে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের মতো মহানগরে সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আমির হোসেন আমু বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট যে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করতে চায় তা প্রতিহত করতে হবে। সম্প্রতি ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বোমাবাজি ও আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে বিএনপিকে দায়ী করে আমু বলেন, 'দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিএনপি নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।'
তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'বিরোধীদলীয় নেতা যখন বলেন যে গোলাম আযম, নিজামী, সাঈদী ও সাকা চৌধুরী যুদ্ধাপরাধী নয়; আমরা মুক্তিযোদ্ধারা তখন আর ঘরে বসে থাকতে পারি না।' তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশকে অস্থিতিশীল করে অশুভ শক্তির হাতে তুলে দিতে চান। দুর্নীতিবাজ দুই ছেলে ও নিজে মামলা থেকে বাঁচতে চান। বাঁচাতে চান যুদ্ধাপরাধীদের। সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে জনমত গড়তে রাজধানীতে আগামী ২৯-৩০ ডিসেম্বর মিছিল হবে জানিয়ে তোফায়েল বলেন, ঢাকাকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করব।
