বিএনপি-জামায়াত জোটসহ কারো কোনো ষড়যন্ত্র যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না: আওয়ামী লীগ
২৫ ডিসেম্বর ২০১১, ১১ পৌষ ১৪১৮
আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকা শহরকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও সমমনা দলগুলো। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর যেভাবে ঢাকা নগরী মিছিলে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল, এবারো সে রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বড় এ কর্মসূচির স্লোগান হবে 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই'। গতকাল শনিবার বিকেলে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকার সব সংসদ সদস্য ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সভায় সভাপতিত্ব করেন। ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিল সফল করতে প্রস্তুতিমূলক এ সভার
আয়োজন করা হয়। একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এ গণমিছিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই দিন সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা থেকে মিছিল নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের সব শক্তি জমায়েত হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তনের সামনে। বিকেল সাড়ে ৩টায় সেখানে হবে সমাবেশ। এ লক্ষ্যে ১৪ দল ও মহাজোটের শরিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক সভা করেছে আওয়ামী লীগ। আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে কমিউনিস্ট পার্টিসহ সমমনা কয়েকটি দলের সঙ্গেও। তারা সবাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে এ কর্মসূচি যুগপৎভাবে পালন করতে রাজি। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দল আলাদা ব্যানার নিয়ে এ কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এ কর্মসূচি নিয়ে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। প্রস্তুতি সভার আগে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, এ গণজোয়ার সৃষ্টি করে তাঁরা প্রমাণ করবেন দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। বিএনপি-জামায়াত জোটসহ কারো কোনো ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। হানিফ বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না। বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা যেকোনো মূল্যে এ বিচারকে বানচাল করতে চায়।
প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, বদিউজ্জামান ডাবলু, ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা, অসীম কুমার উকিল, মৃণাল কান্তি দাস, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, পংকজ দেবনাথ, ইলিয়াস মোল্লা এমপি, অপু উকিলসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।
