২৯ ডিসেম্বর ২০১১ | ১৫ পৌষ ১৪১৮
সন্ত্রাস দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের দৃঢ় সংকল্পের আবারও প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির সভাপতি ও কংগ্রেসম্যান পিটার টি কিং গত ১৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা এক চিঠিতে এ প্রশংসা করেন। কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো অন্য এক চিঠিতেও তিনি বলেছিলেন, 'বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে আপনার পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।'
গত ১৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কংগ্রেসম্যান পিটার টি কিং গত ২২ নভেম্বর তারিখে লেখা চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'সন্ত্রাস দমনে আপনার সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা জেনে আমি আশ্বস্ত হয়েছি। আপনি জানেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সন্ত্রাস দমনের চাবিকাঠি।' এ ছাড়া আগামী দিনগুলোতে উভয় দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে পিটার টি কিং প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর সাম্প্রতিক ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও ভূমিকার প্রশংসা করেন।
আগের চিঠিতে পিটার কিং বলেছিলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থান এবং সন্ত্রাস দমনে তাঁর সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার কারণেই বাংলাদেশে হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী (হুজি), জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি) এবং জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশসহ অন্য চরমপন্থী গোষ্ঠীকে দমন করা সম্ভব হয়েছে। আর এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইকে গতিশীল করেছে বাংলাদেশ। চলমান সন্ত্রাসবিরোধী এই লড়াইয়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে পিটার কিং বলেন, 'পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদের তীব্র প্রভাব আপনার নেওয়া ব্যবস্থার কারণেই বাংলাদেশ রুখে দিতে পেরেছে।'
পিটার কিং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিশ্বের দেশগুলোর পক্ষ থেকে আরো সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারের প্রয়াসকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সব সময় সহায়তা দিয়ে যাবে বলে কংগ্রেসম্যান পিটার কিং উল্লেখ করেন।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পিটার টি কিং ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। বিগত ২০০২-০৮ সালে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে পরিচিত হয়েছিল যে নেতিবাচক পরিচয়ে_সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী নির্যাতন, সাংবাদিক নির্যাতনের দেশ হিসেবে_সেই পরিচয় ঘুচিয়ে দিয়ে বর্তমান সরকার আজ বাংলাদেশকে একটি অগ্রসরমান, গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার রক্ষাকারী দেশ হিসেবে বিশ্ব পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গত ১৩ ও ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরকালে এ দেশকে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি 'মডেল দেশ' হিসেবে বারবার উল্লেখ করেছেন। জার্মানির প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফও গত ২৮ থেকে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সফরকালে এ দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি 'স্থিতিশীল শক্তি' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
