প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে বিএনপি-জামাতঃ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী

 

(ঢাকা, ১৬ নভেম্বর, ২০১৩): জনগণের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে বিএনপি-জামাত পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে বলে অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘এর চেয়ে জঘণ্য কোন কাজ হতে পারে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা জনগণের কাছ থেকে তাদের আন্দোলনে কোন সাড়া না পাওয়ায়, প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে পেট্রোল দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী এসব জঘণ্য কাজ করেও খুশি নন, তিনি (খালেদা) জামায়াত-শিবিরকে আরও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার জন্য উষ্কানি দিচ্ছেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত-শিবির এবং হেফাজতের সন্ত্রাসীরা গত ৫-৬ মে হাজার হাজার গাছ কেটেছে এবং শত শত পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে। এত বেশি কোরআন শরীফ পোড়ানোর ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তিনি প্রশ্ন রাখেন ‘একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে কিভাবে পুড়িয়ে মারতে পারে? তাদের কি কোন দয়া-মায়া নেই?’ প্রধানমন্ত্রী আজ রাতে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আহলে সুন্নাত আল জামাতের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে এ কথা বলেন।
ইসলামকে শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বার্থনেষী মহল ইসলামের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের আশ্রয় নিয়ে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সুফি মতবাদের ওপর ভিত্তি করেই ইসলামের প্রচার এবং প্রসার ঘটেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, সুফিবাদ এই অঞ্চলে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ইসলামের কল্যাণে তাঁর সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই পবিত্র ধর্মের কল্যাণে কাজ করে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মাদ্রাসা বোর্ড গঠন করেন এবং টঙ্গিতে বিশ্ব ইজতেমার জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগেরবার ক্ষমতায় এসে তাঁর সরকার মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা চালু করেছিল এবং জেলা ও উপজেলাভিত্তিক সকল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সংস্কার এবং উন্নয়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইমাম এবং মুয়াজ্জিনদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাদের কল্যাণে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।
চট্টগ্রামের জামাতুল ফালাহ মসজিদের খতিব অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন আল কাদেরী, চট্টগ্রাম মাইজভান্ডার দরবার শরীফের পীর সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমেদ আল হাসানী, ইসলামিক ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন, চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ দরবার শরীফের পীর আল্লামা হাফেজ সাইফুর রহমান নিজামী, ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান, বাংলাদেশ গাউছিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ পেয়ার মোহাম্মদ আল্লামা ফরিদ উদ্দিন, মাওলানা আ ন ম মাসুদ হোসেন, চট্টগ্রামের সাইখুল হাদীস মাওলানা মঈনুদ্দিন আশরাফী এবং মাওলানা আবু সুফিয়ান আবেদী আল কাদেরী অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের ও কাজী জাফর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Share this
TOP