Elektronik Sigara কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত
০৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত অবধি মানববন্ধন করবে ১৪ দল
৩০ জানুয়ারী ২০১২, ১৭ মাঘ ১৪১৮

দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ সারাদেশে আরো সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। গণতন্ত্র হত্যার চক্রান্ত এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নস্যাতের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করবে ১৪ দল। এ ছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতেও মহাসমাবেশ করবে ১৪ দল।রবিবার দুপুরে ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে এ কর্মসূচী ঘোষণা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিরোধী দল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে আমরা সতর্ক আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে ১৪ দল বিরোধী দলের সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে সৈয়দ আশরাফ আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ চলছে। অশুভ শক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবেলার উদ্যোগ নিয়েছে ১৪ দল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরাম্বিত করতে এবং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন কর্মসূচী পালনের পাশাপাশি পরবর্তীতে ১৪ দল আরও কর্মসূচী ঘোষণা করবে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। তিনি বলেন, সম্প্রতি সামরিক বাহিনীতে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি উচ্ছৃক্সখল আচরণ করেছিল, বৈঠকে সে বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ঘটনা দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দেয়ার জন্য ১৪ দল সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানায়।

তিনি বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত চলছে। সেনা আইনে দোষীদের বিচারের ঘোষণা দিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর এ ঘোষণাকে ১৪ দল স্বাগত জানিয়েছে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, এ ঘটনায় বেসামরিক কেউ যুক্ত থাকলে প্রচলিত আইনে তাদের বিচার করা হবে। আজ সোমবার আবারও বিএনপির গণমিছিল ও মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশ বিষয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সোমবার সমাবেশ কর্মসূচী ঘোষণা দিয়েছে কি না তা আমরা জানি না। আর শাখা সংগঠনগুলো সব সময়ই যে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মসূচী দেবে এমন নিয়ম নেই।
সার্চ কমিটিতে আওয়ামী লীগের নাম প্রস্তাব প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিকেলে দলের সংসদীয় দলের সভায় ১৪ দল নেতৃবৃন্দসহ সকলে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, ১৪ দল গঠিত হয়েছিল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়তে। এ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৪ দল এখনও কাজ করে যাচ্ছে।

 

গত শনিবার একই দিনে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের কর্মসূচীর প্রসঙ্গটি বৈঠকে আসলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে ওই কর্মসূচী ঘোষণা করেনি। ওটা ছিল ঢাকা মহানগর কমিটির সিদ্ধান্ত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তারা সমাবেশ ডাকতেই পারে। আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় ওই দিন সকল কর্মসূচীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল জলিল, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল মান্নান খান, মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ। শরিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির নূরুর রহমান সেলিম, ন্যাপের এনামুল হক, গণতন্ত্রী মজুদ পার্টির জাকির হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসীত বরণ রায় প্রমুখ।

অনলাইন রেডিও

You are here আর্কাইভ