যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিরোধী দল একাত্ম হয়ে মাঠে নেমেছে, সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
নির্বাচন অধিকতর সহজ, স্বচ্ছ করা এবং দ্রুত সময়ে নির্ভুল ফল ঘোষণায় ইভিএম একটি আধুনিক দৃষ্টান্ত: শেখ হাসিনা
২ ফেব্রুয়ারী ২০১২, ২০ মাঘ ১৪১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রধান বিরোধী দল যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মাঠে নেমেছে। এটি ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি। জনগণকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। জনগণ চাপ প্রয়োগ করলে তারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে থাকতে পারবে না। বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজে যারা বাধা দিচ্ছে, তাদেরও প্রচলিত আইনে বিচার হবে।
সরকারদলীয় সাংসদ বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বিশেষ মহল দেশ-বিদেশে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। দেশের মধ্যে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য সব রকম অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সংসদ নেতা বলেন, চক্রান্তকারীদের হীন পরিকল্পনা মাথায় রেখেই জাতিকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণে যথাসাধ্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এ সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। নির্বাচনী ওয়াদা মোতাবেকই বিচার কাজ চলছে এবং স্বাভাবিক গতিতে তা বেগবান রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চাহিদা মোতাবেক আরও একটি অতিরিক্ত বেঞ্চ গঠনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বাধাদানকারীরাই গত ১৮ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক নৈরাজ্যকর তাণ্ডবলীলা চালায়। সেখানে অগি্নসংযোগ, গাড়ি ভাংচুর, বোমাবাজি ও হতাহতের ঘটনা ঘটায়। অবশ্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় পুরো পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই তাণ্ডবলীলায় যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে।
একই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা বাহিনীকে অধিকতর তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব বাহিনী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
তিনি জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অংশ হিসেবে মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাস দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে। এভাবে দেশ থেকে টাকা পাচার করা অপরাধ। জনগণের টাকা এভাবে পাচার করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কাজ করা হবে_ এটি মেনে নেওয়ার নয়।
রাশেদ খান মেননের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত নেতা ও দিগন্ত টেলিভিশনের পরিচালক মীর কাশেম আলীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সরকারের হাতে এসেছে। সাধনা হালদারের আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কেউ যাতে দেশের অর্জিত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নম্ন করতে না পারে এবং কোনো অবস্থায়ই যেন দেশের শান্তি বিনষ্ট না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় জঙ্গিবাদী, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজের দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। তবে এই সরকার বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল করেছে।
জাতীয় পার্টির সাংসদ একেএম মাইদুল ইসলামের অপর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিপরিষদের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা স্যুটে-বুটে অতটা স্মার্ট না হলেও কাজে খুবই স্মার্ট। কোনো মন্ত্রীই বসে নেই। এক্ষেত্রে সংসদে দেওয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণ পড়লেই পরিস্থিতি বোঝা যাবে। কেননা, রাষ্ট্রপতির ভাষণেই সব মন্ত্রণালয়ের কাজের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, নির্বাচনকে অধিকতর সহজ ও স্বচ্ছ করা এবং তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত সময়ে নির্ভুল ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে ইভিএম একটি আধুনিক দৃষ্টান্ত। দেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডের ১৪টি ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। এর পর নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব কেন্দ্রেই এই পদ্ধতির ব্যবহার হয়েছে। ওই সব নির্বাচনে জনগণ সানন্দে এ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। মুহিবুর রহমান মানিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি রেলপথের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, দেশের রেলপথকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ে একটি আধুনিক গণপরিবহন মাধ্যমে পরিণত হবে।
নাছিমুল আলম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য নারীর ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকার সফলভাবে কাজ করছে। শামসুল হক চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের চলমান ৩১টি পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনাধীন ১০টি পদক্ষেপ সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করেন।
গোলাম দস্তগীর গাজীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষি খাতে উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন এবং জনসাধারণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কৃষিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এ সময় তিনি ২০১৩ সালের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্ব্বয়ংসম্পূর্ণ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ৩১টি প্রকল্প সম্পর্কে সংসদকে অবহিত করেন।
