Elektronik Sigara ছেলেমেয়েদের হাতে বেশি বেশি বই তুলে দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

ছেলেমেয়েদের হাতে বেশি বেশি বই তুলে দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১২ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
২ ফেব্রুয়ারী ২০১২, ২০ মাঘ ১৪১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন ও অমর একুশের চেতনা চিরদিন সমুজ্জ্বল রাখতে নতুন প্রজন্মকে নতুন বইয়ের অবারিত ভান্ডারের সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্যে তাদেরকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকালে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১২ উদ্বোধনকালে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'আপনাদের সন্তানদের হাতে বেশি বেশি বই তুলে দিন এবং সমাজকে আলোকিত করায় অবদান রাখুন।'

শেখ হাসিনা সৃজনশীল লেখনীর মাধ্যমে একুশের চেতনা সমুন্নত রাখতে ও বিপথগামীদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস চালাবার জন্য কবি ও সাহিত্যিকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, একুশ হচ্ছে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও গৌরবের এক উৎসমূল এবং এই চেতনার প্রতিমূর্তি হচ্ছে- অমর একুশে গ্রন্থমেলা। তিনি বলেন, একুশে গ্রন্থমেলা বাঙালির সাংস্কৃতিক উজ্জীবনের উজ্জ্বল স্মারক ও দেশের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব এবং যা বাঙালির আত্ম উপলব্ধি, আত্ম আবিষ্কার ও আত্ম প্রকাশের উৎসস্থল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে যে জাগরণের সৃষ্টি হয়েছিল তা বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব সমাজ শ্রদ্ধার সংগে ভাষা আন্দোলনে আমাদের ত্যাগকে এখন স্মরণ করে এবং বাঙালির এ আত্মোৎসর্গ অন্যদেরকে তাদের মাতৃভাষা সংরক্ষণে প্রেরণা জোগানোর পাশাপাশি বিশ্বের বহু বিপন্ন ভাষাকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করছে।
তিনি মাতৃভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন জাতি- গোষ্ঠীর মাতৃভাষা গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মানসম্পন্ন বই প্রকাশের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, গ্রন্থমেলা উপলক্ষে প্রতিবছর বহু বই বের হয়। কিন্তু সংখ্যার চেয়ে মানের দিকে আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি লেখকদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে তাদের অধিকার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং লেখক ও প্রকাশকদের কপিরাইট সংরক্ষণে আরো বেশি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
পেছনের ইতিহাসের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। ওই আন্দোলন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বারংবার কারাবরণ করতে হয়েছে।
তিনি ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে প্রথমবারের মত দাবি উত্থাপন করেন এই মহান ভাষা সৈনিক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী প্রথম জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করে। এটাই হচ্ছে দেশের বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও উপনাস্যিক এবং বিভিন্ন নাট্যদলের প্রথম বিশাল সমাবেশ।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এ মহাসম্মেলনে বাঙালি জাতিসত্তা ও বাঙালি সংস্কৃতির নীতি আদর্শ তুলে ধরেন। বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর সেই পথই অনুসরণ করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বাংলা একাডেমীর গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ভাষা আন্দোলন নিয়ে একটি জাদুঘর এবং বিশিষ্ট লেখকদের নিয়ে আরেকটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
বাংলা একাডেমীর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইমেরিটাস আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বৃটিশ কবি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষক এবং লন্ডন স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ল্যাংগুয়েজ এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজের সাবেক অধ্যাপক উইলিয়াম রাডিচি। অন্যান্যের মধ্যে তথ্য এবং সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

 

অনলাইন রেডিও

You are here আর্কাইভ