এই বিজয়ের মাসে সমুদ্র সীমানার মামলা জিতেছি, ক্রিকেটেও জয় পেয়েছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
১৮ মার্চ ২০১২, ৪ চৈত্র ১৪১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। কারণ শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যত্। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব। ২৪ বছর ধরে আমরা সংগ্রাম করেছি। ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। এসব ইতিহাস শিশুরা না জানলে, এই চেতনা লালন না করলে তারা একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসাবে দেশ গড়ায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারবে না। আমরা চাই, আমাদের শিশুরা শিক্ষা, সংস্কৃতি, মেধা ও যোগ্যতায় বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক, মানুষের মতো মানুষ হোক।
বঙ্গবন্ধুর মতো দেশের কল্যাণে তারা আত্মনিয়োগ করুক। প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১২ উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স এবং পাবলিক প্লাজায় অনুষ্ঠিত শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২০ সালের এই দিনে টুঙ্গিপাড়ার মাটিতে এমন এক মহাপুরুষের জন্ম হয়েছিল, যিনি আজীবন সংগ্রাম করে আমাদের একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ উপহার দিয়ে গেছেন। টুঙ্গিপাড়ায় এ দিনটিকে আমরা শিশু দিবস হিসেবে পালন করে আসছি। কারণ এ মাটিতে জাতির জনক জন্মেছেন এবং এ মাটিতে তিনি শায়িত আছেন। এছাড়া মার্চ মাস বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের মাস। '৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'- ঐতিহাসিক এই ভাষণ গোটা বাঙালি জাতিকে উদ্দীপ্ত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল। সেদিন তারা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। এ মাসেই আমরা মিয়ানমারের সাথে সমুদ্র সীমানা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় পেয়েছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সাথে আমাদের দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। আবার এ মাসেই ক্রিকেটে ভারতের মতো শক্তিশালী একটি টিমকে হারিয়ে আমরা জয়ী হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা শিশুদের ভালোবাসতেন। তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল ভবিষ্যত্ বংশধর এসব শিশুর পক্ষে, যারা দেশের কর্ণধার হবে। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে শিশুদের জন্য আইন করেন। ১৯৮৯ সালে তা জাতিসংঘ অনুমোদন করেছে। জাতির জনকের দূরদর্শিতা ও শিশুদের জন্য ভালোবাসা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। যার পথ ধরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ প্রথম শিশুদের জন্য জাতীয় নীতিমালা করে।
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের প্রতি উপদেশ দিয়ে বলেন, তোমরা পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের সম্মান করবে। কখনও তাদের অবাধ্য হবে না। প্রকৃত মানুষ হতে হলে এখন থেকেই তোমাদের নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি শিশুদের তিনি সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। শিশুদের খেলাধুলার জন্য প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ ও স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসাথে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার কথা বলেন।
বীণাপাণি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শ্রেয়সী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন সারমিন চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিশু সৌরব পাল শুভ। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় কর্তৃক শিশুদের জন্য প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও সঙ্গীত, নৃত্য, উপস্থিত বক্তৃতা, গল্প বলা ও হস্তলেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের ক্রেস্ট প্রদান করেন। পরে তিনি দর্শক সারিতে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এরপর তিনি জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত ৩ দিনের গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা সড়ে ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় বঙ্গবন্ধু তনয়া ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, কাজী আকরাম উদ্দিন আহম্মেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী লেঃ কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, হাবিবুর রহমান সিরাজ, নাজমুল হাসান পাপন এমপি, নাঈম রাজ্জাক এমপি, মোজাম্মেল হক এমপি, ফরিদুন্নাহার লাইলি এমপি, অধ্যাপিকা অপু উকিল এমপি, এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার, জেলা পরিষদের প্রশাসক কাজী আব্দুর রশীদ, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজা মিয়া বাটু, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী এমদাদুল হক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ লুত্ফর রহমান বাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বেলা সাড়ে ১১টায় ও প্রধানমন্ত্রী বিকাল সাড়ে ৩টায় টুঙ্গিপাড়া থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা রওনা হন। এদিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধামন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে টুঙ্গিপাড়ায় হেলিপ্যাড থেকে মাজার কমপ্লেক্স পর্যন্ত তোরণ নির্মাণ ও রাস্তার দুই পার্শ্বে রঙ্গিন পতাকা দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। মাজার কমপ্লেক্স এলাকায় গড়ে তোলা হয় ৪ স্তরবিশিষ্ট নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনি ।
