Elektronik Sigara আইএসআই প্রধানই বলেছেন বিএনপি টাকা নিয়েছে

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

আইএসআই প্রধানই বলেছেন বিএনপি টাকা নিয়েছে
আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সোমবার | ১৯ মার্চ ২০১২ | ৫ চৈত্র ১৪১৮
99PM44014প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হলে মিয়ানমারের মতো ভারতের সঙ্গেও সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলায় দেশের পক্ষে জয় নিয়ে আসবে। জাতিকে আরেকটি সুখবর এনে দেবে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছ থেকে বিএনপির টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ওই দেশের আদালতে আইএসআইয়ের সাবেক প্রধানের হলফনামাতেই এর প্রমাণ মিলেছে। রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে চাইছেন। এর আগে তিনি ও তার স্বামী জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতে চেয়েও পারেননি। এবারও তিনি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না। বাংলার মাটিতে অবশ্যই এদের বিচার হবে।

মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার সমুদ্রসীমা নিয়ে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এ মামলা করে। এ কারণেই বাংলাদেশ জয় পেয়েছে। ভারতের সঙ্গে করা মামলার রায় ২০১৪ সালে হেগে দেওয়া হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারলে ওই মামলায়ও দেশের পক্ষে জয় নিশ্চিত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১১ সালের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে দেশের দাবি পেশ করার কথা ছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত পাঁচ বছরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এ নিয়ে কোনো কাজই করেনি। ওই সরকারের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরাও কোনো কথা বলেননি!

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির এটাই সাফল্য, প্রতিবেশী দুটি বড় দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ও কোনো বিরোধে না জড়িয়ে সমুদ্রসীমা নিয়ে মামলা করা হয়েছে। একটি মামলার রায়ে বাংলাদেশ জয়ীও হয়েছে। এটা নিয়ে এতটা গোপনীয়তাও রক্ষা করা হয়েছিল, কোনো পত্রিকায় খবরও আসতে পারেনি। সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলার রায়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ যার যার প্রাপ্য অনুযায়ী অধিকার পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যাদের আমরা পরাজিত করেছি, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগকে হারাতে বিরোধীদলীয় নেতা তাদের কাছ থেকেই টাকা নিয়েছিলেন। আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান হলফনামা দিয়ে এটা স্বীকারও করেছেন। আদালতের হলফনামায় কেউ মিথ্যা বলতে পারেন না। ২০০১ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের পরাজিত হওয়ার কথা নয়। চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে সেদিন আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছে_ সে তথ্যও একদিন নিশ্চয় বেরিয়ে আসবে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র ও পাকিস্তান থেকে টাকা নেওয়ার তথ্যও ফাঁস হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, কথায় বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। কিছুদিন আগে একটি পত্রিকায় ভাড়াটে লোককে দিয়ে কয়েকটি আর্টিকেল লিখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। সেদিন এ মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল বলেই আল্লাহর ইচ্ছায় আইএসআইয়ের কাছ থেকে বিএনপির টাকা নেওয়ার কথা ফাঁস হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, যারা এদেশে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, এ দেশের মানুষের রক্ত নিয়েছে, মা-বোনকে নির্যাতন করেছে_ মুক্তিযুদ্ধের সেই পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের দালালি করা আর তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার মতো জঘন্য কাজ আর লজ্জার কী আছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী এটা করতেই পারেন। কেননা তার জন্ম এদেশে নয়, ভারতে। তার স্বামী জিয়াউর রহমানেরও জন্ম ভারতে। লেখাপড়া করাচিতে আর সেখানেই কমিশন পেয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি নিয়েছেন। তাদের বাবা-মায়ের কবর কোথায়? নানা-নানির নাম কী? এদেশের মাটির প্রতি তাদের দরদ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। পরাজিত শক্তির টাকা খেয়ে দালালি করলে দেশের প্রতি ভালোবাসাও থাকে না।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ঘটনাচক্রে মুক্তিযোদ্ধা হলেও তিনি (খালেদা জিয়া) তো মুক্তিযুদ্ধেই যাননি। এমনকি পাকিস্তানি সেনাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় স্বামীর চিঠি পাওয়ার পরও তিনি সেনানিবাস ছেড়ে যাননি। এখন এত বছর পর আইএসআইয়ের টাকা খাওয়ার ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেছে, কেন সেদিন তিনি সেনানিবাস ছেড়ে যাননি? এতদিন কেবল দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রই করে গেছেন। মানুষের কোনো কল্যাণও যে চাননি, সেটাও এতদিন পর প্রমাণ হয়েছে।

বিগত জোট সরকারের পাঁচ বছরের দুঃশাসনের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দিকে তাকানোরও সময় তাদের ছিল না। শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি, লুটপাট, ঘুষ, মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাস-হত্যা-নির্যাতন-ধর্ষণ_ এগুলোই তারা করেছে। তিনি (খালেদা জিয়া) নিজেই এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত কালো টাকা সাদা করেছেন।

বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাঙালির আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছে, সংবিধান ক্ষত-বিক্ষত ও গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছে। তবে সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না বলেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবারও প্রকৃত ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করেছে। একমাত্র আওয়ামী লীগই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের আদর্শে দেশ ও জনগণের কল্যাণে এগিয়ে আসতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, জনগণের কল্যাণে জাতির পিতা যেভাবে আত্মত্যাগ ও সাদাসিধে জীবন-যাপন করেছেন, নেতাকর্মীদেরও সেভাবেই তার আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মানুষের দু'বেলা দু'মুঠো খাবার নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু যেভাবে কাজ করে গেছেন, আমাদেরও সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এবং ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। স্বরচিত ছড়া পাঠ করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। পরিচালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক নূহ-উল-আলম লেনিন ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

 

অনলাইন রেডিও

You are here Home