তিস্তা চুক্তির কাজ শেষ করা ও টিপাইমুখ বাঁধ সংক্রান্ত জরিপ দলে বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে ভারতের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান
প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ এবং ভারতীয় পার্লামেন্টে স্থল সীমানা চুক্তি অনুমোদনে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান
সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১২, ৫ চৈত্র ১৪১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা চুক্তির কাজ শেষ করা এবং টিপাইমুখ বাঁধ সংক্রান্ত জরিপ দলে বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দু'দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের বিভিন্ন পদক্ষেপে যথাযথ সাড়া দেওয়ার জন্যও তিনি ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিকদের একথা জানান। প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ এবং ভারতীয় পার্লামেন্টে স্থল সীমানা চুক্তি অনুমোদনে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর বাঁধ নির্মাণ বন্ধে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আসুন আমার সরকারের আগামী দু'বছরে আমরা সব কাজ সম্পাদন করি।' বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশ এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও সে দেশের জনগণের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, এ দেশের জনগণ কখনোই তা ভুলবে না। আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে ভারতের অনেক অনুরোধ মেনে নিতে রাজি হয়েছে। ভারতের অনুরোধে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন, আশুগঞ্জ থেকে ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতের ওভার ডাইমেনশনাল কার্গো পরিবহন, আশুগঞ্জে 'পোর্ট অব কল' প্রতিষ্ঠা এবং সীমান্ত হাট ও স্থল শুল্ককেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি প্রগতিশীল, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিলি্ল ও আগরতলা সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে ওইসব সফর অনেক বড় অবদান রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মোঃ ওয়াহিদ উজ জামান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

