Elektronik Sigara বাংলাদেশের ক্ষতি হলে টিপাইমুখ বাঁধ করতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশের ক্ষতি হলে টিপাইমুখ বাঁধ করতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
রোববার | ২৫ মার্চ ২০১২ | ১১ চৈত্র ১৪১৮
NEW1--1প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হলে ভারতকে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। আমরা ভারতকে বলে দিয়েছি, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের আগে যৌথ জরিপ করতে হবে। একতরফাভাবে টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না। বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হলে কোনোভাবেই এ বাঁধ নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা মামলায় আমরা জয়ী হয়েছি। আগামীতে নির্বাচিত হলে আমরা ভারতের কাছ থেকে সমুদ্রসীমার ন্যায্য হিস্যা আদায় করব। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকার অপদখলীয় জায়গা চিহ্নিত করে ভারতের সঙ্গে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১৪ দল আয়োজিত বিশাল জনসভায় একথা বলেন।তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা '৭১-এ মা-বোনদের ইজ্জত লুটেছে, গণহত্যা করেছে তাদের বিচার এ বাংলার মাটিতেই হবে। তিনি বলেন, বিএনপি আইএসআইর টাকা খেয়ে নির্বাচন করেছে। পাকিস্তানের পত্রিকায়ও এ সংবাদ ছাপা হয়েছে। যারা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত হরণকারী ও গণহত্যাকারী পরাজিত শক্তির কাছ থেকে টাকা খায়, এদেশের মানুষের কাছে তাদের ভোট চাওয়ার অধিকার নেই।

দীর্ঘ ছয় বছর পর সিলেট নগরীতে কোনো জনসভায় বক্তৃতা করলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল ৩টায় জনসভা শুরু হলেও ৪টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন এবং ৫টা ১০ থেকে ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর আগে মহাজোটের শরিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। বিপুলসংখ্যক লোকসমাগমে জনসভা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

গত বছরের শেষদিকে রোডমার্চ করে একই মাঠে বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বর্তমান সরকারের নেওয়া সব পদক্ষেপ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এতেই প্রমাণ হয়, তিনি ক্ষমতায় গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষার উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেওয়া পদক্ষেপ বন্ধ করে দেবেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দেবেন।

সরকার গঠনের তিন বছরেরও বেশি সময় পর সিলেটে এসে বিগত নির্বাচনে সিলেটের সব আসন মহাজোটকে উপহার দেওয়ায় সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, '৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে যত কাজ করেছি, অন্য কোনো সরকার তা করেনি। আজ সিলেটবাসীর জন্য উন্নয়ন উপহার নিয়ে এসেছি। দেশের সর্ববৃহৎ শাহজালাল সার কারখানা, নগর ভবন ও পাসপোর্ট অফিসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। এ ছাড়া ৯০ ও ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ড ভবন উদ্বোধন করেছি। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে সিলেটবাসীর জন্য আরও উন্নয়ন উপহার নিয়ে আসব।

৩০ মিনিটের বক্তৃতায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই জনগণকে উন্নয়ন উপহার দেয়। গত তিন বছরে আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। সাড়ে ৪ লাখ লোককে সরকারি চাকরি দিয়েছি ও ৬৮ লাখ বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য বিনা জামানতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা করে ঋণ দিচ্ছি। প্রবাসীদের কল্যাণে এরই মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সিলেটের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে কিছু দাবি করতে হবে না। আমি সব জানি। সিলেটের উন্নয়নে এরই মধ্যে অনেক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে রিফুয়েলিং সিস্টেম চালুর কাজ শুরু হয়েছে। রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থা হলেই সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট আবার চালু হবে। এরই মধ্যে সিলেট-ঢাকা, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। সুরমা নদীর ওপর কাজীর বাজার সেতুর কাজও শিগগির শুরু হবে।

আগামীতে নির্বাচিত হলে সিলেটের উন্নয়নে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ওসমানী মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হবে। সিলেটে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে প্রবাসী বাঙালিরা বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। চা শ্রমিকদের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা শ্রমিকদের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার তাদের বাসস্থান, যোগাযোগ ও শিক্ষার উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিগত চারদলীয় জোটের শাসনামলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত পাঁচ বছরে শুধু বোমা, গ্রেনেড, সন্ত্রাস, খুন ছাড়া দেশবাসীকে আর কিছু দেয়নি। তাদের পাঁচ বছরে ছিল হত্যা ও লুটপাটের রাজনীতি। ওই সময় সিলেট বিভাগে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ অনেক নেতাকে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে। অনেক নেতাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তারা দেশের মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ করেছি। দেশের মানুষকে শান্তি দিয়েছি।

জোট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা রাস্তার পাশে শুধু খাম্বা বসিয়েছে, কিন্তু বিদ্যুৎ দেয়নি। খালেদা জিয়ার ছেলেদের খাম্বার ব্যবসা থাকায় জনগণ বিদ্যুৎহীন এ খাম্বা উপহার পেয়েছে। খালেদা জিয়া জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে তাদের মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি ধরা পড়েছে। একটি দলের জন্য এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন দেশের জন্য সুনাম ও পুরস্কার নিয়ে আসে। আর বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নাম ও তিরস্কার বয়ে আনে।

দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমরা মোটা চাল ১০ টাকা রেখে গিয়েছিলাম। বিএনপি-জামায়াতের পাঁচ বছরে তা ৩৫-৪০ টাকা হয়েছে। আমরা আবার ক্ষমতায় এসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করেছি। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সঙ্গতি রাখতে বেতন-ভাতা ও মানুষের আয় বৃদ্ধি করেছি। ফলে জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। আমরা অর্থনীতিকে সচল ও রিজার্ভ বৃদ্ধি করে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছি। চারদলীয় জোটের সময় সারের জন্য কৃষকদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে কৃষকদের কৃষি সহায়তা হিসেবে সার ও বীজ দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলাম। এর অংশ হিসেবে সারাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। দেশে কম্পিউটার তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার উন্নয়নেও ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দিচ্ছি আমরা। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চারদলীয় জোট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ করা ছাড়া নতুন একটি কেন্দ্রও চালু করতে পারেনি। আমরা ৫১টি বিদ্যুৎ উপৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করছি। কুশিয়ারাসহ দেশের বড় নদীগুলোর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। এর আগেই দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করে বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে কাজ করছি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন; কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। খালেদা জিয়াও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ূয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদউদ্দিন আহমদের যৌথ পরিচালনায় আরও বক্তৃতা করেন ন্যাপের কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহিদুল্লাহ শিকদার, সৈয়দা জেবুন্নেছা হক এমপি, আবদুল মান্নান এমপি, ডা. মোস্তফা জামাল মহিউদ্দিন এমপি, এনামুল হক শামীম, ওয়ার্কার্স পার্টির সিকন্দর আলী, জাসদের কলন্দর আলী, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুশফিক আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ চৌধুরী প্রমুখ। জনসভা মঞ্চে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদসহ সিলেট বিভাগের সব সাংসদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে হেলিকপ্টারযোগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানা মাঠে পেঁৗছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ শাহজালাল সার কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ৯০ মেগাওয়াট সিসিপিপি পাওয়ার প্লান্টের দ্বিতীয় ইউনিট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
উদ্বোধনের পর সেখানে সুধী সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন তিনি।
ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চলে আসেন সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে। এখানে সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী পুণ্যভূমি সিলেটের ওলিকুল শিরোমণি হজরত শাহজালাল (রহঃ) এবং হজরত শাহ পরান (রহঃ)-এর মাজার জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেন। মাজার জিয়ারত করে দুপুর সোয়া ১টায় প্রধানমন্ত্রী সিলেট নগর ভবন প্রাঙ্গণে পেঁৗছে একসঙ্গে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এগুলো হলো_ সিলেট সিটি করপোরেশনের ১২ তলাবিশিষ্ট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নতুন ভবন উদ্বোধন এবং সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট সার্কিট হাউসে এ অঞ্চলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১৪ দল আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় হেলিকপ্টারযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফিরে যান।

আবুল মাল আবদুল মুহিত : জনসভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। যানজটকে সিলেট নগরীর প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাক টার্মিনাল, বাইপাস সড়ক ও কাজীর বাজার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত : সিলেটের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, গত নির্বাচনে আমরা সিলেটের সব আসন আপনাকে দিয়েছি। আমরা আপনাকে ১৬ আনা দিয়েছি, এখন পাওয়ার সময়। আমরা ১৬ আনা চাই।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালে বিরোধী দলের দাবি বাতিল করে বলেন, আদালত বলেছেন_ অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক। অসাংবিধানিক সরকার দেশ পরিচালনা করতে পারে না। আগামী সংসদ নির্বাচন হবে দেশের সংবিধান অনুযায়ী।
নুরুল ইসলাম নাহিদ : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা সিলেটের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবে ইনশাল্লাহ। কেউ তা রুখতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ তার বক্তব্যে যুদ্ধাপরাধী ও দুর্নীতিবাজদের বিচার করার জন্য আবারও শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, কিছুদিন আগে বিরোধীদলীয় নেতা ঢাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ এনে, কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে সমাবেশ করেছিলেন। অথচ আজ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবেসে এখানে এসেছে।

সিলেট আওয়ামী লীগের কৃতজ্ঞতা
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করায় দলীয় ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং ১৪ দলের নেতারা।
গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় অত্যন্ত সফলভাবে সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে।

অনলাইন রেডিও

You are here চলতি খবর বাংলাদেশের ক্ষতি হলে টিপাইমুখ বাঁধ করতে দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা