জামায়াত নিষিদ্ধ হলেও দেশে গণতন্ত্র থাকবে: সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
বুধবার ২৮ মার্চ ২০১২, ১৪ চৈত্র ১৪১৮
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতারা নিষিদ্ধ। সেসব দেশে গণতন্ত্রও রয়েছে। কাজেই স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমরা নিষিদ্ধ হলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকবে না_ এ ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দলীয় আলোচনা সভায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ইতালি ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে হিটলারের নাৎসি পার্টির রাজনীতির অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ইতালিতে আজ পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ। জার্মানিতে নাৎসি এবং ইতালিতে ফ্যাসিস্ট দল নেতাদের ছবি নিয়ে মিছিল করলেই গ্রেফতার করা হয়। সেসব দেশে স্বাধীনতাবিরোধী দল ও নেতারা নিষিদ্ধ থাকলেও গণতন্ত্র নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি।সৈয়দ আশরাফ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম ও মুসিলম লীগসহ স্বাধীনতাবিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এদের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনেন। এ পরাজিত শক্তির রাজনীতিতে ফিরে আসা জাতির জন্য অভিশাপ ও কলঙ্কজনক। তিনি বলেন, কথায় বলে শয়তানের পা থাকে উল্টো দিকে। একাত্তরের পর আমরা ভেবেছিলাম শয়তান বোধহয় শেষ। কিন্তু পঁচাত্তরের পর দেখলাম 'উল্টো পায়ের শয়তান' এ দেশে এখনও আছে। তিনি বলেন, আজ ব্লগগুলো দেখলেই বোঝা যাবে পরাজিত শক্তি কীভাবে দেশ-বিদেশে সংগঠিত হচ্ছে। কীভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা বলেন এখনই এ বিচার করতে হবে_ তারা কিন্তু বিচার চান না। তারা বলছেন, 'জাস্টিস ডিলেইড জাস্টিস ডিনাইড'। কিন্তু ইংরেজিতে আরেকটি কথাও রয়েছে, 'জাস্টিস হারিড, জাস্টিস ব্যারিড'। আর গত ৪০ বছরে জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা ক্ষমতায় থাকলেও বিচার করেননি। অথচ আমাদের বলা হচ্ছে, 'উই আর ডিনাইড দ্য জাস্টিস'। এতদিন এরা ছিলেন কোথায়?
