আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, উন্নয়নের জন্য: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে পারবেন না-চট্টগ্রামে ১৪ দলের মহাসমাবেশে শেখ হাসিনা
বৃহস্পতিবার | ২৯ মার্চ ২০১২ | ১৫ চৈত্র ১৪১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধীদের বাঁচাতে খালেদা জিয়া সরকারকে ল্যাংড়া-লুলা করতে চান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ায় তার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় তিনি আন্দোলন করছেন, সরকার ফেলে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। অনেক চেষ্টা করেও তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতে পারেননি, যুদ্ধাপরাধীদেরও বাঁচাতে পারবেন না। বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায়, বাংলার মাটিতে তাদেরও ঠাঁই নেই, ঠাঁই হবে না। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড ময়দানে স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার কাজই হচ্ছে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, খুনি-সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের লালন-পালন করা। কিন্তু আমরা আর কাউকে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। খালেদা জিয়া দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের কল্যাণে বিশ্বাস করেন না, শুধু সাজুগুজু করে কীভাবে জনগণের অর্থ-সম্পদ লুট করা যায় সে কাজেই ব্যস্ত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসে দেশের অর্থ-সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করতে, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে। কিন্তু যতোই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করা হোক না কেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত-সমৃদ্ধ, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তির দেশ হিসাবে পরিণত করবোই।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত এবং তাদের বাঁচাতে ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে বুধবার বিকালে ১৪ দল এই বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে।
বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামান্য ক্ষমতার লোভে বিএনপি নেত্রী ২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। আমাকেও সে সময় গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য ৫০ বছরের গ্যাস রিজার্ভ রাখার পর যদি উদ্বৃত্ত থাকে, তবেই তা বিক্রি করা যেতে পারে। আমি গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি। কিন্তু খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সম্পদ ভারতের কাছে বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। আমি ওই সময় বলেছিলাম ক্ষমতায় গেলেও গ্যাস বিক্রি করতে পারবেন না। মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় আসলেও খালেদা জিয়া ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে পারেননি। কারণ জনগণের শক্তিই হচ্ছে বড় শক্তি।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তিন বছর আর মহাজোট সরকারের তিন বছরের শাসনামলের সঙ্গে তুলনামূলক বিচার করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসে। আর বিএনপি-জামায়াত জোটের পাঁচ বছর যেন ছিল মানুষের জন্য অভিশাপ। ঘরে ঘরে মানুষের হাহাকার আর কান্না ছিল নিত্যদিনের ব্যাপার।
তিনি বলেন, ওই পাঁচ বছরে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে কেউ রেহাই পায়নি। একাত্তরের পাক হানাদার বাহিনীর মতোই হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি, সীমাহীন দুর্নীতি, দেশের অর্থ বিদেশে পাচার আর মানুষ হত্যা করে গুম করাই ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কাজ। যে দলের নেত্রী (খালেদা জিয়া) নিজ দলের নেতা জামালউদ্দিনকে হত্যা করে লাশ গুম করে দেয়, সেই নেত্রীর কাছ থেকে দেশবাসী কী আশা করতে পারে?
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়া হবে—খালেদা জিয়ার এমন ঘোষণার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে আইনি লড়াই চালিয়ে আরেকটি বাংলাদেশের সমান ভূখণ্ড আদায় করেছি। খালেদা জিয়া কী ক্ষমতায় এসে এই ভুখণ্ডটি আবার মিয়ানমারের হাতে তুলে দেবেন? মাত্র তিন বছরেই আমরা প্রায় ৩ হাজার তিনশ' মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছি, ৫২টি নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করেছি। খালেদা জিয়া কী তাও বন্ধ করে দিয়ে দেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করবেন? তিন বছরে প্রায় ৬৮ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান ও প্রায় সাড়ে চার লাখ বেকারকে সরকারি চাকরি দিয়েছি। তিনি (খালেদা) কী তাদের চাকরি কেড়ে নেবেন?
বিরোধী দলীয় নেত্রীর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা হয়ে ছেলেকে তিনি চুরি করতে শিখিয়েছেন। তাঁর দুই পুত্রের অর্থ পাচার ও দুর্নীতি ধরা পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও কানাডাতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে কীভাবে তার পুত্ররা দুর্নীতি করে বিদেশে পাচার করেছে। এটা দেশের জন্য কতবড় লজ্জার। আজ বিরোধী দলের নেতার কথা শুনলে মনে হয়—'চোরের মায়ের বড় গলা'।
মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরে আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রামের যত উন্নয়ন করেছে, অতীতে কোন সরকার তা করতে পারেনি। চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকীকরণ, কর্ণফুলী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, আদালত ভবন নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ সবই আওয়ামী লীগ করছে। অচিরেই বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ডবল রেললাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও আমরা কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে ট্যানেল নির্মাণ, চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করার কাজে হাত দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীকে বীরোচিত সংবর্ধনা
সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে এসে পৌঁছুলে তাঁকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেন চৌদ্দ দলের নেতারা। বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত দুটি বিশালাকার হাতি সুর উঁচিয়ে এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী তীব্র শ্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বীর চট্টলায়।
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে নেমেই প্রথমে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর এলাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশাল ফ্লাইওভারের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন করার পর মন্ত্রী ও নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফ্লাইওভার দিয়ে গাড়ি নিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরেন। এরপর তিনি ওই এলাকার সল্টগোলা ক্রসিংয়ে নারী শ্রমিকদের আবাসনের লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার শয্যা বিশিষ্ট ডর্মিটরি কাম বাণিজ্যিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ফটিকছড়িতে হালদা নদীর ওপর প্রায় ৫৫ মিটার রাবার ড্যামের উদ্বোধন, পাঁচলাইশের মুরাদপুরে ১০ তলা বিশিষ্ট এলজিইডি ভবনের উদ্বোধন, চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন এবং পলোগ্রাউন্ডের পাশেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নির্মিতব্য হাটহাজারীর জুলদা, দোহাজারী-কালিয়াইশ এবং সাংগুতে একশ' মেগাওয়াট করে তিনশ' মেগাওয়াট উত্পাদন সম্পন্ন তিনটি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এসব সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে তিনি স্বাগত জানালে শেখ হাসিনা তাঁর কুশলাদী জানতে চান। সেখানে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রী মেয়র মনজুর আলমকে লক্ষ্য করে হাসির ছলে বলেন, 'কেমন লাগছে ওই দলে গিয়ে? আমার আশেপাশে ঘুরলে কী হবে, আপনাকে আর দলে নেব না।' এ সময় সিটি মেয়র প্রধানমন্ত্রীর দোয়া কামনা করেন।
চৈত্রের তাপদাহ ও প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করে মিছিলের স্রোত ছুটে চলেছে পলোগ্রাউন্ড ময়দানের মহাসমাবেশের স্থলে। মিছিলের শ্লোগানে পুরো চট্টগ্রাম মহানগরীতে স্বাধীনতার মাসে আবার জয় বাংলার ধ্বনিতে মানুষের মধ্যে প্রাণস্পন্দনের সৃষ্টি হয়েছে। সকালের সূর্যোদয়ের পর থেকে নগরীতে ছোট-বড় মিছিলের শোভাযাত্রা লক্ষ্য করা যায়। দিনের সময় যতই বাড়তে থাকে মুখরিত মিছিলের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। চট্টগ্রামসহ পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহ থেকে আসা লোকজন নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পরে সংগঠিতভাবে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে পলোগ্রাউন্ড অভিমুখে যাত্রা করে।
বিভিন্ন জেলার দূরবর্তী স্থান থেকে আসা লোকজনের অনেকই গত মঙ্গলবার রাতেই চট্টগ্রামে পৌঁছান। তারা বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার, রেস্ট হাউস, স্কুলঘর, আবাসিক হোটেলসহ বাসা-বাড়িতে উঠেন। চট্টগ্রাম মহানগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন অবশ্য গতকাল বুধবারই মহাসমাবেশে বাস, ট্রাক, মিনিবাস, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনে আসেন। দুপুরের পূর্বেই নগরীতে সাধারণ ও প্রাইভেট যানবাহন চলাচল কমে যায়। ফলে নগরীতে তেমন একটা যানজট দেখা যায়নি। মোটামুটি মহাসমাবেশের জন্য চট্টগ্রামবাসী উন্মুখ হয়েছিলো। তাই প্রায় যানবাহন শূন্য পুরো নগরীতে শুধু মিছিল আর মিছিল। দেখা যায়, রং-বেরং এর ব্যানার, ফেস্টুন ও নেতৃবৃন্দের ছবি সম্বলিত গেঞ্জি, টি-শার্ট, ক্যাপ ও টুপি পরিহিত অসংখ্য মিছিল দেখা যায়। অনেকে বাদ্যযন্ত্র সমেত মিছিল নিয়ে নেচে-গেয়ে ১৪ দলের মহাসমাবেশস্থল অভিমুখে যায়।
গত পক্ষকাল থেকে নগরীর প্রধান সড়কসহ অলি-গলিতে পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে যায়। অপরিচিত কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ছবি সম্বলিত ব্যানার-পোস্টারে পুরো নগরী ছেয়ে যায়। নগরীর বিভিন্ন বিলবোর্ড, ইউনিপোল, হোডিং বোর্ডসহ বিজ্ঞাপন প্রচার বোর্ডসমূহ মহাসমাবেশের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে যায়। এমনকি পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশস্থলের চারপাশে এলাকায়ও টাঙানো হয় বিশাল আকারের ডিজিটাল ব্যানার ও ফেস্টুন। বেলা সোয়া ২টার সময় মহাসমাবেশ শুরুর পূর্বেই পলোগ্রাউন্ড ময়দানসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় লোকজনে ছেয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদের কারণে অনেকেই আবার মাঠ থেকে ফিরে রেলওয়ের উঁচু-নিচু টাইগারপাসসহ তত্সংলগ্ন এলাকার গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেয়। নগরীর পূর্ব দিকে স্টেশন রোড এলাকা, কদমতলী মোড়, দক্ষিণে শেখ মুজিব রোড ও দেওয়ানহাট, পশ্চিমে টাইগারপাস, উত্তরে ইস্পাহানী মোড় পর্যন্ত লোকজন অবস্থান করে নিরবচ্ছিন্নভাবে মহাসমাবেশে নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা শুনেছেন। পার্শ্ববর্তী পাহাড় টিলায় ও গাছের ডালে এবং বিভিন্ন ভবনের ছাদেও লোকজনের উপস্থিতি লক্ষণীয় ছিলো।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া নিজেই হাঁটতে পারেন না। অথচ তিনি বলেছেন, আমাদের ল্যাংড়া-লুলা করবেন। তিনি মনের জ্বালা মিটানোর জন্য তা বলেছেন। তিনি আলবদর-রাজাকার নিয়ে সংগঠন করেছেন। আমরা জানতে চাই এদেশে তারা টিকে থাকবেন না আমরা মুক্তিযোদ্ধারা টিকে থাকবো। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জনগণ এখানে এসেছে। বঙ্গবন্ধু মার্চ মাসে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার স্বামী তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আসেননি। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহবান জানান।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আমীর হোসেন আমু বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের সময় তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন ছিলো। তাই আমরা আন্দোলন করেছি। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগের সময় সংসদের উপনির্বাচন, ইউপি নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচনসহ সকল নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। এমনকি মওদুদ আহমদ নিজ এলাকার বাইরে উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এখন বিএনপির দাবি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধুমাত্র দেশকে পাকিস্তানের মতো অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য আন্দোলন করা হচ্ছে। তাদের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যা করার চেষ্টা চালানো হয়েছিলো।
তোফায়েল আহমদ বলেন, বঙ্গবন্ধু '৭১ সালে বাংলাদেশ জয় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার সমুদ্র জয়ের মাধ্যমে আরো একটি দেশ জয় করেছেন। আমরা স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলেছিলাম। এখন আবার বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তান থেকে কোটি কোটি টাকা এনে ধরা খেয়েছেন। তার চিন্তা এখন তিনি পোলাদের বাঁচাবেন না জামায়াতকে বাঁচাবেন। খালেদা জিয়া দেশে জঙ্গীবাদ ও সামপ্রদায়িকতা সৃষ্টি করেছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি আরো দুই টার্ম মহাজোট সরকারকে নির্বাচিত করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান। তিনি চট্টগ্রাম-ঢাকা রেল যোগাযোগ, চট্টগ্রাম রেল স্টেশন, পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ, চট্টগ্রাম-হাটহাজারী রেললাইন এবং চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী হয়ে রামু এবং মায়ানমার থেকে চীন পর্যন্ত রেল সড়কের সমপ্রসারণের কথা বলেন।
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে দায়িত্ব নিয়েছিলেন তা তিনি রক্ষা করেছেন। জননেত্রী মানুষের সাথে বেঈমানি করেননি এবং করবেন না। তার সহায়তায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা-পশ্চিম পটিয়া এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আনোয়ারা এলাকায় মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেভাল কমান্ড স্থাপন করা হয়েছে। বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে। বিগত ২০০ বছরে যে উন্নতি হয়নি এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় তা হয়েছে। তিনি বলেন, বিগত বিএনপি সরকার নিমক হারাম। তারা সমুদ্র সীমার জন্য কিছুই করেনি। অথচ শেখ হাসিনা সমুদ্র জয় করেছেন।
রাশেদ খান মেনন বলেন, অসামপ্রদায়িক দেশ গড়া ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে নির্বাচন ও আন্দোলন একই সাথে এগিয়ে নেয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক ও মেহনতি কৃষক জনতার ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে।
হাসানুল হক ইনু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদালতের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এতে ফিরে আসা সম্ভব নয়। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে আলোচনা করতে পারেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। তা চলবে। তিনি খালেদা জিয়াকে বর্জনের আহবান জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করেন।
ডা. দীপু মনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নির্ধারণে অনেক সাফল্য অর্জন করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এনিয়ে আর কোন চেষ্টা করা হয়নি। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার দায়িত্ব পেয়ে কাজ শুরু করেছিলেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে বর্তমান সরকার ব্যাপক কাজ করেছে। চট্টগ্রামের মানুষ এখন শান্তিতে থাকতে পারছে। চট্টগ্রাম বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ঘাঁটি।
ড. হাসান মাহমুদ বলেন, এদেশে যুদ্ধাপরাধীর ক্ষমা নেই। তিনি আরো দুইবার ভোট দিয়ে ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের আহবান জানান।
ডা. আফসারুল আমিন বলেন, বর্তমান সরকারের সময় চট্টগ্রামবাসী প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পায়। কিন্তু বিগত সরকারের সময় পেতো ২৫০ মেগাওয়াট। তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের তেমন ঘাটতি নেই।
