Elektronik Sigara বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে বাড়ছে চাহিদাও : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে বাড়ছে চাহিদাও : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মঙ্গলবার | ৩ এপ্রিল ২০১২ | ২০ চৈত্র ১৪১৮
PM2_2833----------22প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদেরও বিচারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এদেশের মাটিতে আর কখনোই জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। যারা জনগণের টাকা লুটপাট-দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং করেছে, এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। কেবল যুদ্ধাপরাধী নয়, দুর্নীতিবাজদেরও বিচার হবে। পরাজিত শক্তির পদলেহনকারীদের থেকে সাবধান থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, যারা পরাজিত শক্তির পদলেহন করে, উৎকোচ নেয়, তাদের দিয়ে দেশের উন্নয়ন হয় না। আর যা-ই হোক, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ে তুলতে চায় না। বরং পরাজয়ের প্রতিশোধই নিতে চায়। তাদের থেকে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। সোমবার গণভবনে দলের সিরাজগঞ্জ জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমল ছিল সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট ও বোমা-গ্রেনেড হামলার আমল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল ছিল আতঙ্কের। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে সুস্থ পরিবেশ ও শান্তি ফিরে এসেছে। সরকার সঠিক ও সুষ্ঠুভাবেই দেশ পরিচালনা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তার সভাপতিত্বে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। দলের সিরাজগঞ্জ জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড নেতারা, দল সমর্থিত সাংসদ ও জনপ্রতিনিধি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অংশগ্রহণে বৈঠকে সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান। এ সময় দলের জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বিএসসিসহ উপজেলা ও থানার সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন দলের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আসল চেহারা উন্মোচিত হয়ে গেছে, থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। যে শক্তিকে একাত্তরে আমরা পরাজিত করেছি, যারা লুটপাট-নির্যাতন-হত্যা-ধর্ষণ করেছে, তাদেরই সহায়ক শক্তি রাজাকার-আলবদর আর যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন তিনি। যখনই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে, তখনই তাদের বাঁচাতে তিনি মাঠে নেমেছেন। পরাজিত শক্তির কাছ থেকে টাকা খেয়ে রাজনীতি করা_ জাতির জন্য এর চেয়ে লজ্জাজনক আর কি আছে!

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে পরাজিত শক্তির কাছ থেকে টাকা খেয়েছেন, তা পাকিস্তানের আদালত আর পত্র-পত্রিকাই বলেছে। এটা আমরা বানিয়ে বানিয়ে বলিনি। বানিয়ে মিথ্যা কথা বলার অভ্যাসও আমাদের নেই।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি থেকে এত সম্পদ কীভাবে আসে? চুরি আর চোরাই টাকা ছাড়া এগুলো এমনিতে আসে না। আর এখন সম্পদ বানানোর সুযোগ নষ্ট হয়ে গেছে বলেই তাদের এত অন্তর্জ্বালা। এ কারণেই তারা বলছে, আওয়ামী লীগ নাকি কিছুই করেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে বলেই বিরোধীদলীয় নেতার এটা ভালো লাগছে না। এ সরকার যেসব উন্নয়ন করেছে, তিনি তার সবই বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তাহলে আমরা যে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছি, তা তিনি বন্ধ করে দেবেন? বেতন বাড়িয়েছি, তা কমিয়ে অর্ধেক করে দেবেন? ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে বই দেওয়া বন্ধ করে দেবেন?

বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত তিন বছরে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। যারা বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করেন, তারা নাকি বিদ্যুৎই দেখছেন না। তাদের কথা শুনে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা যে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি, সেটা সাতদিন বন্ধ রেখে ২০০৮-এর অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে দেখিই না কী হয়! এটা করলেই তারা বুঝতেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে কি-না।

লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। কেননা গত সাত বছরে বিদ্যুতের যে চাহিদা বেড়েছে, সেটা পূরণ হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও যে উৎপাদন হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা বাড়ায়নি, বরং কমিয়েছে। 'উচ্চ মার্গের সরকার' তত্ত্বাবধায়ক সরকারও উৎপাদন করেনি। তারা জরুরি অবস্থা দিয়ে দেশ চালাত। তাদের তো কোনো ভয় ছিল না। এরপরও তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন বাড়াতে পারল না?

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে এগুলো জনগণের মধ্যে প্রচারসহ দলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি বলেন, আমরা দেশপ্রেম নিয়ে দেশকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সঠিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ গড়ার কাজের উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলছি। ইনশাআল্লাহ এদেশ একদিন দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ আধুনিক দেশ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত হবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কাজী জাফরউল্যাহ, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, এইচটি ইমাম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মাহাবুবউল আলম হানিফ, মোহাম্মদ নাসিম এবং আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

 

অনলাইন রেডিও

You are here আর্কাইভ