মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১২, ৪ বৈশাখ ১৪১৯
প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম। এটা সেনাবাহিনীর প্রতি দ-িতমূলক কোনো যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধ। তাই কোনো সামরিক ব্যক্তির পক্ষে এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব ছিল না। বাংলাদেশের একচ্ছত্র একটা যুদ্ধের নেতা ছিলেন এই যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বা সরকার প্রধান। মুজিবনগর সরকারের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে সব ধরনের কর্মকা- পরিচালিত হয়। পরে মুজিবনগর সরকারই বাংলাদেশের নিয়মিত সরকারে রূপান্তরিত হয়।
ডা. এস এ মালেক সকলের জানা আছে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ আমতলায় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে যে সরকার গঠিত হয় ওটাই মুজিবনগর সরকার। ১৭ এপ্রিল থেকে ওই আমতলা মুজিবনগর বলে পরিচিত। কেননা ওই সরকার প্রধান ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তারই আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং তারই নির্দেশে ওই সরকার গঠিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। তাই বঙ্গবন্ধুর নামে ওই স্থানের নামকরণ করা হয়। মুজিবনগর নামকরণ অত্যন্ত যৌক্তিক ছিল। ওই সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন মরহুম সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মরহুম তাজউদ্দীন। ১৯৭০-এর নির্বাচনের পর পাকিস্তানের সাংবিধানিক কাঠামোতে একচ্ছত্রভাবে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আর্জন করেন। কিন্তু পাকিস্তানের সেনা শাসকরা তাকে ক্ষমতায় যেতে দেয়নি। জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেও তারা তা বসতে দেয়নি। ষড়যন্ত্রের পথ ধরে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পরামর্শমতো সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। জেনারেল ইয়াহিয়ার ও পাকিস্তানের শাসকবর্গ একদিকে আলোচনার ভান করে অপরদিকে ক্রমাগত সৈন্য ও অস্ত্র সংগ্রহ করে। জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকবার পর তা বাতিল করায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং সেই আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি গোটা বিশ্বের কাছে প্রমাণ করেন যে বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি শাসকবর্গকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশ শাসন করার কোনো নৈতিক বা আইনগত অধিকার তাদের নেই। ২৫ মার্চের কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে নিজগৃহে গ্রেপ্তার করে তারা বন্দি অবস্থায় পাকিস্তানে নিয়ে যায়। শুরু হয় বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ। গ্রেপ্তার হওয়ার কিছু পূর্বেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। ইতোপূর্বে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চ তিনি তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন এবং তিনি বাংলার জনগণকে সর্বাত্মক যুদ্ধের আহ্বান জানান ও দখলদার বাহিনীকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করার নির্দেশ দেন। 'রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লা', 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'। বস্তুত তার এই ঘোষণার পরই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনীর সশস্ত্র আক্রমণের পর বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুধাবন করতে সক্ষম হন যে, দেশে থেকে নিরস্ত্র অবস্থায় হানাদার বাহিনীর মোকাবেলা সম্ভব নয়। তাই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সীমানা পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। অধিকাংশ সদস্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপ্লবী সরকার গঠন করে এবং সেই সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। অনেকে এখন বলতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হানাদার বাহিনীর আক্রমণের মুখে জনগণকে ফেলে রেখে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। আসলে তারা সেদিন যদি বাংলাদেশে অবস্থান করতেন তাহলে তাদের পক্ষ্যে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। ঘোষিত মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার কোনো সুযোগও থাকত না। তাই পূর্ব পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ভারতে গিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করে গোটা বিশ্বকে তারা জানিয়ে দিলেন তারা ভবিষ্যতে কী করতে যাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে গঠিত এরূপ একটা বিপ্লবী সরকার বিশ্বের আর কোথাও গঠন করা হয়েছে কিনা সন্দেহ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিরাই সরকার গঠন করে এই যুদ্ধ পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সেক্টর কমান্ডাররা সমর কৌশলী হিসেবে তাদের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরিচালনা করেন। বিদেশের সাহায্য পেলেও বাংলাদেশের জনগণই মূলত মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে যেখানে সশস্ত্র বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছে সমর নায়করা। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নেতৃত্বে ছিলেন রাজনৈতিক নেতারা। যুদ্ধকালীন সময়ে বিপ্লব চলাকালে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সফলতার সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করতে আর কোথাও দেখা যায়নি। তাই বিপ্লব সফল হওয়ার পর বিপ্লবের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশে ফিরে এলে তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক কারণে তাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর নামে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাকশন প্রোগ্রাম বঙ্গবন্ধুর নামে শুরু করে, জয় বাংলা সস্নোগান দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর নামেই তারা অত্মাহুতি দেয়। বঙ্গবন্ধুর স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তার নেতৃত্বেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রাণশক্তি। মুজিবনগর সরকারকে এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। এদের পরিচর্যা করার দায়িত্ব ছিল মুজিবনগর সরকারের। ভারত সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার শর্তেও মুজিবনগর সরকারকে মূল দায়িত্ব পালন করত। জনপ্রতিনিধিরা এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করেন ও যুদ্ধ শেষে ওইসব লোকদের দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করে। বিশ্বব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে যে প্রচারণা চালানো হয় এবং যে জনমত তৈরি হয় তা ছিল মুজিবনগর সরকারের সার্থক সফলতা। বাংলাদেশের শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা সফলতার সাথে প্রচারকার্য পরিচালনা করেন। দেশের অভ্যন্তরে সংগ্রামরত জনগণকে উজ্জীবিত রাখার জন্য মুজিবনগর সরকার অত্যন্ত সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সেদিনের বেতার শিল্পীরা যেসব জাতীয়তাবাদী সঙ্গীত বেতারের মাধ্যমে প্রচার করতেন তা আজো জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। ওইসব শিল্পী অনেকেই এখনো বেঁচে আছেন এবং স্বকণ্ঠে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ওইসব গান পরিবেশন করে জনগণকে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করছেন। মুজিবনগর সরকারের প্রধান সচিবালয় ছিল ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে। এ এছাড়াও যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে ভারত সরকার সর্বপ্রকার সহায়তা করে। বিদেশের মাটিতে ওই সরকারের ক্রীয়াকর্ম পরিচালনা করা হলেও মূল ভিত্তি ছিল মুজিবনগর। রাজনৈতিক কারণেই বাংলার মাটিতেই বাংলাদেশের বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়। হানাদার বাহিনী তা প্রতিরোধ করতে না পারায় আমাদের সার্বভৌমত্বের মূল ভিত মুজিবনগরেই প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল বলেই এ যুদ্ধ অংশগ্রহণকারী সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। দেশে প্রত্যাবর্তন করবার পর অতি অল্পসময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সংবিধান রচনা ও সেই সংবিধান ভিত্তিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে সংসদ ও সরকার গঠন করতে সক্ষম হন। সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং '৭০-এর নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় সবকিছু অর্জিত হয়। পাকিস্তান সামরিক সরকার নির্বাচনের রায়কে অগ্রাহ্য করে যুদ্ধ ঘোষণা করবার কারণেই পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি পাকিস্তানিরাই ধ্বংস করে। তাই বিছিন্নতাবাধী হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর রণকৌশল। ৬ দফা ঘোষণা করে, সেই ৬ দফা ভিত্তিক আন্দোলন পরিচালনা করে এবং ৬ দফাকে নির্বাচনী গণম্যান্ডেট হিসেবে ঘোষণা ৭০-এর নির্বাচন দিয়ে নির্বাচনে একচ্ছত্রভাবে বিজয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানকে সমাধিস্থ করার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। অথচ তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে অভিযুক্ত করার কোনো আবকাশ ছিল না। তিনি শুধু একজন দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না একজন সফল সমর কৌশলী ছিলেন। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে অনেকে গেরিলা যুদ্ধের এক অসাধারণ নির্দেশনামা বলে মনে করে। মুজিবনগর সরকার তাৎক্ষণিকভাবে হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে যেসব কৌশল বিপ্লবের নেতা বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করতে হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। একজন নির্বাচিত সংসদকে অনেক পূর্ব থেকেই ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শ্রী চিত্ত সূতারের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা উচিত। ভবানীপুরস্থ গোল পার্কের ওপর অবস্থিত (বাংলাদেশ হাউস) বাড়িটি ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের সুতিকাগার। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সরকার গঠিত হয়েছিল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে। সামরিক কর্তাব্যক্তিরা সেই সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু জেড ফোর্সের কর্মকর্তা মেজর জিয়ার ভূমিকা ছিল কিছুটা ভিন্নতর। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বে চট্টগ্রাম অবস্থানকালে তিনি নিজেকে সেনাবাহিনী ও সরকার প্রধান হিসেবে ঘোষণা দেন। কিন্তু তখনও বাংলাদেশে কোনো সরকার বা সেনাবাহিনী গঠিত হয়নি। পরে মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তিনি সেই সরকারের অধীনে চাকরি নেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তার মূল কারণই ছিল জিয়া কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা। বাংলাদেশের সরকার ও সেনাবাহিনী যখন গঠিত হয়নি তখন কী করে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারেন। তা ছাড়া স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার নৈতিক বা রাজনৈতিক অধিকার ছিল কি? তিনি তো ২৬ মার্চ সোয়াত জাহাজ থেকে পাকিস্তানের অনুগত সরকারি অফিসার হিসেবে অস্ত্র খালাসে উদ্ধত ছিলেন। তিনি যদি স্বাধীনতার ঘোষকই হবেন তাহলে তিনি মুজিবনগর সরকারের অধীনে দায়িত্ব নিতে গেলেন কেন? তখন তো তার ভারতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বলা উচিত ছিল যে তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। তাকে সকল সহযোগিতা দেয়া হোক। জিয়া ভালো করেই জানতেন ওই ধরনের উক্তি করলে তার পরিণতি যে কী হতো। তাই তিনি মুজিবনগর সরকারের অধীনে দায়িত্ব পালন করতে রাজি হন। স্বাধীনতার ঘোষক কী করে মুজিবনগর সরকারের অধীনে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন এবং যুদ্ধ শেষে কি করে তিনি সরকারের অধীনে চাকরি নিলেন। হয়ত মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধের কথা বিবেচেনা করে তাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য কোনো প্রস্তাব করেনি। তিনি সে দিন যে ধরনের অপরাধ করেছিলেন তাতে তার সে দিন কোর্ট মার্শাল হওয়া উচিত ছিল। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল একটি রাজনৈতিক সংগ্রাম। এটা সেনাবাহিনীর প্রতি দ-িতমূলক কোনো যুদ্ধ ছিল না। এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধ। তাই কোনো সামরিক ব্যক্তির পক্ষে এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া সম্ভব ছিল না। বাংলাদেশের একচ্ছত্র একটা যুদ্ধের নেতা ছিলেন এই যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বা সরকার প্রধান। মুজিবনগর সরকারের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে সব ধরনের কর্মকা- পরিচালিত হয়। পরে মুজিবনগর সরকারই বাংলাদেশের নিয়মিত সরকারে রূপান্তরিত হয়। ডা. এস এ মালেক: রাজনীতিক ও কলাম লেখক
