Elektronik Sigara আন্দোলনের নামে বিএনপির নৈরাজ্য ও অপতৎপরতা প্রতিহত করা হবে: আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

আন্দোলনের নামে বিএনপির নৈরাজ্য ও অপতৎপরতা প্রতিহত করা হবে: আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ

বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১২, ১২ বৈশাখ ১৪১৯
আন্দোলনের নামে বিএনপির নৈরাজ্য ও অপতৎপরতা আজ থেকে প্রতিরোধ ও রুখে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হরতালের নামে সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, শান্তি, প্রগতি, গণতন্ত্র ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে আওয়ামী লীগ জনগণকে সাথে নিয়ে বিরোধী দলের সকল ষড়যন্ত্র রাজপথে মোকাবেলা করবে। এ ব্যাপারে দলের সর্বস্তরের মানুষকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ।
বেগম মতিয়া চৌধুরী দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিরোধী দলের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তাদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হবে। বিএনপির এই নৈরাজ্যের আর প্রতিবাদ নয়, প্রতিহত করতে হবে। হরতালের নামে জনজীবন অস্থিতিশীল করার চেষ্টা আর সহ্য করা হবে না। আওয়ামী লীগ ভোট, গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার রাজনীতি করে। আর এ রাজনীতিতে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হলে আওয়ামী লীগের কোন লাভ নেই। তাছাড়া ইলিয়াস আলী এমন কোন ক্যারিশমাটিক নেতা নন যে, তিনি নিখোঁজ হলে দেশ কেঁপে উঠবে। এ ধরনের লোক নিখোঁজ হলে আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক রাজনীতি, ভোটের রাজনীতি, জবাবদিহিতার রাজনীতিতে কোনো সুফল আসে না। বিশ্বে গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এই অপশক্তি ষড়যন্ত্র করছে। সরকার ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। আমরা বারবার বিএনপিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা সহযোগিতা করছে না।
ইলিয়াস আলীকে সন্ত্রাসী হিসাবে আখ্যায়িত করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, একটা সন্ত্রাসীর জন্য এতো মায়াকান্না কেন। একজনের জন্য চার জনের প্রাণ গেল কেন?। তিনি বিএনপিকে সাপ আখ্যা দিয়ে বলেন, সাপের সাথে রবীন্দ সঙ্গীত গাইলে চলবে না। সাপ ঠেকাতে লাঠি ধরতে হবে। আজ বুধবার থেকেই বিএনপিকে মোকাবেলার আহবান জানান তিনি। লতিফ সিদ্দিকী বলেন, সামরিক শক্তির গর্ভে যার জন্ম, অসাংবিধানিক পন্থায় যার আবির্ভাব সেই দলটি জনগণের সরকারকে কি করে মেনে নেবে? এ কারণে বর্তমান সরকারের প্রথম দিন থেকে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা গত তিন দিন নীরবতা পালন করেছি। কিন্তু আর নয়, আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একাত্তরের পরাজিত শক্তি, ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। শান্তি, প্রগতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে অপতত্পরতার বিরুদ্ধে আজ থেকে এই মোকাবেলা শুরু হবে। হয় তারা বাঁচবে, নইলে আমরা বাঁচবো এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করবো। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। এ কারণে তারা মরণ কামড় দিয়েছে। পদ্মা সেতু যাতে না হয় সেজন্য বিশ্বব্যাংকে ষড়যন্ত্র করেছে।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ইলিয়াস নাটক সাজিয়ে ইস্যু সৃষ্টি করে নির্বাচিত সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। হরতাল দিয়ে জনগণকে জিম্মি করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের চমকের সাথে ইলিয়াস নিখোঁজের সম্পৃক্ততা আছে। তার চমকই হলো ইলিয়াস নিখোঁজ।
গতকাল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হরতাল বিরোধী মিছিল ও সমাবেশ করেছে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল দিনভর। দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে উপস্থিত হয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদম মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী উদ্ধার হোক এটা বিএনপি নেতারাই চান না। তিনি বলেন, আসলে তারা নাটক সাজিয়ে ইস্যু সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চান। মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ইলিয়াস আলীকে না পাওয়ার ঘটনায় আমরাও উদ্বিগ্ন।' জ্বালাও-পোড়াও বাদ দিয়ে বিএনপিকে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, 'বিএনপির ডাকা হরতালে অফিস, আদালতে কোনো প্রভাব পড়েনি। সকল স্থানে দোকানপাট খোলা ছিল। শুধু হরতালের কারণে জনগণ আতঙ্কে ছিল।' তিনি বলেন, এসব হরতাল দিয়ে জনদুর্ভোগ হচ্ছে অন্য কিছুই হচ্ছে না।
সাংগঠনিক সম্পাদক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতেই ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পরিকল্পিত নাটক করছে। এমনকি সরকার তাকে খুঁজে পেতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিলেও তারা কোনো সহযোগিতাও করছেন না।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, বিএনপির এ হরতাল আর সহ্য করা হবে না। আজ থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে। ইলিয়াস আলী নাটক সাজিয়ে জনগণের জীবন অস্থিতিশীল করার তৎপরতায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপির সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ইলিয়াস আলীকে বলির পাঁঠা বানিয়ে সরকারবিরোধী এ তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না।

 

 

অনলাইন রেডিও

You are here চলতি খবর আন্দোলনের নামে বিএনপির নৈরাজ্য ও অপতৎপরতা প্রতিহত করা হবে: আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ