ইলিয়াস আলীকে জীবিত উদ্ধার করাই সরকারের লক্ষ্য: সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১২, ১৩ বৈশাখ ১৪১৯
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীকে জীবিত উদ্ধার করাই সরকারের লক্ষ্য।বিএনপি নেতা এ ব্যাপারে সুনির্দষ্টি তথ্য দিয়ে সরকারকে সহায়তা করতে বিরোধী দলকে অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে নিখোঁজ হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী অচিরেই জীবত অবস্থায় ফিরে আসবেন। তাকে খুঁজে বের করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনীই কাজ করছে জানিয়ে তিনি এ লক্ষ্যে বিরোধী দল ও জনগণের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ তথা এর নেতৃত্বাধীন সরকার হত্যা ও গুমের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন,, ''আমরা চাই সরকার জীবিত আবস্থায় ইলিয়াস আলীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিক।'আর এটি নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।' তিন দিনের হরতালের পর আরও হরতালের হুমকি প্রসঙ্গে এলজআরডি মন্ত্রী বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ''ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষ যুক্ত নয়, হরতাল দিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেবেন না, জিম্মি করবেন না।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'হরতাল, ভাঙচুর, চালককে জীবিত হত্যা—এসব করে কি ইলিয়াসকে জীবিত পাওয়া সম্ভব? কেন তাঁর স্ত্রী ভিকটিম করা হচ্ছে, কেন তাঁকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা কী রাজনীতি রাজনীতি খেলা।' প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠকে ইলিয়াসকে জীবিত ফিরিয়ে আনার কথা বলেন। এ অবস্থায় বিরোধীদলীয় নেতা কী আমাদের এতটুকু সহায়তা করতে পারেন না। আশরাফ বলেন, তবিএনপির উদ্দেশ্য যদি হয় ইলিয়াস আলীকে পুঁজি করে রাজনৈতিকভাবে গোল করা, তাহলে তা ভিন্ন কথা। আর যদি তথ্য দিয়ে সরকারকে সহায়তা করে, তাহলে ইলিয়াসকে পাওয়া সহজ হবে। আওয়ামী লীগের নেতা বলেন, 'ইলিয়াস আলী সন্তানের পিতা, মহিলার স্বামী। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ব্যথা কি আমরা অনুভব করতে পারি। তাঁকে উদ্ধারে সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। আমরা অনেক বিষয়ে রাজনীতি করি। কিন্তু এ বিষয়ে রাজনীতি করার সুযোগ নেই।' তথ্য দিয়ে সরকারকে সহায়তার বিষয়ে আশরাফ বলেন, 'আমরা আশা করেছিলাম বিরোধী দল সরকারকে তথ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা করবে। কিন্তু তারা তা করেনি। কেবল তাঁর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী সহায়তা করেছেন। তাঁর স্ত্রী র্যা বকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। র্যা ব তাঁকে নিয়ে অভিযান চালায়। সেদিনই তিনি বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু পরের দিন মিডিয়ার সামনে তিনি অভিযানে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এমনকি ঘটনা ঘটল যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখার পর তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেন।'
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবু উল আলম হানিফ, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, বি এম এ মোজাম্মেল হক এমপি, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপি, মৃণাল কান্তি দাস, আমিনুল ইসলাম আমিন, এনামুল হক শামীম, মাহবুবুল হক শাকিলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
(সংবাদ সম্মেলনের সংক্ষিপ্তাকার এখানে দেওয়া হয়েছে)

