Elektronik Sigara আগামী নির্বাচনে জয়লাভে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন, হবিগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

আগামী নির্বাচনে জয়লাভে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন, হবিগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
মঙ্গলবার | ১ মে ২০১২ | ১৮ বৈশাখ ১৪১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়লাভ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরুন এবং আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে তাদের উদ্বুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিন। যাতে আমরা আরেকবার জনগণের সেবা করতে পারি।' দেশে বিরাজমান জ্বালানি সংকট ও গ্যাস সরবরাহ স্বল্পতা নিরসনে গতকাল সোমবার হবিগঞ্জের বাহুবলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্লান্ট উদ্বোধনের পর দলীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে দেশে উন্নয়ন হয়। মহাজোট সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। গ্যাসের অনুসন্ধান, উৎপাদন-সঞ্চালন এবং বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ৫ বছর এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। ফলে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বিগত তিন বছরে মহাজোট সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। গ্যাস যুক্ত হয়েছে দৈনিক প্রায় ৫০৫ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে তার দল নির্বাচিত হলে ২০১৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে বিজয় অর্জনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, যাতে মিয়ানমারের সঙ্গে যেভাবে বিজয় অর্জিত হয়েছে সেভাবে জয়লাভ করা যায়। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পুরো শাসনামলে তার দল দলীয় নেতাকর্মীদের লাশ বহনে ব্যস্ত ছিল। কারণ, সে সময় তাদের পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা। এ প্রসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ প্রধান শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার, আইভী রহমান হত্যাকা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে বর্বরোচিত হামলার কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী হবিগঞ্জ জেলার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হবিগঞ্জ জেলার সঙ্গে সবক'টি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এখন প্রতিটি উপজেলা থেকে মানুষ অত্যন্ত সহজে জেলা সদর এমনকি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যাতায়াত করতে পারে। এ সরকারের সময়েই বহু প্রতীক্ষিত হবিগঞ্জ-লাখাই সড়ক ও হবিগঞ্জ-বানিয়াচং সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও পাসপোর্ট অফিস নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া স্টেডিয়াম সংস্কার কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি জানান, সরকার চা বাগান শ্রমিকদের কল্যাণে উদ্যোগ নিয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভায় বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তাফা শহীদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ, স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির, অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খান এমপি, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর, বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাজমুল হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, জ্বালানিবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুবিদ আলী ভঁূইয়া, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক প্রমুখ।

দুটি জ্বালানি প্লান্ট উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে তার সরকারের চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাহুবলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্লান্ট উদ্বোধন করেছেন। এর মধ্যে মুচাই কম্প্র্রেসর স্টেশনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের সহায়তায় নির্মিত হয়। এটি গ্যাস সরবরাহে চাপ বৃদ্ধি ও ঘাটতি নিরসনে সহায়ক হবে।
রশিদপুর কনডেন্সড ফ্রাকশনেশন প্লান্টটি নির্মাণ করে পেট্রোবাংলা। এ প্লান্টে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ ব্যারেল কনডেন্সড পেট্রোলিয়াম প্রক্রিয়াজাত করা হবে। এতে প্রতি বছর প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার জন্য সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় দেশ। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন স্বল্পোন্নত দেশের পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের অধিকার রয়েছে। তাহলে বাংলাদেশ কেন সে সুবিধা পাবে না।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবি্লউ মজিনা, বিদ্যুৎ সচিব মেজবাহ উদ্দিন ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উত্তোলন ও উৎপাদন কোম্পানি শেভরনের প্রেসিডেন্ট মেলোডি মেইয়ের প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

অনলাইন রেডিও

You are here চলতি খবর আগামী নির্বাচনে জয়লাভে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন, হবিগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা