খালেদা জিয়া চান না ইলিয়াস উদ্ধার হোক: সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
যত দিন ইলিয়াস আলী উদ্ধার না হবে তত দিন এই অভিযান অব্যাহত থাকবে: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক
মঙ্গলবার |১ মে ২০১২ |১৮ বৈশাখ ১৪১৯
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ইলিয়াস আলী উদ্ধার হোক- এটা খালেদা জিয়া চান না। তারা যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন।বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয় এলাকায় সকাল থেকেই দিনভর মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো। তারা হরতালকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বলেছে, হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা' চলবে না। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিকালের প্রতিবাদ সমাবেশে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আসেন।
বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্রের সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী যে সহযোগিতা চেয়েছেন আমরা অবশ্যই তা করব। ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া উপায় নেই। একমাত্র ভরসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে তারা কোনও পদক্ষেপ নেননি। বিএনপি নেতারা যদি ইলিয়াস আলীর উদ্ধার চাইতেন, তবে সরকারকে সহযোগিতা করতেন। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে তাকে উদ্ধারের জন্য বিএনপির কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম। সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমরা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন করেছি। কিন' তারা আমাদের ফোন পর্যনত্ম ধরেননি। তারা যদি সত্যিকারই ইলিয়াস আলীর উদ্ধার চাইতেন, তবে তথ্য দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতেন। তিনি বলেন, তারা সহযোগিতা না করে এটা নিয়ে রাজনীতি করছেন। রাজনীতির কারণে হরতাল দিয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করছেন। বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী বলেছেন, আমার স্বামীর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী-সনত্মানের কথা চিন্তা করুন। তাদের দুঃখের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। এটা নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন। সৈয়দ আশরাফ জানান, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরই মধ্যে কমপক্ষে ১২টি অভিযান চালিয়েছে। যত দিন ইলিয়াস আলী উদ্ধার না হবে তত দিন এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ওই জনসভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, জ্বালাও-পোড়াও যারা করবে, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে যা যা করার, তা তা করা হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, 'নিখোঁজ' নেতা ইলিয়াসকে পেতে চাইলে সহযোগিতা করতে হবে। বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার উৎখাতের স্বপ্ন বাসত্মবায়ন হবে না। তাকে (ইলিয়াস আলী) খুঁজে পেতে চাইলে সরকারকে সহায়তা করুন।
হানিফ বলেন, বিএনপির আন্দোলনে কখনোই জনগণের সমর্থন ছিল না। তাই তো একটা মামলা খাওয়ার পর বিএনপি নেতারা থেমে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপির ডাকা হরতাল মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। রাসত্মাঘাটে মানুষ চলাফেরা করছে। দোকানপাট খুলেছে। তাদের হরতাল ব্যর্থ।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সংগঠনের নেতাকর্মীদের চুপ করে বসে না থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইলিয়াস আলী কোথায় আছে, তা বিরোধীদলীয় নেতা জানেন।
নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের জন্য বিরোধী দল কোনও রকম সহায়তা না করে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা কঠোর হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও কঠোর হবে। আমরাও আরও কঠোর হব। মানুষ খুনের জন্য, অচলাবস'া সৃষ্টির জন্য বিচার হবে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) ইলিয়াস আলীকে নিয়ে সন্ত্রাসে মেতে উঠেছেন।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ফয়েজ উদ্দিন মিয়া, মুকুল চৌধুরী, আওলাদ হোসেন, আসাদুজ্জামান খান কামাল, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।
