হিলারির সফরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরো জোরদার হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
রোববার | ৬ মে ২০১২ | ২৩ বৈশাখ ১৪১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সফরে আসার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে গতকাল ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর এই সফরে দু'দেশের মধ্যকার বিরাজমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছেন। ঢাকায় সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাজাপ্রাপ্ত খুনীদের একজন রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তাঁর প্রতি আহবান জানান।
বৈঠকে হিলারি ক্লিনটন আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে এবং প্রতিবেশী মিয়ানমার সংগে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের দীর্ঘ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসকল পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও অগ্রগতিতে অবদান রাখবে। পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বিনিয়োগ আলোচনায় স্থান পায়। বৈঠকে হিলারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অংশীদারিত্ব চুক্তি প্রশংসা করেন এবং দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত তৈরি পোশাকের প্রবেশ বাংলাদেশের নারীদের জীবন যাত্রার মান উন্নত করবে। এতে নারী পাচার বন্ধ ও তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টিআইএফসিএ-এর স্বাক্ষর প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, এতে বর্তমান প্রেক্ষপটেও শ্রম অধিকার রক্ষা করবে। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লখ করে স্বাস্থ্য, খাদ্য, জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জিএইচআই প্লাসে আটটি দেশের একটি হিসেবে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করায় ওবামা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী ধর্ম নিরপেক্ষতা, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আইনের শাসন ও মানবাধিকারে আমরা বিশ্বাসী বলেই ১৯৭১ সালের যুদ্ধপরাধের বিচারের চেষ্টা করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার জনগণের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করতে সন্ত্রাস দমন আইন সংশোধন করা হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সংগে সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে তিনি মার্কিন সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আরো মার্কিন বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে বলেন, পরবর্তী পাঁচ বছরের জ্বালানি চাহিদা মিটাতে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর গওহর রিজভী, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান এবং প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্ল্যাক এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাবিউ মজিনা উপস্থিত ছিলেন।
