'আমাদের যা কিছু অর্জন, তার সব অর্জনই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এসেছে: সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
বুধবার | ১৬ মে ২০১২ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, 'আমাদের যা কিছু অর্জন, তার সব অর্জনই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এসেছে'—এ কথা উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'পত্রিকা পড়লে, টক শো দেখলে মনে হয় আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্বই নেই। আওয়ামী লীগের সম্পর্কে যাদের কোনো ধারণা নেই, তারা জানে না আওয়ামী লীগের ভিত্তি ও শেকড় কোথায়।' তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের জরিপে সরকারপ্রধানদের প্রতি দেশের মানুষের আস্থার তালিকায় সপ্তম স্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের অবস্থান ১১তম। কর্মী সমাবেশে আগামী নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে গোছানোর আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'রাজনীতিতে দলের বিকল্প কিছু নেই।' মন্ত্রী বলেন, ''যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। এতে জেলা, উপজেলাসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে।''রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করতে গিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'রাজনীতিবিদদের নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাজনীতির জন্য সুখকর বিষয় নয়। দল থেকে কী পেলাম না পেলাম তা হিসাব করে দল করা যাবে না। মানুষের উপকার করতে হবে। ভদ্রতা ও শালীনতার কোনো বিকল্প নেই।'
সারা বিশ্বে দুর্নীতি রাজনীতিবিদদের গ্রাস করছে—এ কথা উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'ভারতে মোবাইল ফোনের লাইসেন্স নিয়ে বিরাট দুর্নীতি হয়েছে। মন্ত্রীরাও অনেকে জেলে গেছেন। কিন্তু বিগত সময়ে ক্ষমতায় থাকার সময় আমরা মোবাইল ফোনের অনুমতি দিয়েছি। সেখানে দুর্নীতির কোনো গন্ধ খুঁজে পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেছেন, টক শোর পণ্ডিতদের কথা ও লেখনী বাঙালি জাতির মুক্তি কোনো দিনই আনেনি। কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের এক কর্মী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সৈয়দ আশরাফ দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া সম্পর্কে বলেন, 'আমাদের দেশের পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে যা প্রচার করা হয়, বিশেষ করে টক শোতে প্রতিপক্ষ হিসেবে যাঁরা আসেন এবং কথা বলেন, তাঁদের জ্ঞানের পরিধি এতই কম ও দুর্বল যে, এসব দেখে সুনামগঞ্জের মানজুড়া গানের মতো মনে হয়। গান করেন একজন, জবাব দেন আরেকজন। টক শোর পণ্ডিতদের কথা ও লেখনী এই বাঙালি জাতির মুক্তি কোনো দিনই আনেনি।' বক্তৃতায় সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'আমাদের দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নতুন। মিডিয়া এখনো পরিপক্ব নয়, যারা জড়িত তারাও পরিপক্ব নয়। তাদের সময় দিতে হবে। বর্তমানের চ্যানেলগুলো কচুর পাতার পানি। পত্রিকার ইতিহাস দীর্ঘদিনের হলেও সাংবাদিকতার দিকপালেরা এখন নেই। আজ মানিক মিয়া নেই, জহুর হোসেন চৌধুরী নেই, আবুল কালাম শামসুদ্দিন নেই, আবদুস সালাম নেই, ওবায়দুল হক নেই। এর তুলনায় বর্তমান কলাম লেখক যারা, তাদের অভিজ্ঞতা যেমন অপ্রতুল, জ্ঞানের পরিধিও তেমনই সীমিত।''
এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজাল, জ্যেষ্ঠ নেতা জিল্লুর রহমান, পৌর মেয়র মাজহারুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী কিশোরগঞ্জ আইনজীবী সমিতির শহীদ অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এবং আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
