১৭ মে দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস
আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নানা কর্মসূচী গ্রহণ, প্রধানমন্ত্রীকে বিশাল ছাত্র-সংবর্ধনা দিচ্ছে ছাত্রলীগ
বুধবার | ১৬ মে ২০১২ | ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯
আগামী ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। ঐ সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের নির্মমতার হাত থেকে রেহাই পান। ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫, ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে বিপুল আনন্দ-উল্লাস, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হৃত গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার বজ্র শপথ নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
১৭ মে ১৯৮১ সাল; সারাদেশের গ্রাম-গঞ্জ-শহর-নগর-বন্দর হতে লক্ষ লক্ষ অধিকার বঞ্চিত মুক্তিকামী জনতা সেদিন ছুটে এসেছিল রাজধানী ঢাকায়। স্বাধীনতার অমর স্লোগান জয় বাংলা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়েছিল ঢাকার আকাশ বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল হাসিনা তোমায় কথা দিলাম-পিতৃ হত্যার বদলা নেব'।
শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি রাজধানী শহর ঢাকা। বস'তঃ ১৭ মে ১৯৮১ পুণর্বার প্রমাণিত হয়েছিল, মুজিব বাংলার বাংলা মুজিবের। লক্ষ লক্ষ জনতার প্রাণঢালা উষ্ণ সম্ভাষণ এবং গোটা জাতির স্নেহাশীষ ও ভালবাসার ডালা মাথায় নিয়ে প্রিয় স্বদেশ ভূমিতে ফিরে এসেছিলেন জনতার আশির্বাদ-ধন্যা নেত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সভাপতি শেখ হাসিনা। সেদিন গগন বিদারী মেঘ গর্জন, ঝাঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ প্রকৃতি যেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বদলা নেওয়ার লক্ষ্যে গর্জে উঠেছিল, আর অবিরাম মুষল ধারে বারি-বরষনে যেন ধূয়ে-মুছে যাচ্ছিল বাংলার মাটিতে পিতৃ হত্যার জমাট বাঁধা পাপ আর কলঙ্কের চিহ্ন।
ঝড়-বাদল আর জনতার আনন্দাশ্রুতে অবগাহন করে শেরে বাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি; বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তাঁর আদর্শ বাস-বায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্তবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।
আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে দেশে গণ-জাগরণের ঢেউ জাগল, গুণগত পরিবর্তন সূচিত হলো আন্দোলনের, গণসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেল সংগঠনের। দেশবাসী পেল নতুন আলোর দিশা।
দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি নিরলসভাবে দেশের অধিকারহারা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরবচ্ছিন্ন লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাঁকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। জনগণের ভালবাসায় অভিষিক্ত হয়ে দ্বিতীয়বারের ন্যায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান-কারী অবদান রেখে চলেছেন। একটি উন্নত আধুনিক সমৃদ্ধ অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি'র আহ্বান
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি এক বিবৃতিতে আগামী ১৭ মে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করার জন্যে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের সর্বস-রের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে দেশ ও জাতির কল্যাণে অসামান্য অবদান রাখার জন্যে জননেত্রী শেখ হাসিনার সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশব্যাপী দোয়া, মিলাদ মাহফিল, আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি পালনের জন্য দেশব্যাপী আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল শাখার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচি
সকাল ৭-৩০মি. : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস' বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন।
সভানেত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে দোয়া।
সকাল ৯-৩০মি. : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ গণভবনে গিয়ে সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
সকাল ১১-৩০মি. : যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ, স্থান: আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা-১২০৯)।
দুপুর ১-৩০মি. বিভিন্ন এতিমখানায় খাদ্য বিতরণ।
দুপুর ২-০০টা : বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৩১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও সমুদ্র বিজয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রদত্ত ছাত্র সংবর্ধনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিবেন।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত থাকবেন।
