এক হাজার মাল্টিমিডিয়া স্কুলের যাত্রা শুরু, বদলে যাচ্ছে ২২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীকক্ষ
সোমবার | ২১ মে ২০১২ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯
এক হাজার মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষ উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে তার কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫০০ মাধ্যমিক ও ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রযুক্তিনির্ভর 'ডিজিটাল ক্লাসরুম' এবং দেশের শতাব্দীপ্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম হচ্ছে পাঠদান পদ্ধতির একটি ডিজিটাল সংস্করণ। পড়ালেখায় এগিয়ে থাকা উন্নত দেশগুলোতে এ আধুনিক পাঠদান কৌশলটি ব্যবহৃত হচ্ছে_ এ কথা উলেল্গখ করে তিনি বলেন, তার সরকার গ্রাম ও শহরে পাঠদানে বৈষম্য ঘোচাতে চায়। এ লক্ষ্যে পিপিপির ভিত্তিতে ২০ হাজার ৫০০ মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় একটি করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার প্রাথমিক স্তরের মডেল স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্বের সর্বশেষ জ্ঞান আহরণ করে নিজেদের বিশ্ব প্রতিযোগিতার উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলবে।
শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থের অভাবে আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়তে পারবে না, এটা হবে না। এই প্রকল্পে সহায়তার জন্য ইউএনডিপি, বাংলালিংক এবং ইন্টেলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেসরকারি উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সরকারপ্রধান। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার রিয়াজউদ্দিন পাইলট স্কুল থেকে শিক্ষা সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত সচিব এমএম গোলাম ফারুক, রংপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে মাধ্যমিক স্তরে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি প্রশিক্ষণ বিষয়ক আইসিটি প্রকল্পের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জিটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এবং টুঙ্গীপাড়ায় জিটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে পাঠদান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের অনুভূতি জানতে চান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ এবং ওরাসকম টেলিকম অ্যান্ড হোল্ডিংসের গ্রুপ সিইও আহমেদ আবু দোমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম খান। বাংলালিংকের পাশাপাশি অন্যান্য মোবাইল ফোন অপারেটরকেও এ প্রকল্পের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নজরুল ইসলাম খান। ওরাসকমের সিইও আহমেদ আবু দোমা প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে ভাঙা ভাঙা বাংলায় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা_ আপনাকে অভিনন্দন। আমাকে কিছু বলতে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাস্তবায়নাধীন সাপোর্ট অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্প যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ ছাড়া বাংলালিংক ও ইন্টেল এ আয়োজনে সহযোগিতা দেয়।
