Elektronik Sigara আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
শনিবার ,২৬ মে ২০১২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্ব্যর্থহীনভাষায় বলেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে কেউ কোন ধরনের প্রভাব খাটাতে পারবে না। তিনি প্রশ্ন রাখেন 'আওয়ামী লীগের অধীনে ১২টি উপ-নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ ৫ হাজার ১৭৫টি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারলে আগামী সাধারণ নির্বাচন কেন হবে না?' প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনকালে প্রশাসনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোও নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। অতএব আগামী নির্বাচনে কোন প্রকার হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না।

 


তিনি শনিবার ঢাকায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন।
বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেফতারের জন্য সরকারকে যারা দায়ী করেন তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হরতালের নামে হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও অগ্নিসংযোগে সম্পৃক্ততার জন্য তাদের গ্রেফতার এবং জেলে পাঠানো হয়েছে। তারা মানবাধিকার লংঘন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হরতালের সময় যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে এবং যানবাহন ধ্বংস করে তাদের কেন বিচার করা যাবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন হরতালের সময় গাড়িতে ঘুমন্ত চালককে পুড়িয়ে মারা কী মানবাধিকার লংঘন নয়, হরতালের সময় গাড়িতে আগুন দেয়া অথবা ভাঙচুর করা কী মানবাধিকার লংঘন নয়?
তিনি বলেন, মানুষ পুড়িয়ে মারা এবং অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞের মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো বিরোধী দলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট। এর আগে তারা রাজধানীতে সাকুরা হোটেলের সামনে বিআরটিসি'র দোতলা বাসে আগুন দিয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার নির্বাচন কমিশনসহ সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কেননা আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র এবং জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস এবং তারা যেমনটি চাইবে তেমনটিই হবে।
বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্যাতনের কথা ভোলেনি। রাজনীতিবিদ, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী সবাই তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বেগম জিয়ার দুই ছেলেকে বেদম প্রহার করার পর বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবে না, এমন নিশ্চয়তা কেউ কি দিতে পারবেন?
বিগত বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের নিষ্ঠুর আচরণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীসহ সকল শ্রেণীর মানুষ ও পেশাজীবীরা জোট সরকারের নির্যাতন, খুন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার বাহিনীর নিষ্ঠুর অত্যাচার, নির্যাতন ছিল ৭১ সালের দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর মতো। তিনি বলেন, তারা আইভি রহমান, এসএএমএস কিবরিয়া ও আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে ৪-দলীয় জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশ বাংলা ভাইয়ের মত সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল। সে সময় বিএনপি-জামাতের লাগামহীন দূর্নীতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে দুুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
তিনি বলেন, ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর উন্নয়নের চাকা উল্টো দিকে ঘুরতে থাকে। দেশের জনগণ বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আওয়ামী লীগ কর্মী ও সমর্থকদের ওপর বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্যাডারদের নিষ্ঠুর নির্যাতনের কথা কখনই ভুলবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর কোন রকম প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে সকল শক্তি দেশের উন্নয়নে নিয়োগ করে। কেননা তারা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের দল এবং সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছু না কিছু পায়, অপরদিকে বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণ কিছুই পায় না।
প্রধানমন্ত্রী কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, নারীর ক্ষমতায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে তাঁর সরকারের অভূতপূর্ভ সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি স্বনির্ভর মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারের সাফল্যের কথা দেশবাসীকে জানানোর জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে এই সভার আয়োজন করা হয়। গত বছরের শেষের দিক থেকে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ ও আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এবং দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মেহেরপুর জেলা শাখার কর্মকর্তাগণ, দলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও পৌর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং সহযোগী ও সমমনা সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ বৈঠকে যোগ দেন।

 

অনলাইন রেডিও

You are here চলতি খবর আগামী নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা