মিয়ানমারের এই ঘটনায় জামায়াত ইন্ধন দিচ্ছে : সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
বৃহস্পতিবার | ২১ জুন ২০১২ | ৭ আষাঢ় ১৪১৯
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি আদায় করা যাবে না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হয়েছে। এখন তত্ত্বাবধায়ক পেতে হলে আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে হবে, অন্যথায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন লাভের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করতে হবে। এই দুই নিয়মতান্ত্রিক পথের বাইরে তত্ত্বাবধায়ক আর ফিরে আসবে না।
গতকাল মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৬৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে এ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের গার্মেন্টস সেক্টরে চলমান আন্দোলনে সাধারণ শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতারা যুক্ত নয়। বেতনের দাবিতেও আন্দোলন হচ্ছে না। আমরা ক্ষমতায় আসার পরেই মালিকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রমকিদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছিলাম। মূলত একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাঝে দালাল সৃষ্টি করেছে। এই দালালরা উস্কানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার নামে কোনো ধর্মীয় সন্ত্রাসী কিংবা ধর্ষণকারীদের আশ্রয় দিতে সীমান্ত খুলে দিতে পারে না সরকার। মিয়ানমারে একজন নারীকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সময়মতো পদক্ষেপ নিলে এ ঘটনা ঘটতো না। মিয়ানমারের জাতিগত দাঙ্গার জন্য জামায়াতকে দায়ী করে তিনি বলেন, মিয়ানমারের এই ঘটনায় জামায়াত ইন্ধন দিচ্ছে। জামায়াত এবং জামায়াতের অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ওই দেশে নাজুক অবস্থা সৃষ্টি করেছে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি অস্থিতিশীল করার অংশ হিসাবে মিয়ানমারকে বেছে নিয়েছে। একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মতো জামায়াতে ইসলামীও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তাদের শাখা আছে। কিছু দিন আগে তাদের নাম ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, নির্বাচন কমিশনে নাম নিবন্ধন করতে নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী রাখতে বাধ্য হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের বরাত দিয়ে আশরাফ বলেন, মিয়ানমার জানিয়েছে এই ঘটনার পেছনে একমাত্র জামায়াতে ইসলাম এবং মৌলবাদী সংগঠনগুলো দায়ী। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল। উলফা, রোহিঙ্গা, তালেবান ও আল-কায়েদাসহ বিশ্বের এমন কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন ছিল না যার শাখা-প্রশাখা বাংলাদেশে ছিল না।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কাউন্সিল করার মধ্য দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহবান জানিয়ে সৈয়দ আশরাফ বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে কাউন্সিল শুরু করুন। আশা করি আগামী দুই মাসের মধ্যে কাউন্সিল শেষ করতে পারবেন। আপনারা শুরু করলে এটার প্রভাব সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। তৃণমূল এলাকার মানুষ উত্সাহ পাবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, আহমদ হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, হাজী মো. সেলিম, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, আসলামুল হক আসলাম এমপি প্রমুখ।
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনকে আরো গতিশীল করা হবে। তবে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলার জন্য নয়, বার বার ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সংগঠন শক্তিশালী করা হবে। বিএনপির সংগ্রাম কমিটি প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, কাকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম কমিটি করা হচ্ছে? যদি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ থাকতে সংগ্রাম কমিটি কেন কোন কমিটি করেই লাভ হবে না।
বর্ধিত সভার শুরুতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সম্মেলন করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা তারিখ ঘোষণা করার সাত দিনের মধ্যেই সম্মেলন আয়োজন সম্ভব।
