তারিখঃ ২ জুলাই ২০১২১৮ আষাঢ় ১৪১৯ ,
সোমবার মাননীয় স্পীকার
২. যেহেতু জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে, আমরা সিদ্ধান- নিই যে, এই বিষয়ে এই সংসদেই বাংলাদেশ সরকারের অবস'ানটি তুলে ধরা উচিত হবে। গত শনিবার (৩০শে জুন) আমি তাৎক্ষণিক প্রতিμিয়া হিসেবে বলেছি যে, বিশ্বব্যাংকের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং সেখানে বাংলাদেশ সরকার যে দুর্নীতির বিরূদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলা হয়েছে সে বক্তব্যটিও সঠিক নয়। গতকাল একটি সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রানি-মূলক প্রচারণার অবসানকল্পে আমি একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখি এবং কিছু চিঠিপত্র প্রকাশ করি।
৩. পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস-াব ২০০৭ সালে একনেক অনুমোদন করে। এবং তখন থেকেই সেতু নির্মাণের প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যায়। এশীয় উনড়বয়ন ব্যাংকের সহায়তায় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই প্রকল্পের নকশা প্রণয়নের কাজ হাতে নেয়। আমাদের সরকার এই প্রμিয়াটি অব্যাহত রাখে এবং জানুয়ারি মাসেই এই নকশা প্রণয়নের জন্য পরামর্শক নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান- নেয় এবং এই কাজটি ফেব্রূয়ারি মাসে শুরূ হয়। বর্ষশেষে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পূর্ণ হয় এবং তখন থেকে এই প্রকল্পের জন্য আমরা উনড়বয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা চাই। ২০১১ সালের প্রথমার্ধেই চারটি উনড়বয়ন সহযোগীর কাছ থেকে ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাহায্যচুক্তি আমরা সম্পাদন করি। ২৮ এপ্রিল, ২০১১ সালে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি সই হয়। ১৮ মে-তে জাপান সরকারের ঔওঈঅ-র সঙ্গে ৪১.৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি, ২৪ মে-তে ওউই-র সঙ্গে ১৪ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি এবং ৬ জুন অউই-র সঙ্গে ৬১.৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন হিসাব করা হয় যে, প্রকল্পের মোট খরচ হবে ২৯০ কোটি মার্কিন ডলার (অথবা তখনকার বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা)।
৪. বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক চলিশ বছরের চেয়েও বেশি। কারণ, স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে থেকে বিশ্বব্যাংক এই অঞ্চলে বিভিনড়ব উনড়বয়ন কার্যμমে সহায়তা দিতে শুরূ করে। ১৯৭২ সালে আমরা বিশ্বব্যাংকের সদস্য হই এবং তখন থেকে জুন, ২০১২ সাল পর্যন- আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে মোট ১৬৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা পাই। ২০১১ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে আমরা কোন এক বছরের জন্য সর্বো‛চ সহায়তা লাভ করি ৩১০ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমানে ৪১টি প্রকল্প এবং কার্যμমের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তার পরিমাণ হলো ৪২৩ কোটি মার্কিন ডলার। এবং এসব প্রকল্প বাস-বায়নের বিভিনড়ব পর্যায়ে রয়েছে। অর্থবছর ২০১২ সালে আমরা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১৫৫ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তার অঙ্গীকার পেয়েছি। বস'তপক্ষে বিশ্বব্যাংক উনড়বয়ন সহযোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলাকালে তাদের সঙ্গে আমাদের মতানৈক্য হয়েছে এবং তর্ক-বিতর্কও বিস-র হয়েছে কিন' শেষ বিচারে বিশ্বব্যাংককে আমরা একটি প্রগতিশীল দাতা সংস'া এবং অন-রঙ্গ সহযোগী হিসেবে পেয়েছি। অনেক সময় বিশ্বব্যাংক আমাদের নানা প্রকল্পের অনেক μয় অথবা খরচ অনুমোদন করে নি এবং নানা প্রকল্পে তাদের সহায়তা কখনও কমিয়ে দিয়েছে অথবা বাড়িয়েও দিয়েছে।
৫. ২০০১ সালে বিশ্বব্যাংক ওহঃবমৎরঃু ঠরপব-চৎবংরফবহঃপু নামে একটি দপ্তর সৃষ্টি করে। তাদের কর্তব্য হ‛েছ বিশ্বব্যাংকের কার্যাবলীতে শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা। তারা কোন বিশ্বব্যাংকের কার্যμমে যদি কোন ধরনের দুর্নীতি থাকে তা অনুসন্ধান করে এবং সেজন্য শাসি-ও প্রদান করে। তারা বিভিনড়ব দরদাতা কোম্পানিকে অনেকবার কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তারা বিভিনড়ব প্রকল্পের দুর্নীতি দেখতে পেয়ে যে দেশে সেই দুর্নীতি হ‛েছ বা হয়েছে তাদের এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলেছে। এছাড়াও তারা বিশ্বব্যাংকের কার্যμম অথবা কর্মকর্তাদের দুর্নীতিরও তদনে-র জন্য দায়িত্ববান। বাংলাদেশে এ পর্যন- তারা ৭টি প্রকল্পে দুর্নীতির আলামত পেয়েছে এবং সে সম্বন্ধে আমি এই সংসদে আমার বাজেট বিষয়ক সমাপনী বক্তব্যে বিবৃত করেছি। এই ৭টি প্রকল্প হলোঃ (১) ঢাকা বাইপাস (কড্ডা-জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর) সড়ক নির্মাণ প্রকল্প; (২) ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প; (৩) নলকা-হাটিকামরূল-বনপাড়া প্রকল্প; (৪) দেবগ্রাম-প্রগতি সরণি সংযোগ সড়ক প্রকল্প; (৫) মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী টোল পাজা প্রকল্প; (৬) μাশ প্রোগ্রামের আওতায় ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের ৩য় পাইলট প্রকল্প; এবং (৭) পোস্ট লিটারেসি এন্ড কন্টিনিউয়িং এ্যাডুকেশন ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প। এইসবগুলো প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয় ঘটে চার দলীয় জোটের শাসনামলে। এইসব প্রকল্পেই তারা বাংলাদেশ সরকারকে দুর্নীতির অনুসন্ধান করে দুর্নীতিবাজদের শাসি- দিতে বলেছে। বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট এই রকম প্রকল্পের সংখ্যা পদ্মা সেতুর আগে ছিল মাত্র ৬টি এবং অন্যটি ছিল জাপানের সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প। এই সবগুলো প্রকল্পের মধ্যে ৬টি প্রকল্পই সড়ক ও জনপথ খাতে। এজন্য তারা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সিদ্ধান- নেয় যে, বাংলাদেশে সড়ক ও জনপথ খাতে তারা কোন সহায়তা দেবে না। আরও বলা উচিত হবে যে, সড়ক ও জনপথ বিভাগে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ব্রিটিশ সাহায্য প্রতিষ্ঠান উঋওউও এই খাতে সহায়তা বন্ধ করে দেয়।
৬. আমরা ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর বিশ্বব্যাংককে তাদের অবস'ান পরিবর্তন করার জন্য অনুরোধ করি এবং বিশ্বব্যাংক ২০১০ সালের শেষ দিকে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এদেশের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, অনেক বিখ্যাত বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশের বিভিনড়ব দরপত্র আহ্বানে সাড়া দিতে বিরত থাকে। এই অবস'ার পরিবর্তন হয় সর্বপ্রথম বিদ্যুৎ খাতে। যখন দেখা গেল যে, এবহবৎধষ ঊষবপঃৎরপ-এর মত খ্যাতনামা কোম্পানি আবার বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আসে। সম্ভবত এই অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়নে এগিয়ে আসে। বিশ্বব্যাংকের আগ্রহ এবং বড় অংকের সহায়তা প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিশ্বব্যাংককে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস-বায়নে উনড়বয়ন সহযোগীদের মধ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখতে অনুরোধ করি। আমরা বিশ্বব্যাংককে এই প্রকল্পের জন্য উনড়বয়ন সমন্বয়কের ভূমিকা না দিয়েও তাকে সমমর্যাদার সব উনড়বয়ন সহযোগীদের মধ্যে খবধফ অমবহপু হিসেবে গ্রহণ করি। এই ব্যবস'ায় সব উনড়বয়ন সহযোগী তাদের সম্মতিও প্রদান করে।
৭. ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে উনড়বয়ন সহযোগীদের আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বাংলাদেশে তাদের সম্মতি নিয়ে মূল সেতুর দরপত্র আহ্বান করে। এই দরপত্র মূল্যায়ন করে আমরা যখন আমাদের সুপারিশ বিশ্বব্যাংকে প্রেরণ করি তখন তারা প্রথমে একটি বিশেষ দরপত্রদাতাকে পুনর্বিবেচনার জন্য পরামর্শ দেয় এবং পরবর্তীতে জানায় যে, সেতুর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন হয়েছে বিধায় নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা উচিত হবে। এই প্রকল্পের জন্য উনড়বয়ন সহযোগী ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে পরামর্শ করে রেইক পাইলিং প্রযুক্তি গ্রহণের পক্ষে অভিমত দেয়। এই কারণে তাদের পরামর্শ আমরা গ্রহণ করে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে নতুন ডিজাইনে অভিজ্ঞতার শর্ত দিয়ে আমরা দরপত্র পুনরাহ্বান করি। বিশ্বব্যাংকে ২০১১ সালের মার্চ মাসে এই দরপত্র মূল্যায়ন করে আমরা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাকযোগ্য নির্দিষ্ট করে সুপারিশ পাঠাই। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে অনাপত্তি জ্ঞাপন না করে ঈজঈঈ নামক একটি চীনা কোম্পানিকে প্রাকযোগ্যতায় গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করার জন্য আমাদের তিন তিন বার পরামর্শ দেয়। এই পরামর্শ আমাদের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি গ্রহণ করলো না এবং সেতু বিভাগ অনুসন্ধান করে জানলো যে, ঈজঈঈ কখনো পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করে নি। এবং ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল লিঃ নামক তাদের বাংলাদেশী সহযোগী এই বিষয়ে জালিয়াতি করেছে। এই জালিয়াত প্রতিষ্ঠান চীনে একটি দপ্তর স'াপন করে সেখান থেকে ঈজঈঈ এর নামে পুনর্বিবেচনার আবেদন করে। ঈজঈঈ এই তথ্য জানার পর লিখিতভাবে জানিয়ে দেয় যে, তারা এই কাজের জন্য আগ্রহী নয়। একই সাথে তারা ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল লিঃ-কে তাদের সহযোগী হিসেবে বরখাস- করে। ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনালের কর্তাব্যক্তি এই মুহূর্তে দেশ পালিয়ে আছে। বিশ্বব্যাংক ঈজঈঈ-র অভিযোগ যথাযথ পরীক্ষা না করেই এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বার বার পরামর্শ দেয়ার ফলে প্রকল্প বাস-বায়ন প্রায় তিন মাস পিছিয়ে যায়। আমরা জানি না যেসব ব্যক্তি এই জালিয়াতির সঙ্গে সংশিষ্ট ছিলেন তাদের বিরূদ্ধে বিশ্বব্যাংক কোন ব্যবস'া নিয়েছে কি-না।
৮. এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাংকের ওহঃবমৎরঃু দপ্তরের ২ জন কর্মকর্তা ঢাকায় এসে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে তদন- করেন। কতিপয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক আলোচনায় তারা যোগ দেন এবং সেখানে অত্যন- অশোভন গুজব রটানোর সূত্রপাত করেন। এই আসরে হাওয়ার্ড ডিন নামক একজন কর্মকর্তা কোন সম্মানিত ব্যক্তিবিশেষের সম্বন্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এতে আসরে উপসি'ত একজন সদস্য শক্তভাবে প্রতিবাদ করেন এবং তাকে এরকম রটনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন। তিনি তাকে তার বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ দিতেও চ্যালেঞ্জ করেন। অবশেষে বিশ্বব্যাংকের এই কর্মকর্তা তার মন-ব্য প্রত্যাহার করেন এবং সেজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আমরা এই বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাংককে জানাই। কিন' আমরা আজও জানি না বিশ্বব্যাংক এ ব্যাপারে কোন যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছেন বা তদন- রূজু করেছেন।
৯. আগস্ট মাসে বিশ্বব্যাংক আমাদের অনানুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, সেতু নির্মাণের পর্যবেক্ষক পরামর্শক নিযুক্তির জন্য যে দরপত্র আহ্বান করা হয় সেখানে এসএনসি-লাভালিন নামক একটি কানাডীয় প্রতিষ্ঠান দরপত্র পেশ করে। তাদের বিরূদ্ধে কানাডায় তদন- হ‛েছ এবং সে জন্য এবং অন্যান্য কারণেও তারা আপাতত পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস-বায়নের কাজ স'গিত রাখতে চায়। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি বিশ্বব্যাংকের এশিয়া বিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে একটি ঝটিকা সফরে আসেন এবং আমাদের জানান যে, তাদের তদনে- শুধু নির্মাণ কাজের পরামর্শক নয়, নির্মাণ কাজের প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের বিষয়েও কিছু অনিয়ম প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, এবিষয়ে বিশদ প্রতিবেদন তারা অচিরেই আমাদের কাছে পাঠাবেন। সেই সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট অত্যন- গোপনীয়ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আমাকে এই সংকট থেকে উত্তরণের একটি প্রস-াবও প্রদান করেন।
১০. আমি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাতে অংশগ্রহণের জন্য ওয়াশিংটনে যাই এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্ক যান। তখন ২১ সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিশ্রূত চিঠি এবং তৎসঙ্গে একটি প্রতিবেদনও আমার কাছে হস-ান-র করেন। আমি তাদের মৌখিকভাবে জানাই যে, এবিষয়ে আমাদের প্রতিμিয়া ঢাকায় ফিরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আমরা বিশ্বব্যাংককে জানাবো। আমি আরও বলি যে, আমার মনে হয় আমরা বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে তদনে-র জন্য পাঠাবো এবং একইসঙ্গে দুর্নীতিতে লিপ্ত এসএনসি-লাভালিনকে কালো তালিকাভুক্তও করতে পারি।
১১. ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সংশিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে আমি তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগটি তদনে-র জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠিয়ে দিই। পরে জানতে পারি যে, দুর্নীতি দমন কমিশন নিজে থেকেই পদ্মা সেতুর ব্যাপারে জুলাই মাসে যখন কিছু দুর্নীতির অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায় তখন থেকেই এই প্রকল্পে দুর্নীতির তদন- শুরূ করে। আমরা তখন বিবেচনা করলাম যে, ২০০৫ সাল থেকে ওহঃবমৎরঃু দপ্তর যেসব তদন- রূজু করেন সেখানে তারা কখনও প্রকল্প বাস-বায়নের কাজ স'গিত রাখেন নি বরং সমান-রালভাবে তদন- প্রμিয়া ও বাস-বায়ন প্রμিয়া বহাল রেখেছেন। তাই আমি অক্টোবর মাসের ১৮ তারিখে বিশ্বব্যাংককে জানাই যে, আমরা তাদের অভিযোগের তদন- শুরূ করেছি এবং এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ওহঃবমৎরঃু দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই চিঠিতে আমি প্রস-াব করি যে, তদনে-র কাজ ও বাস-বায়নের কাজ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হোক। আমি সেখানে বাস-বায়নের কাজ এগিয়ে দেওয়ার জন্য কয়েকটি সুপারিশ রাখি। যথা- (১) ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ইতোমধ্যে জাজিরা থেকে এ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের জন্য আমাদের ঠিকাদার নিযুক্তির প্রস-াব অনুমোদন করেছে বিধায় আমরা সেই চুক্তিটি সম্পাদন করি; (২) যেহেতু উনড়বয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাকযোগ্যতা অনুমোদন করেছেন সেজন্য আমরা নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করি; (৩) মাওয়া থেকে এ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও নদী শাসনের বিষয়ে প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণ করা হোক যাতে আমরা এই দু'টি কাজের জন্যও দরপত্র আহ্বান করতে পারি; (৪) নির্মাণ কাজের পরামর্শক নিযুক্তির জন্য আমরা এসএনসি-লাভালিনকে বাদ দিয়ে হয় অন্যদের থেকে প্রাকযোগ্য তালিকা প্রণয়ন করি অথবা নতুন করে দরপত্র আহ্বান করি।
১২. আমার এই প্রস-াব পাঠাবার আগেই আমাদের একজন প্রতিনিধি ওয়াশিংটনে গিয়ে কিভাবে দুর্নীতির সম্ভাবনা দূর করা যায় সে সম্বন্ধে বিশ্বব্যাংকের উ‛চপদস' কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। আমাদের এই প্রতিনিধি বিশ্বব্যাংকের একজন ম্যানেজিং ডিরেক্টর, দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং আরও বিভিনড়ব ব্যক্তির সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা করেন। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের গোপনীয় অনানুষ্ঠানিক প্রস-াব বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেতু বিভাগে নতুন নেতৃত্ব দেয়ার ব্যবস'া গ্রহণ করেন। প্রথমে প্রকল্প পরিচালকের চুক্তি সমাপ্ত করে দেয়া হয়। তারপর সচিবকে অন্যত্র পদায়ন করে নতুন সচিব নিয়োগ দেয়া হয়। সর্বশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগের মাধ্যমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। বিশ্বব্যাংকের ব্যবস'াপনায় নিযুক্ত শীর্ষ সদস্যবৃন্দ আমাদের এইসব পদক্ষেপ সম্বন্ধে অবহিত হলেন এবং আমাদের প্রস-াব নিয়ে আলোচনা করলেন। তারা জানলেন যে এবিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্বব্যাংকের অবস'ান তারা আমাদের জানাবেন। পরবর্তীতে তারা তাদের প্রতিμিয়া হিসেবে ব্যক্ত করলেন যে, আমাদের প্রস-াবটি এবং অন্যান্য পদক্ষেপ বিশ্বব্যাংককে সন'ষ্ট করতে পারে নি এবং তারা পরামর্শ দিলেন যে, কানাডীয় তদন- শেষ হওয়া পর্যন- পদ্মা সেতুর কাজ স'গিত থাকবে। তারা আরও উপদেশ দিলেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন- কার্য বহাল থাকুক।
১৩. কিছুদিন পরে ২০১২ সালের ফেব্রূয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন সেতু নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বিবেচনার বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংকে পাঠিয়ে দেন। তারা এই দরপত্র গ্রহণে এবং মূল্যায়নে কোন দুর্নীতির আলামত পান নি বলে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেন। বিশেষ করে এই দরপত্র মূল্যায়নে অভিযুক্ত সাকো কোম্পানির কোন সম্পৃক্ততা তাদের তদনে- প্রতিভাত হয় নি বলে তারা জানালেন। বিশ্বব্যাংক তখন এই বিষয়ে আরও অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে উপদেশ দেয়। কিন' এ ব্যাপারে তাদের কাছে যে সাক্ষী-সাবুদ আছে সে সম্বন্ধে কোন তথ্য দিতে তারা তাদের প্রথা অনুযায়ী অস্বীকৃতি জানায়। আমাদের ধারণা ছিল যে, আমরা সেতু নির্মাণের জন্য যেসব পরিবর্তিত ব্যবস'া ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছি সেটাই সম্ভাব্য দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট ছিল। বলে রাখা ভাল যে, আমাদের এই বিষয়ে যে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি আছে তার সভাপতি হলেন অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং অন্যান্য সদস্যরা সকলেই তাদের দক্ষতা এবং সুনীতির জন্য সারাদেশে এবং বিদেশে বিখ্যাত। তাদের উপর কোন ধরনের প্রভাব বিস-ারের নিদর্শন আমরা এখনও খুঁজে পাই নি।
১৪. ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন- আমাদের বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকে এবং সেই আলোচনা ঢাকায়, ওয়াশিংটনে এবং অন্যত্র যেখানে বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের মোলাকাত হয়েছে তার সর্বত্র চলতে থাকে। আমাদের কোন প্রস-াবই বিশ্বব্যাংকের সভাপতি কোন সময়েই আমলে নেন নি বলে আমার বিশ্বাস। এপ্রিল মাসে আমাদের একজন প্রতিনিধি আবার ওয়াশিংটনে এবিষয়ে আলোচনার জন্য গমন করেন। অন্যান্য কাজে ব্যস- থাকার কারণে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার মোলাকাত হলো না। কিন' বিশ্বব্যাংকের অন্যান শীর্ষ ব্যবস'াপনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি আলোচনা চালিয়ে যান। এপ্রিল মাসের ৯ তারিখে বিশ্বব্যাংক আমাদের জানায় যে, কানাডায় তদন- চূড়ান- পর্যায়ে আছে এবং তারা এসএনসি-লাভালিনের দুই জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে। তাদের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তিনি কোন বিশিষ্টজনের মাধ্যমে (যার পরিচয় আমাদের জানানো হয় নি) অঙ্গীকার করেছেন যে, যদি তাদের প্রতিষ্ঠান সেতু নির্মাণ পরামর্শক হিসেবে নিযুক্তি পান তাহলে তিনি বাংলাদেশের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিকে কমিশন দেবেন। কানাডীয় কর্তৃপক্ষ এই কর্মকর্তার ডায়েরি বাজেয়াপ্ত করে সেখানে এই রকম একটি বিবৃতি পান। তার এই তালিকাটিকে প্রকাশ করা আমার মতে কতিপয় ব্যক্তির চরিত্র হননের একটি উদ্যোগ হবে এবং সে জন্য আমি তা কখনও প্রকাশ করি নি। এই তালিকায় রাজনীতিবিদ, অন্যান্য ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা কয়েকজনের নাম আছে। ডায়েরিতে একটি লেখা আমার মতে তখনই বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য হবে যখন এর স্বপক্ষে অন্য উপায়ে নিশ্চিত করা যাবে যে এইটি একটি কল্পনার ফানুস অথবা আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা নয়। আমি মনে করি যে এই সারাটি বিষয় হ‛েছ সম্ভাব্য দুর্নীতি নিয়ে যাকে বিশ্বব্যাংক "দুর্নীতির ষড়যন্ত্র" বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমরা এই ষড়যন্ত্রের কোন তথ্য পাওয়ার আগেই এসএনসি-লাভালিনের বিরূদ্ধে যখন অভিযোগ উঠে তখনই তাদের কালো তালিকাভুক্ত করতে চেয়েছি। সেই হিসেবে কোন দুর্নীতিবাজকে সুুরক্ষা দেওয়ার কোন উদ্দেশ্য আমাদের আছে বলে অভিযোগ করা অনুচিত হবে। বলে রাখা ভাল যে, দুর্নীতি দমন কমিশন এই বিষয়ে তাদের তদন- অব্যাহত রেখেছেন এবং এই বিষয়ে অধুনা কানাডীয় কর্তৃপক্ষেও সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তারা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ঋণচুক্তি বাতিল হলো কি-না সেদিকে নজর না দিয়ে তারা তাদের তদন- চালিয়েই যাবেন। ১৪. জুন মাসের শুরূতে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল আমাদের আহ্বানে ঢাকায় এসে আমাদের সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ, বিশেষ করে প্রকল্প বাস-বায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। এই আলোচনায় আমরা আবারও বলি যে, দুর্নীতি তদন- এবং প্রকল্প বাস-বায়ন এই দু'টি বিষয়কে আলাদা করা দরকার। অতঃপর আমরা প্রকল্প বাস-বায়নে কি করে দুর্নীতি পরিহার করা যায় সেই বিষয়ে মোটামুটিভাবে একটি পদ্ধতির বিষয়ে ঐক্যমত হই। এখানে আমরা প্রকল্প বাস-বায়নের বিভিনড়ব পর্যায়ে এবং বিশেষ করে μয় প্রμিয়ায় স্ব‛ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য উনড়বয়ন সহযোগীদের বিশেষ ভূমিকা রাখার ব্যবস'া গ্রহণের সুপারিশ করি। এই আলোচনার পর বিশ্বব্যাংকের তরফ থেকে একটি চিঠিতে কতিপয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমাদের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে আগেই কিছু কিছু তথ্য প্রকাশিত হয় এবং বিশ্বব্যাংকের ৩০ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে তা তুলে ধরা হয়েছে।
১৫. এই চিঠিতে তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। যথা- (১) যেসব সরকারি কর্মকর্তা সম্বন্ধে এসএনসি-লাভালিন কর্মকর্তার ডায়েরির ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের ছুটি দেয়া; (২) দুর্নীতি দমন কমিশনে এই তদনে-র জন্য বিশেষ টীম গঠন করা; এবং (৩) তদনে-র সর্ববিষয়ে বিশ্বব্যাংকের নিয়োজিত একটি প্যানেলকে অবহিত রাখা এবং তাদের উপদেশ গ্রহণ করা। এই প্রস-াবগুলোতে সমস্যা হ‛েছ যে, আমরা কোন কিছু প্রমাণিত হওয়ার আগেই দুর্নীতির অপরাধ স্বীকার করে নি‛িছ। সেজন্য তাদের প্রস-াবে রাজি না হয়ে আমরা বিভিনড়ব উপায়ে তাদের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করি। তাদের দুই নম্বর প্রস-াবের কোন প্রয়োজনই ছিল না যেহেতু দুর্নীতি দমন কমিশন এইজন্য অনেক আগেই তাদের তদন- টীম গঠন করেছেন। তাদের তিন নম্বর পরামর্শ দুর্নীতি দমন কমিশনের যেসব আইন-কানুন রয়েছে তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনানুগভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়বদ্ধ নয় এবং তাদের নিজস্ব টীমকে কোন বিদেশি প্যানেলের তত্ত্বাবধানে তারা রাখতে পারে না। তবে উনড়বয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে যেসব কাজ বা μয়ের চুক্তি হয় সেগুলো সবসময়ই তাদের সম্মতি নিয়েই সম্পাদন করা হয়। তাই দুর্নীতি দমন কমিশন এইসব বিষয়ে যখন তদন- করে তখন এইসব বিষয়ে সব তথ্য উনড়বয়ন সহযোগীদের দিতে পারে এবং তাদের পরামর্শ বা নির্দেশ বিবেচনা করতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন এই বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করে একটি পন'া উদ্ভাবন করে। তারা কিভাবে তথ্য সরবরাহ করবেন, কিভাবে বিভিনড়ব পরামর্শ বিবেচনা করবেন এবং কিভাবে তদনে- উনড়বয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্তি সম্ভব করবেন সেই ব্যবস'াটি নিয়ে তারা একটি সমঝোতা চিঠি বিশ্বব্যাংককে দিতে রাজি হন। তাদের মূল কথা হ‛েছ যে, উনড়বয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে তারা পরামর্শ পাবেন এবং উনড়বয়ন সহযোগীদের সমস্ত তথ্য সরবরাহ করবেন। সুতরাং সেখানে উনড়বয়ন সহযোগীদের প্যানেল উনড়বয়ন সহযোগীদের নির্দেশে তাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন কিন' নির্দেশনা সব উনড়বয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অথবা তাদের সমন্বয়কের কাছ থেকে পেতে হবে। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশন এই বিষয়ে তাদের অবস'ান জনসম্মুখে হাজির করেছেন।
১৬. আমি মনে করি বিশ্বব্যাংক যে বিজ্ঞপ্তিটি দিয়েছেন তাতে এই দেশটাকে অপমান করা হয়েছে এবং তারা যে অপবাদটি দিয়েছেন তার কোন যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তারা যে বলেছেন বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতি পরিহারের জন্য যথাযথ ব্যবস'া নেন নি সেটাও সঠিক নয়। আমি মনে করি যে, আমরা আমাদের রূটিন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে অত্যন- নমনীয়ভাবে বিশ্বব্যাংকের সব সুপারিশ বিবেচনা করেছি। আমরা অনেক বিষয়ে উনড়বয়ন সহযোগীদের পক্ষে বিশ্বব্যাংককে প্রকল্প বাস-বায়ন পদ্ধতিতে এবং দুর্নীতির তদনে-অংশগ্রহণ করার ব্যাপক সুযোগ দেবার প্রস-াব করেছি। এবং আমরা এই বিষয়ে অন্যান্য উনড়বয়ন সহযোগীদের সবসময়ই অবহিত রেখেছি এবং আমাদের পদক্ষেপ সম্বন্ধে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আমরা বিশ্বব্যাংকের অন্যান্য প্রভাবশালী সদস্যদের সাথেও অব্যাহতভাবে আলোচনা চালিয়ে যা‛িছ। বিশ্বব্যাংক আমাদের সঙ্গে দুর্নীতি নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করতে চেয়েছেন। আমার কাছে এটি অপমানজনক মনে হয়েছে। পরিবর্তে আমি জানিয়েছি যে, যেভাবে উনড়বয়ন সহযোগীদের সাথে চিঠি লেনদেনের মাধ্যমে সমঝোতা হয় এক্ষেত্রেও সেটি হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, বিশ্বব্যাংকের ব্যবস'াপনার যারা শীর্ষে রয়েছেন তারা জানেন যে আমাদের দুর্নীতি দমনের প্রচেষ্টা যে কোন ক্ষেত্রেই কম ছিল না। সম্ভবত বিশ্বব্যাংকের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জনাব রবার্ট জুয়েলিক তার মেয়াদকালে বিষয়টির সুরাহা করার উদ্দেশে একটি অপরিণামদর্শী সিদ্ধান- নিয়েছেন - যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিশেষভাবে বিপর্যস- করেছে। আমি সবসময়ই আশাবাদী মানুষ এবং আমার বিশ্বাস বিশ্বব্যাংক এই সিদ্ধান-টি পুনর্বিবেচনা করবেন। আমি আরও মনে করি যে অন্যান্য উনড়বয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান- এবং বিজ্ঞপ্তি বিশেষভাবে বিশেষণ করে এই প্রকল্পের বিষয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্বব্যাংকে আমাদের নির্বাহী পরিচালক এই বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা চালিয়ে যা‛েছন। এই প্রকল্পের অন্যান্য অর্থায়নকারীদের সঙ্গে আমরা ইতোমধ্যেই আলোচনার ব্যবস'া করেছি।
১৭. আমি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের যেসব গুরূত্বপূর্ণ পত্রালাপ হয়েছে সেগুলো সবই উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কিন' তদনে-র খাতিরে এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি তাদের চিঠিপত্র প্রকাশ করি নি। প্রাসঙ্গিকভাবে যেসব বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে ভ্রানি-মূলক তথ্য এসেছে তা শুধু শুধরিয়েছি। আমার উদ্দেশ্য হ‛েছ এই বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের উদ্বেগ ও ঔৎসুক্য নিরসন করা। আজকে জাতীয় সংসদে যে বক্তব্য আমি রাখছি তার প্রধান উদ্দেশ্য হ‛েছ একটি বিশেষ সংকট সম্বন্ধে জনপ্রতিনিধিদের এবং সারা জাতিকে আমাদের অবস'ানটি প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরা। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হ‛েছ যে, বিশ্বব্যাংক যেভাবে চুক্তিটি বাতিল করেছেন সেটি যথাযথ হয় নি এবং তাদের বিজ্ঞপ্তি জাতি হিসেবে আমাদের অপবাদ দিয়েছে। আমি মনে করি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক দিনের এবং এটি অত্যন- গুরূত্বপুর্ণ এবং আমাদের জন্য মূল্যবানও বটে। বিশ্বব্যাংক অসমর্থিত বা অসম্পূর্ণ অভিযোগের ভিত্তিতে একটি দেশকে এভাবে অপবাদ দিতে পারে না বা সেদেশের জনগণের মর্যাদাহানি করতে পারে না। আমরা যে কোন মুহূর্তে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত হব বলে আমি আশা রাখি। আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, এই অর্থবছরে আমরা পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করবো, ইনশালাহ।
জয় বাংলা,
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
