Elektronik Sigara ১৫ আগস্ট-জাতীয় শোক দিবস

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

১৫ আগস্ট-জাতীয় শোক দিবস
যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি
15_august_final-2010১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের প্ররোচনায় মানবতার দুশমন, ঘৃণ্য ঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ বেদনাবিঁধূর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস স্মরণ ও পালন করছে; যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিশু, নর-নারী, আবালবৃদ্ধবনিতা, সর্ব শ্রেণী-পেশার শোকাহত মানুষের ঢল নামছে। সমগ্র জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি, রাষ্ট্রপিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যবর্গকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গের নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্য সম্পন্ন হয়েছে। মানবতার শত্রু ঘৃণ্য নরপিচাশ পাঁচ আত্মস্বীকৃত খুনির ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে। বিদেশে পলাতক বাকি খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। যারা এক সময় নিজেদের বিচারের ঊর্ধ্বে ভেবেছিল এবং তাদের কেউ কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবে না বলে দম্ভ করেছিল; এই বিচার ও দণ্ডাদেশ কার্যকর করার ভেতর দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে বাংলার মাটিতে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যে যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, ইতিহাসের অমোঘ বিধানানুযায়ী শাস্তি লাভ থেকে খুনিরা কেউই রেহাই পাবে না। এছাড়াও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার পাশাপাশি হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি চালু হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে বন্দুকের নল উঁচিয়ে সংবিধান পদদলিত করে অবৈধ পথে ক্ষমতা দখল ও দখলিকৃত ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য সংবিধান পরিবর্তনের অশুভ ধারা সূচিত হয়েছিল। তা চিরতরে রদকল্পে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে মহান জাতীয় সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির চির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটনো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে উদ্ভাসিত হয়ে সংবিধান থেকে অপরাজনীতির অগণতান্ত্রিক স্বৈর ধারাকে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতিগত কলঙ্ক মোচনের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধী, জাতিদ্রোহী, দেশদ্রোহী, স্বদেশের মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে ভিনদেশী ঔপনিবেশিক দখলদারদের পক্ষাবলম্বলনকারী অর্থাৎ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী '৭১-এর নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য চলছে।

উল্লিখিত পটভূমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহতী আদর্শ তথা শ্রেণী, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গরিব, দুঃখী সাধারণ সকল মানুষের উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা বিধানের জন্য সুখী-সমৃদ্ধ প্রগতিশীল অসামপ্রদায়িক গণতান্ত্রিক আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর রক্তঋণ পরিশোধে বাঙালি জাতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকীতে আমাদের সকলের সম্মিলিত শপথ হোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের নিমিত্তে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা গৃহীত দিনবদলের কর্মসূচি তথা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও প্রগতির পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি
১৫ আগস্ট ২০১২ বুধবার
সূর্য উদয় ক্ষণে-বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন।
সকাল ৬টা ৩০ মি. -ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত জাদুঘর প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাননীয় প্রধনামন্ত্রী কর্তৃক পুষ্পস্তবক অর্পণ, সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক গার্ড অব অনার প্রদান, মোনাজাত অনুষ্ঠানে যোগদান এবং শ্রদ্ধা নিবেদন। (ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনের সম্মুখে আগমন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন)।
সকাল ৭টা ৩০মি.-বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল।
সকাল ১০টা-টুঙ্গীপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত।
সকাল ১১টা-টুঙ্গীপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি প্রাঙ্গণে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল।
টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, কাজী জাফর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য শেখ হারুন অর রশিদ, বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, শ্রী বিপুল ঘোষ ও একেএম এনামুল হক শামীম প্রমুখ উপসি'ত থাকবেন।
-টুঙ্গীপাড়ায় চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচিতে তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপসি'ত থাকবেন।
সকাল ১১টা ৩০ মি.-বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
বাদ আছর-দেশের সর্বত্র মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও ইফতার।
-মন্দির, প্যাগোড়া ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা।
১৬ আগস্ট ২০১২ বৃহস্পতিবার
অপরাহ্ন ২টা ৩০ মি.-আলোচনা সভা। স্থান : বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র।
-আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি।
-সভায় সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি।
-আলোচনায় অংশ নেবেন : জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ।
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের আহ্বান
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ আগামী ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে পালন করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাসমূহের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার জন্য বিনীত অনুরোধ জ্ঞাপন করেছেন।

অনলাইন রেডিও

You are here চলতি খবর ১৫ আগস্ট-জাতীয় শোক দিবস