Elektronik Sigara সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই, সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই, সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
২০ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৫ আশ্বিন ১৪১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মহাজোট সরকারের অধীনে যে কোন ধরনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করার মত গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেশে ফিরে এসেছে। ফলে, এজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কোন প্রয়োজন নেই। তিনি গতকাল সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা সরকারে আসার পর ইউনিয়ন, পৌর, সিটি কর্পোরেশন, উপনির্বাচনসহ ৬ হাজারের কাছাকাছি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।'

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আর কখনো হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হবিগঞ্জের আসনটি বছরের পর বছর ধরে আওয়ামী লীগের ছিল। কিন্তু এবারের উপনির্বাচনে মাত্র ১২শ' ভোটে আওয়ামী লীগ হেরেছে। আমরা এই ভোটকে উল্টে দিতে চেষ্টা করিনি। তিনি বলেন, 'জনগণের ভোট চুরি করা আমাদের নীতি নয়। জনগণ চাইলে আমরা আছি না চাইলে নাই। এটাই আমরা বিশ্বাস করি।'

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কিত সরকারি দলের মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিকের মূল প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার যে কোন মানুষের কথা বলার অধিকার আছে। যারা এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করছেন তারা যদি সেই সময়ের (এক এগারো) অভিজ্ঞতা ভুলে যান তাহলে আমাদের কি করার আছে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর সবার দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের। এখন যারা দাবি করছেন সেটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে মনে রাখতে হবে যে, ওয়ান ইলেভেনের মত ঘটনা ঘটলে তারাও গণতান্ত্রিক অধিকার হারাবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে যারা সেই সময় সারেন্ডার করেছেন কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে হাত মিলিয়েছেন তাদের কথা আলাদা।

শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কখন কিভাবে নির্বাচন হবে তা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা ২৩ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী কমিশন যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট বিধায় সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনের সকল স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণের বিধান সমুন্নত রাখার জন্য সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬ সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে।

দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র"য়ারি বিএনপি সরকার একটি বিতর্কিত নির্বাচন করে। যে নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দল ও বাংলাদেশের মানুষ বর্জন করেছিল।

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালে নির্বাচনের পূর্বে ২০ মে তারিখে সেনা অভ্যুত্থান হয়েছিল এবং তা সফল না হওয়ায় গণতন্ত্র রক্ষা পায় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে ইয়াজউদ্দিন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায়ই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদ গ্রহণ করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনের প্রচেষ্টা নেন।

এর আগে ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিনেই ১৩ জন সচিবকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করে এবং প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন করে। বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সমগ্র দেশে হত্যা, খুন ও নির্যাতন চালায় কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করার পর সেনা সমর্থনে তত্তাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। তারা তিন মাস অর্থাৎ ৯০ দিনের স্থলে প্রায় দু'বছর ক্ষমতায় থেকে যায়। এ সময় সকল পেশার শ্রেণীর মানুষের ওপর তারা নির্যাতন চালাতে থাকে।

শেখ হাসিনা বলেন, এসময় দল ভাঙ্গা ও নতুন দল গড়ার খেলাও শুরু হয়। এ অবস্থায় জনগণ দেশে-বিদেশে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। দেশের ভেতরের ও আন্তর্জাতিক চাপে ফখরুদ্দীন সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সোনালী ব্যাংক কেলেঙ্কারি অতীতে ক্ষমতাসীনদের অপকর্মের ধারাবাহিকতা । নবম জাতীয় সংসদের ১৪তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি আরো বলেন, 'অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা যে সব অপকর্ম করে গেছে তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। আমরা কোন কিছু ধামাচাপা দিচ্ছি না। জানার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করবে। সে ব্যবস্থা হয়েছে।'
শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে সামরিক শাসনামলে ঋণখেলাপীর কালচার শুরু হয়। তিনি বলেন, মানিলন্ডারিংয়ের সাথে কারা জড়িত দেশবাসী তা জানে। বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান মানিলন্ডারিংয়ের সাথে জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
তিনি প্রশ্ন করেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত সোনালী ব্যাংকের এমডি কে? - তিনি তো জিয়া পরিষদের নেতা ছিলেন। এদের অতীত ইতিহাস দেখলে বোঝা যাবে গোড়াটা কোথায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোন জায়গায় কোন অনিয়ম দেখলে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। এ বিচারও আমরা করবোই।
বিরোধী দলের নেত্রী কালো টাকা সাদা করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, আইনের প্রতি তার কোন শ্রদ্ধা নেই। জিয়া অরফানেজ মামলায় তিনি কোর্টে হাজিরা দেন না। উনি যদি দুর্নীতি নাই করে থাকেন আর এতিমদের টাকা না খেয়ে থাকেন তাহলে মামলার মুখোমুখি হতে ভয় কেন? মামলা মোকাবেলা না করায় প্রমাণ হচ্ছে তিনি দুর্নীতি করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র সুসংহত করতে চাই। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। বর্তমান সরকারের আমলে ৬ হাজারের বেশি নির্বাচন হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বিএনপি'র আমলে মাগুরা এবং ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনের কথা তুলে ধরে বলেন, সবার মনে আছে কিভাবে তারা ভোট চুরি করেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় উপ-নির্বাচন কিভাবে হয়েছিল এবং বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে কিভাবে হচ্ছে জনগণের তা মনে রাখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে নির্বাচনী ওয়াদা দিয়েছিলাম তার চেয়ে বেশি পালন করেছি। মানুষের জীবনে আমরা স্বস্তি এনে দিয়েছি। আমরা যখন সরকার গঠন করি মুদ্রাস্ফীতি ডবল ডিজিটে ছিল। আমরা সেটি কমিয়ে এনেছি। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা সত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১২ লাখ ফেয়ার প্রাইস কার্ড বিতরণ করেছি। হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ভিজিএফ, ভিজিডি ও জিআর কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে সারাদেশে ১ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমান রেশন, ওএমএস এবং অন্যান্য বিতরণ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য সংগ্রহের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য মজুদ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত তিন বছরে সরকারি খাদ্য গুদামগুলোর ধারণ ক্ষমতা ২ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি করে ১৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৫২৫ মেগাওয়াট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছিল ৩৩টি। অন্যদিকে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে ৭৯টি।
তিনি বলেন, গ্যাস সংকট নিরসনের জন্য এ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ এবং গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে 'গ্যাস উন্নয়ন তহবিল' গঠন এবং 'নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা' ও 'গ্যাস উন্নয়ন নীতিমালা' প্রণয়ন করা হয়েছে।
গত তিন বছরে গ্যাসের উত্তোলন ৪০৫ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্দি করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ২০ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ২৪টি গ্যাস ক্ষেত্র থেকে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে। ২০১৩ সাল নাগাদ আরো ১ হাজার ২৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে মোবাইল মানি অর্ডার সার্ভিস এবং ক্যাশকার্ডের প্রচলন করা হয়েছে। ৮ হাজার গ্রামীণ পোস্ট অফিস এবং ৫০০টি উপজেলা ডাকঘরকে 'ই-সেন্টার'-এ রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নেয়া বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন কর্মসূচির ফলে দেশে দারিদ্রের হার কমেছে, আয়ের বৈষম্য হ্রাস পেয়েছে; বেড়েছে শ্রমের মূল্য। দারিদ্রের হার গত সাড়ে তিন বছরে প্রায় ১০ ভাগ কমে বর্তমানে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৮৯৬টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ৪২৪ একর খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। রাজধানীর ছিন্নমূল বস্তিবাসী ও নিম্নবিত্তদের জন্য ভাষানটেকে সরকারি জমিতে ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রসূতি ও নবজাতকের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে ৬ মাসে উন্নীত করা হয়েছে। ১ লাখ ৬৬ হাজার শ্রমজীবী শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ পেশা থেকে সরিয়ে এনে মৌলিক শিক্ষা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এবারে রমজান মাসে মহিলারা গভীর রাতে বাজার করেছেন। কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়াতে এটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও তিনি সরকারের সাড়ে তিন বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

অনলাইন রেডিও

You are here চলতি খবর সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই, সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা