ডিজিটাল বাংলাদেশ

Digital Bangladesh

২০০৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ ২০২১ সালের মধ্যে প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। গত ৭ বছরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। তথ্য ও প্রযুক্তির সব খাতে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে।

২০০৬ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ লক্ষ, যা জুলাই ২০১৬ সালে বেড়ে হয়েছে ৬.৪ কোটি। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠীকে ইন্টারনেটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। ২০০৬ সালে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি, যা ২০১৬ এর জুলাই এ হয়েছে ১৩.১৩ কোটি। থ্রি জি মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সারাদেশে দেওয়া হচ্ছে, সরকার আগামী বছর এর মধ্যে ফোর জি নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে ৭৫ হাজার তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে আইসিটি বিভাগ ট্রেনিং দিয়েছে। সারাদেশের ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ল্যাব করে দেওয়া হয়েছে। ২৪,১২২ জন শিক্ষককে তথ্য প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা দান করতে পারেন।

আইটি খাতে বিশ্বায়নের সাথে পাল্লা দেয়ার লক্ষ্যে হাইটেক পার্ক ও সফটওয়ার শিল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০১৫ সালে দেশের প্রথম সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপিত হয়। ২০১৬ এর জুলাই এ দেশের প্রথম আইটি ইনকিউবেশন সেন্টার চালু হয়, যা তত্ত্বাবধান ও সাহায্যের মাধ্যমে ১ লাখ নতুন আইটির চাকরি তৈরি করতে পারবে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের আইসিটি খাতে রপ্তানি আয় ছিল ২.৬ কোটি ডলার, যা ২০১৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ডিজিটাল ব্যাংকিং এর পথিকৃৎ হিসাবে কাজ করছে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত ২৯টি ব্যাংক এই সেবা দেবার অনুমতি পেয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং এর দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ গড়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালে এই খাতে ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ইউএসএইড মন্তব্য করেছে, ‘বাংলাদেশ এ দ্রুত বৃদ্ধিশীল মোবাইল অর্থনৈতিক সেবা রয়েছে যা এই খাতে সারা বিশ্বের মোট লেন দেনের শতকরা ৮ শতাংশ’।

মোবাইল সেবার নিরাপত্তার জন্য সরকার বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের জন্য বিশাল প্রচারণা কর্মসূচী গ্রহণ করে। ১০০ মিলিয়ন এর বেশি সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়, নতুন সিম কেনার সময় রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়।

দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ এর নির্মাণ কাজ চলছে, যা ২০১৭ এর ডিসেম্বরে শেষ হবে। এটি বছরে বাংলাদেশের ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় এর পাশাপাশি স্যাটেলাইট ভাড়া দেবার মাধ্যমে অর্থ আয়ের ও সুযোগ করে দেবে। নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ এর জন্য দেশটি তাদের ২য় সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক এ যুক্ত হয়েছে যার কাজ শেষ হবে ২০১৬ এর মধ্যে।

Share this
TOP