অনির্বাচিত সরকার, গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন

2007 July 16 02

দুর্নীতি, সন্ত্রাসের উত্থান, জঙ্গীবাদ সমৃদ্ধ ৬ বছরের অপশাসন এবং মৃতপ্রায় জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তৎকালীন বি এন পি-জামাত সরকার ২০০৬ সালে একটি পুতুল নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জাল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে যাতে লাখ লাখ ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত ছিল। আওয়ামী লীগ এবং সমমনা দল গুলো একটি পুনর্গঠিত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে একটি নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে।

২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে বি এন পি জামাতের ভোট জালিয়াতির ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে কলুষিত করে তাদের নির্বাচিত পুতুল রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে একটি তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে। জরুরি অবস্থার নামে সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়, সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়। তারা জানতো তাদের শাসনকে চ্যালেঞ্জ করার মত জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক ক্ষমতা শুধু একজন এর ই আছে। ১৬ জুলাই ২০০৭ তারিখে, মিথ্যা অভিযোগে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়, যেই অভিযোগ পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি বন্দী ছিলেন। বিদেশে চিকিৎসা শেষে তিনি ২০০৮ সালের ৪ ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন। তাঁর কারাবন্দী থাকার সময়ে তাঁর মুক্তির দাবিতে আওয়ামী লীগ দেশে ও বিদেশে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে। ৭ থেকে ৩০ জুন ২০০৮ এর মধ্যে শেখ হাসিনার মুক্তি দাবিতে বিশাল স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান পরিচালিত হয়। ১৫ থেকে ৩০ জুনের মধ্যে এই দাবিতে জনগণ এর সমর্থন আদায়ে জেলায় জেলায় বর্ধিত সভা আয়োজিত হয়।

১২ ডিসেম্বর মুক্তির পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদ’ প্রকাশ করে, যার লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কে একটি প্রযুক্তি নির্ভর মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করা। জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৬৪ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসে।

Share this
TOP