বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

 

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক দুলাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিলে তারা নির্বাচিত হন। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই কাউন্সিলে তিনজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচন করা হয়। এরা হলেন যথাক্রমে রাগেবুল আহসান রিপু, টি জামান নিকেতা ও মঞ্জুরুল আলম মোহন। পুনঃনির্বাচিত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ খুব শিগগিরই তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুৃর রহমান এমপি, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সদস্য মির্জা আজম এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এফ এম কামাল হোসেন, বগুড়া ৫- আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, সম্মেলন সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি মুনসুর রহমান মুন্নু। সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা ও শীত উপেক্ষা করে বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী শহরে আসতে শুরু করে। বেলা ১২টার মধ্যে সম্মেলনস্থল বগুড়া জিলা স্কুল মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে ঢুকতে না পেরে বাড়তি লোকজন জিলা স্কুলের আশপাশে এবং সাতমাথা চত্বরে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে দেশে সেনা শাসন (মার্শাল ল) জারি হতো। সেই সেনা শাসনের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন শেখ হাসিনা। অথচ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সেই নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিলেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, মানুষের ভোটের অধিকরার রক্ষার জন্য শেখ হাসিনা যে আয়োজন করেছিলেন, তা বানচাল করার জন্য সে সময় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সারা দেশে ভাঙচূর, জ্বালাও-পোড়াওই শুধু নয়, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তাই এই জ্বালাও-পোড়াও, হত্যার অভিযোগে প্রথমে বেগম খালেদা জিয়ার বিচার হওয়া উপচিত। তিনি আরও বলেন, ওই নির্বাচন বানচাল করতে না পেরে বেগম জিয়া ও তার দলের নেতারা এখন নতুন করে হুমকি দিতে শুরু করেছেন। তাই যতো হুমকি দেয়া হোক না কেন, ২০১৯ সালের নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেও নির্বাচন হবে না। সেই নির্বাচনে আবারও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশে পরপর তিন বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হ্যাট্রিক করবেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান এমপি বলেন, সংগঠনের ভাল কাজকে এগিয়ে নিতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধন করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন , বগুড়ায় একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি , বগুড়ায় একটি শিল্পজোন গড়ে তোলার জন্য প্রধান অতিথি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন শেখ হাসিনার সরকারের প্রচেষ্টায় দেশে মাথা পিছু আয় ৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১২০ ডলারে পৌছেছে। ২০২১ সালের মধ্যে মাথাপিছূ ১৫০ ডলার আয়ের মাধ্যমে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত দেশ গড়ার জন্য সকলকে কাজ করতে হবে।
দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে জয়লাভ করতে হবে। নির্বাচনে জয়লাভের কোন বিকল্প নেই। আর এ জন্য কাজ করতে হবে। অনেককে বলতে শোনা গেছে বগুড়া বিএনপি'র ঘাটি। কিন্তু আজ বগুড়া জিলা স্কুলের মাঠের সমাবেশ প্রমাণ করে বগুড়া আওয়ামীলীগের ঘাটি। আগামী নির্বাচনে আরও আসন লাভের জন্য দলের নেতা কর্মিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, যারা বলেন, বগুড়ায় আওয়ামীলীগ নেই। তাদের কথা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। বগুড়া একটি উর্বর জায়গা। প্রতিকুল অবস্থা থাকা সত্ত্বেও এখানকার রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ এগিয়ে গেছে। তিনিও বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশন করার দাবি জানান। আর এটা শেখ হাসিনার সরকারের সময়ই হতে হবে। তিনি বগুড়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প বিকাশে সহায়তাদানেরও আহ্বান জানান।

TOP