বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এমপি

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
আজকের এই বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে আমি আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি।

আপনারা জানেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী’র আমন্ত্রণে ভারত সফর করেছেন। যে কোন মানদণ্ডে এই সফর ছিল অত্যন্ত কার্যকরী, ফলপ্রসূ ও সমগ্র জাতির জন্য মর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সফর সম্পর্কে গতানুগতিক মিথ্যাচার ও অন্তঃসার শূন্য এক বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

আমরা আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টির অপপ্রয়াসে বিএনপির এই ধরনের অসত্য, বানোয়াট ও দূরভিসন্ধিমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং বিএনপি নেত্রীকে কোন কিছু না জেনে, না বুঝে ‘অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে মারার’ অপরাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

আপনারা জানেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কতিপয় অর্বাচিন ব্যক্তি ও দল সময়ে সময়ে এক ধরনের ‘ভারতীয় জুজু’-কে পুঁজি করে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির অপচেষ্টা চালায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার এই নোংরা খেলা নতুন নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ভারত বিরোধিতার রাজনীতি’-র কৌশল বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সচেতন দেশপ্রেমিক জনগণ বিএনপির ভারতবিরোধীতার বহুল প্রচারিত এই ভাঙা রেকর্ড বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আমরা খালেদা জিয়া ও বিএনপির গাত্রদাহের নিগূঢ় রহস্য জানি। সম্প্রতি বাংলাদেশে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর ১৩৬তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে আইপিইউ’র ১৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের পার্লামেন্টের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্যসহ প্রায় সহস্রাধিক প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এ সম্মেলন ছিল যুগান্তকারী ঘটনা। এই সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে এক অনন্য গৌরবে অভিষিক্ত করেছে। যা কোনভাবেই বিএনপি কিংবা তার মিত্রদের নিরাশ করেছে।

আমরা দেখেছি, জাতীয় মান-মর্যাদার সাথে সম্পৃক্ত এই আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন নিয়ে বিএনপি নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছে। একই কায়দায় তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত কার্যকরী ও ফলপ্রসূ ‘ভারত সফর’-কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এখন মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

মূলত, বেগম খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে পঠিত পাঁচ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য ছিল- মিথ্যচার, অজ্ঞতা ও বিকৃত তথ্যে ভরপুর। এ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেত্রীর বক্তব্যের কোন সারমর্ম ছিল না। তিনি কিছু চটকদার, বায়বীয় ও বানোয়াট তথ্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেছেন। যা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার মন্তব্য ছিল উদ্ভট, হাস্যকর ও স্ববিরোধী। উনি এক দিকে বলছেন এই চুক্তি গোপনচুক্তি, আবার বলছেন- এই চুক্তির মাধ্যমে দেশ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে! আমার প্রশ্ন, গোপনই যদি হয়ে থাকে তবে উনি দেশ কেনা-বেচার বিষয়টি জানলেন কীভাবে?

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বারের ভারত সফর ছিল, অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গৌরবের। রাষ্ট্রাচারের প্রচলিত প্রথা ভঙ্গ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নয়াদিল্লির পালাম বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন এবং ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী রাষ্ট্রপতি ভবনে আতিথিয়তা প্রদানের মাধ্যমে বিরল সম্মান জানিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ভারত সরকারের এই ধরনের মর্যাদাপূর্ণ অভ্যর্থনা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভারত সরকারের বিশেষ সম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ। এই সফরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্বে আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের সাথে ২৪টি এমওইউ ও ১১টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছ ও প্রকাশ্যে দীর্ঘদিনের কনসালটেশন প্রসেস-এর মধ্য দিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সকল এমওইউ ও চুক্তি গৃহীত হয়েছে।

আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, ভারতের সাথে যে ধরনের এমওইউ ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ঠিক একই ধরনের চুক্তি ও এমওইউ পৃথিবীর অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের সাথেও বাংলাদেশের অনুরূপ চুক্তি ও এমওইউ কার্যকর রয়েছে। আমরা অত্যন্ত বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছি, অন্য কোন বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের সাথে চুক্তি সম্পাদনের আগে ও পরে এতো আলোচনা, বক্তব্য, বিবৃতি কোন রাজনৈতিক মহল থেকে কোন দিন উচ্চারিত হয় নি।

আমি বেগম খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করতে চাই, একমাত্র ভারতের সঙ্গেই সমঝোতা স্মারক হলেই প্রশ্ন উঠবে কেন? ভারত আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতম বন্ধুপ্রতীম দেশ। যারা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন এবং আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সে দেশের অনেক সৈন্য তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। যে সকল রাষ্ট্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করেছে তাদের সাথে ইতোপূর্বে অনুরূপ চুক্তি সম্পাদনের সময় এ ধরনের প্রশ্ন উঠেনি কেন? ২০০২ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ‘বাংলাদেশ চায়না ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক একটি চুক্তি করেছিলেন। সে চুক্তি নিয়ে কোন ধরনের কোন আলোচনা কী হয়েছিল? আমরা খালেদা জিয়ার কাছে তার জবাব চাই। আমরা ভারতের সাথে অনুরূপ চুক্তি করেছি। বেলারুশ, চীন, ফ্রান্স, কুয়েত, রাশিয়া, তুরস্ক এই ৬টি দেশের সাথে এ ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। সিঙ্গাপুর, দক্ষিন কোরিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশের সাথে প্রতিরক্ষা এমওইউ করা আছে। বাহরাইন, কানাডা, চেকপ্রজাতন্ত্র, ইতালি, সৌদিআরব, কাতার, মালয়েশিয়া, প্যালেস্টাইন, ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এই ১৩টি দেশের সাথে প্রতিরক্ষা খাতে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি প্রক্রিয়াধীন আছে। এই ধরনের চুক্তি নতুন কিছু নয়।

এ সফরের নতুন চুক্তি অনুযায়ী সামরিক খাতে ভারত শতকরা ১% সুদে ৫০০ মিলিয়ন ডলার নমনীয় ঋণ প্রদান করবে এবং এ ঋণের আওতায় আমরা আমাদের পছন্দ অনুযায়ী রাষ্ট্র থেকে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করতে পারবো। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এ প্রসঙ্গে তার মনগড়া ও মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য শুধু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতই নয় উস্কানীমূলকও।
আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই, এই চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তার কথা অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কোথায়, কীভাবে খর্ব হলো তা জাতির সামনে তাকে প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় করজোড়ে জাতির নিকট তার ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।

প্রিয় সাংবাদিকবন্ধুগণ,
বাংলাদেশে সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন আমাদের বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্যরাও তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকে। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস, কারিকুলামÑ পাবলিক ডকুমেন্ট, যা সকলেই জানতে পারে। বেগম খালেদা জিয়া এ সমস্ত ট্রেনিং প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস ও কারিকুলাম নিয়ে যে প্রশ্নের অবতারণা করেছেন তা তার অজ্ঞতারই পরিচয় বহন করে।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ তাদের পেশাগত উৎকর্ষতা সাধনের জন্য বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতীম বিভিন্ন রাষ্ট্রে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকে। যা একটি পেশাদার সামরিক বাহিনীর জন্য প্রচলিত রীতি। পৃথিবীর অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের মতোই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী প্রতিবেশি ভারতের সাথে অনুরূপ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে আরও বেশি লাভবান হতে পারবে। এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার মিথ্যাচার ও বানোয়াট বক্তব্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার তাঁর ভারত সফরকালে শুধু ভারত সরকার নয়, ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথেও বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক সম্পাদন করেছেন। যার মধ্যে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি’র সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সাথে অস্ট্রেলিয়া সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে ইতোপূর্বে সম্পাদিত অনুরূপ একটি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। ভারতের সাথে এ সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন- তা তার মূর্খতারই নামান্তর। ঐতিহাসিকভাবেই ভারত ও বাংলাদেশের আইনব্যবস্থার মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। বাংলাদেশের আইন-আদালতে ভারতের আদালতের দেওয়া রায়, নজির গ্রহণ করা হয়। কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের আইন-আদালতের গঠনপ্রণালী একই ধরনের। ভারতের সাথে এই সমঝোতা স্মারকের ফলে বাংলাদেশের নি¤œ আদালতের প্রায় দেড় হাজার বিচারক তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর নাকি চরম ব্যর্থ সফর’। যিনি ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ১৯৯১ সালে ভারত সফরে গিয়ে গঙ্গার পানি চুক্তির কথা বলতে ভুলেই যান, কেবল তার কাছেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফর ব্যর্থ বলে মনে হতে পারে। তার কাছে ভাল কিছু আশা করা যায় না। আমরা খালেদা জিয়া’র মনোবেদনা বুঝি। তিনি ও তার দল ক্রমাগত রাজনৈতিক ভুলের কারণেই জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। খালেদা জিয়ার গতকালের সংবাদ সম্মেলন ছিল ক্রমাগত ব্যর্থতার ভারে ন্যুজ এক রাজনৈতিক নেত্রীর অসংলগ্ন প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

মূলত, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই অত্যন্ত মর্যাদার সাথেই বাংলাদেশ-ভারতের পারস্পরিক সমস্যাগুলি সমাধানে সফল হয়েছেন। শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বেই ২০১৫ সালে ভারতের স্থল সীমানা চুক্তি সম্পাদিত হয় যার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হয়েছে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ায় ১৭ হাজার একরেরও বেশি জমি বাংলাদেশের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বেই ভারতের সাথে সমুদ্র সীমা বিরোধও নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা বিস্তৃত হয়েছে। কোন রকম দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াই সীমানা জটিলতা নিরসনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জিত এই সফলতা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই গঙ্গার পানির হিস্যা আদায় করতে সক্ষম হন। এর আগে তো আনেকেই ক্ষমতায় ছিলেন, তারা পারে নি কেন?

আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের এই মেয়াদেই তিস্তার পানি সমস্যারও সমাধান হবে, ইনশাল্লাহ।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
মূলত খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মাটিতে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে সীমান্তে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সাথে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির যে সম্পর্ক ধ্বংস করেছিল তা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পুরুদ্ধার হয়েছে। খালেদা জিয়ার রাজনীতি সব সময় স্ববিরোধী। সময়ে সময়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশ বিক্রির অভিযোগ খালেদা জিয়ার নতুন নয়।

আপনাদের মনে আছে, ১৯৯১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হবে, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পাদনের সময় পাবর্ত্য অঞ্চল থেকে ফেনী পর্যন্ত ভারতের কাছে বিক্রি হবে বলে এ ধরনের নির্লজ্জ ও জঘন্য মিথ্যাচার তিনি করেছেন। একই সাথে ভারত থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য তিনি আত্মসম্মানবোধ বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। ভারতের গত নির্বাচনে বিজিপি’র বিজয়ের পর খালেদা জিয়া ও বিএনপির উল্লাস ও আচরণ ছিল অত্যন্ত হাস্যকর। পরবর্তীতে ভারত সফরে গিয়ে তিনি যে কর্মকা- করেছিলেন তা ছিল দেশের অত্যন্ত অপমানজনক এবং তা ছিল তার ভারত তোষণ নীতির বহিঃপ্রকাশ। বিজিপি সভাপতি অমিত শাহ’র টেলিফোন সংলাপ নিয়ে জাতির সাথে যে মিথ্যাচার করেছিলেন তা ছিল কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার বর্হিভূত।

আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, ভারত থেকে এখন পর্যন্ত যা কিছু আদায় হয়েছে তা অত্যন্ত মর্যাদার সাথে আওয়ামী লীগ সরকারই অর্জন করেছে। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলেই বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখে তার ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।
জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ভারতের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে সব চেয়ে বেশি। যার ফলে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে রপ্তানী আয় ২৮৭০.২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যা বিএনপি-জামাত আমলে ছিল মাত্র ১২৫৬.২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমানে ১০২.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারই ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্ক ও কোটা ফ্রি সুবিধা অর্জন করেছে। যার মধ্যে ৪৫টি রেডিমেট গার্মেন্টস আইটেম রয়েছে। সীমান্ত বাজার স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সুবিধা বিস্তারের অবারিত সুযোগ এই সরকারই সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মাধ্যমে ভারতের সাথে আঞ্চলিক ও দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতার বিদ্যমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নবতর অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সফরকালে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, নদীর অববাহিকা-ভিত্তিক, পানি সম্পদ ব্যবস্থপনা, সীমান্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, আন্তঃযোগাযোগ তথা কানেকটিভিটি, জনযোগাযোগ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ইত্যাদি বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ সফরকালে খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রিবাহী রেল ও বাস চলাচল এবং দিনাজপুরের বিরল থেকে ভারতের রাধিকাপুর রুটে পণ্যবাহী রেল চলাচল শুরু হয়েছে।

এ সফরে গতানুগতিক চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নতুন ক্ষেত্রসমূহÑ যেমন বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ গবেষণা, ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ, প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা, ভারতীয় অনুদানে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, ভূটানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ত্রিদেশীয় অংশগ্রহণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

ভারত বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নমনীয় ঋণের ঘোষণা প্রদান করেছে। এই অর্থ দিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ভারত থেকে অতিরিক্ত আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযোজিত হবে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্র নীতি ছিল- ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। তা অনুসরণ করে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্বপরিম-লে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন এবং সম্প্রতি প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত সফরের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা-বিশ্বস্ততা-বন্ধুত্ব-মর্যাদার এক বহুমুখি সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। তারজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা দেশবাসীর পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই।

আমরা মনে করি, বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে পৃথিবীর অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের সাথেও অনুরূপ কার্যকরী, ফলপ্রসূ এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি ও সহযোগিতা ধারাবাহিকতা রক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো। যেমনটি জননেত্রী শেখ হাসিনা ভারতের জাতীয় দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’-তে লেখা এক প্রবন্ধে বলেছেন Friendship is like a flowing river - বন্ধুত্বতা হলো বহতা নদীর মতো।

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

TOP