১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের প্ররোচনায় মানবতার দুশমন, ঘৃণ্য ঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর আর বেদনাবিধূঁর পরিবেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে। সমগ্র জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ সদস্যবর্গকে।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাত্র তিন বছর সাত মাসের মধ্যেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান যখন তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিবেদিত ঠিক সেই মুহূর্তে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকা-ের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গের নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য শুরু করে। বিচারের মাধ্যমে মানবতার শত্রু ঘৃণ্য নরপিশাচ আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয় এবং বিদেশে পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে নস্যাৎ করার পাশাপাশি বাংলাদেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি চালু হয়। রাতের অন্ধকারে বন্দুকের মুখে সংবিধান পদদলিত করে অবৈধ পথে ক্ষমতা দখল ও অবৈধ ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য বেআইনীভাবে সংবিধান পরিবর্তনের অশুভ ধারা সূচিত হয়। মহান জাতীয় সংসদ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির চির অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে উদ্ভাসিত হয়ে সংবিধান থেকে অপরাজনীতির অগণতান্ত্রিক স্বৈর ধারাকে অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি জাতিগত কলঙ্ক মোচনের আরেকটি মাইলফলক হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধী, জাতিদ্রোহী, দেশদ্রোহী, স্বদেশের মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে ভিনদেশী ঔপনিবেশিক দখলদারদের পক্ষাবলম্বনকারী অর্থাৎ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ’৭১-এর নরঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং রায় কার্যকর হয়েছে, যা এখনো চলমান রয়েছে।

এই পটভূমিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান আদর্শ তথা শ্রেণী, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুখী-সমৃদ্ধ প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আধুনিক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে বাঙালি জাতি আজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকীতে আমাদের সকলের সম্মিলিত শপথ হোক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার গৃহীত সকল কর্মসূচি তথা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন, গণতন্ত্র, শান্তি ও প্রগতির পথে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবো।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

১৫ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার

সূর্য উদয় ক্ষণে- বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন।
সকাল ৬টা ৩০ মি.- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। (মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কারণে সময়সূচি সমন্বয় করে নিতে হবে)। এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং ঢাকা নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন।
সকাল ৭টা ৩০মি.- বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। (সরকারি কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করতে হবে)
সকাল ১০টা-  গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

বাদ জোহর- দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।

দুপুর-  অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ।
বাদ আছর- বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

১৬ আগস্ট ২০১৭ বুধবার
অপরাহ্ণ ৪টায়- আলোচনা সভা। স্থান : বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র।

সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি’র আহ্বান

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি আগামী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে পালন করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাসমূহের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।