শেখ হাসিনার অঙ্গীকারঃ নিরাপদ অভিবাসন

 

আওয়ামী লীগ সরকার শ্রম অভিবাসনকে একটি উদীয়মান খাত হিসেবে চিহ্নিত করে এটিকে জাতীয় এজেন্ডা হিসেবে বিবেচনায় রেখেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সাল থেকে অভিবাসন ব্যবস্থাকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নিয়মিত ও দায়বদ্ধ করতে অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহন করেছে। সরকার অভিবাসন ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষে স্মার্ট কার্ড প্রবর্তন, বিদেশ থেকে সহজে অর্থ প্রেরণ, শ্রম বাজার গবেষণা সেল গঠন, দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণ এবং অভিবাসিদের জন্য স্বাস্থ্য সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। দি ইকনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে প্রকাশিত ‘মাইগ্রেশন গভর্নেন্স ইনডেক্স ২০১৬’- তে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় পাঁচটির মধ্যে দুটি সূচকে বাংলাদেশ বেশ ভালো করেছে।

উন্নয়ন ও অভিবাসন
বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের পথে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে নিজেকে অনুকরণীয় হিসেবে উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে। এম ডি জি ও এস ডি জির বাইরেও দেশের একটি উন্নয়নের রূপরেখা রয়েছে যেটির রচয়িতা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ‘ভিশন-২০২১’ এর আওতায় দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত করা। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে; সামনে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১১-১৫ঃ এ পরিকল্পনায় উন্নয়নে রেমিটেন্সের বিশেষ ভুমিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয় এবং দেশের বাইরের শ্রমবাজারে কর্মী নিয়গের জন্য দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মী সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়। যার ফলে ২০১১ থেকে ২০১৫ মধ্যে রেমিটেন্স খাত বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ছিল।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৬-২১ঃ এতে বিদেশী শ্রমবাজারে সুযোগ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছে।

অভিবাসন এবং রেমিটেন্সকে উৎসাহ প্রদান
বিগত বছরগুলোতে রেমিটেন্সের ক্রমবর্ধমান প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে নিঃসন্দেহে শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশে ২০১৫-১৬ সালে রেমিটেন্স খাত থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন টাকা এসেছে।

আইনী পথে রেমিটেন্স প্রেরণ উৎসাহ দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোকে বিদেশী মুদ্রা উত্তোলন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করে সরকার সুবিধাভোগীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

মুদ্রা বিনিময় হার লাভজনক রাখতে সরকার কমার্শিয়াল ব্যাংকদেরকে নানা ভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল ব্যাংকের মুদ্রা বিনিময় হাউস খোলার ব্যবস্থা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশী ব্যাংকের ৩৪ টি মুদ্রা বিনিময় হাউস বিভিন্ন দেশ যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউএস, গ্রীস, ইতালি, কানাডা, ওমানে কাজ করছে।

রেমিটেন্স প্রবাহের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার ২৪ টি কমার্শিয়াল ব্যাংককে মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে রেমিটেন্স বিতরণের সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমানে ১৮ টি ব্যাংকে মোবাইল ব্যাংকিং- এর সুযোগ রয়েছে যা বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদেরকে (এনাআরবি) বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। সরকার ৩ টি এনাআরবি ব্যাংক অনুমোদন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবের শ্রমবাজারে সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং কিং আব্দুল্লার সাথে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে ‘আকামার’ বিষয়টি মিমাংশা করা হয়। এছাড়া শ্রমিকের চাহিদা আছে এমন সব দেশ যেমন কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, ইউএই, ওমান এবং ইরাকের সাথে এমওউ বিনিময় হয়েছে।

সরকারে নেওয়া কার্যকর উদ্যোগের ফলে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে মধ্য ডিসেম্বরে রেকর্ড ৭.২ লাখ কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে।

অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরাম গঠন
আওয়ামী লীগ সরকার অভিবাসন বিষয়টিকে শুধু মাত্র আভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছে না। বর্তমান অভিবাসন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সীমানা এবং নজরদারি অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘের গত সাধারন পরিষদের সভায় রাখা পরামর্শের উপর ভিত্তি করে একটি মাইগ্রেশন বিষয়ক গ্লোবাল ফোরাম- গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ একটি কাঠামো দাড়া করানোর কথা যেটির আলোকে সব রাষ্ট্র অভিবাসীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ ধারনাটির প্রবক্তা শেখ হাসিনা ও তার আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ দিন থেকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নিয়মিত ভিবাসনের উপর ব্যাপক গুরুত্ব আরোপ করে আসছে। বাংলাদেশ নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনাঃ আইনী / নীতিগত পদক্ষেপ
অভিবাসনের মত বহুমাত্রিক একটি বিষয়কে দেখতে গেলে একটি সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব আইন-কানুনের উপরেও অস্থা রাখতে হবে। বাংলাদেশের অভিবাসন নীতি এক্ষেত্রে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনী কাঠামো রয়েছে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন আইনী পদক্ষেপ নিয়েছে যেগুলো দেশে এবং বহিঃবিশ্বে ব্যাপক ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সরকার নিয়োগদানকারী সংস্থাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনা এবং অভিবাসন খরচ কমাতে সরকার ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩’ চালু করে।

নিরাপদ অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের বেলায় বিদেশে বসবাসরত কর্মীদের কল্যাণ এবং মানব পাচার রোধের বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার যে সব নীতি প্রণয়ন করেছে –
ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ২০১১ঃ এটি বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ে স্কিল নির্ভর প্রশিক্ষণের বিষয়টিতে গুরুত্বের সাথে দেখে থাকে।

ওভারসীজ এমপ্লয়মেন্ট এন্ড মাইগ্রেশন অ্যাক্ট ২০১৩ঃ এটি আইনগত এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, স্মার্ট কার্ড, নিয়োগদানকারী সংস্থাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার বিষয়গুলোর জোর আরোপ করেছে।

ওভারসীজ এমপ্লয়মেন্ট পলিসি ২০১৩ঃ পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য স্বাধীন এবং সম্মানজনক কাজের সুযোগ সৃষ্টির জন্য এটি প্রণয়ন করা হয়।

এক্সপাট্রিয়েট ওয়েলফেয়ার ওভারসীস এমপ্লয়মেন্ট পলিসি ২০১৬ঃ নিরাপদ অভিবাসন, বিদেশে বসবাসরত কর্মীদের নিরাপত্তা, অভিবাসীদের কল্যাণ এবং নারী কর্মীদের অভিবাসন নিশ্চিত করতে এটি প্রণয়ন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছেন। তিনি এ খাত নিয়ে তার আশাবাদের কথা বারবার ব্যক্ত করেছেন। অভিবাসন খাত ক্রমাগতভাবে দেশের অর্থনীতি এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যে অবদান রাখছে তা অব্যাহত থাকবে। অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের তরুণেরা প্রবাসে বিভিন্ন ধরনের পেশায় কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। দেশের তরুণেরা যাতে প্রবাসে সম্মানজনক পেশায় কাজ করার সুযোগ পায় সে লক্ষে সরকার সর্বদা সচেষ্ট।

Share this
TOP