বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদের ধারাবাহিকতা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করেছে। এর ফলশ্রুতিতে মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসন অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের পুনর্মিলনীতে ভাষণকালে বলেন, জনগণ সর্বক্ষেত্রে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া পাচ্ছে এবং বিশ্ব বাংলাদেশকে এখন করুণা নয় মর্যাদার চোখে দেখছে। সরকারের ধারাবাহিকতার জন্যই আমরা মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন ভন্ডুল করার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু জনগণ নির্বাচন ও গণতন্ত্রের স্বপক্ষে থাকায় তারা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোষিক ও বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল সে সময় ৩০ লাখ শহীদের হত্যাকারী ও ২ লাখ মা-বোনকে নির্যাতনকারী স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক জান্তা ক্ষমতা কুক্ষিগত করলে দেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। ওই সময় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অধিষ্ঠান দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়। কারণ তারা এমন কোন অর্থবহ স্বাধীনতা চায়নি যে যার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরেই বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতো। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতি হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জাতি আবারো সঠিক পথের দিশা খুঁজে পায় এবং অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু হয়। তিনি বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে তাঁর দল গণতন্ত্র ও দেশের হারানো গৌরভ পুনরুদ্ধার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সক্ষম হবো। তিনি বলেন, আমরা এখন যেকোন ক্ষেত্রে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারি- কারণ আমাদের শক্তি হচ্ছে সততা। এই সততার শক্তিতে আমরা পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদ করেছিলাম।

শেখ হাসিনা আজ তাঁর ছেলে বিশিষ্ট তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদের জন্মদিনে তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, আমি তার (জয়) কাছ থেকে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছি তা আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণায় ব্যাপক অবদান রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধকালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বন্ধীদশার কথা স্মরণ করে বলেন, এই সময় জয় জন্মগ্রহণ করে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগঠনের সভাপতি এডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাউসারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে এর সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ বক্তৃতা করেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক আলহাজ মকবুল হোসেন এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাসিম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে সংগঠনটির ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ শাখার নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

ছবিঃ সাইফুল ইসলাম কল্লোল

Share this
TOP