বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন, ১০ই মে

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন

ওবায়দুল কাদের এমপি
সাধারণ সম্পাদক
১০ মে ২০১৭ বুধবার, সময় : সন্ধ্যা ৭টা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়, ধানমন্ডি, ঢাকা

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
একটু আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে তাদের তথাকথিত ভিশন-২০৩০ উপস্থাপন করেছেন।

খালেদা জিয়ার এই ভিশন-২০৩০ একটি ফাঁকা প্রতিশ্রুতির ফাপাঁনো রঙিন বেলুন; এই বেলুন অচিরেই চুপসে যাবে। জাতির সাথে একটি তামাশা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পরের মেধাসত্ব চুরি করা একটি নৈতিক অপরাধ। এটা এক ধরনের political dishonesty। একটি রাজনৈতিক দল কতটুকু দেউলিয়া হলে অপর একটি রাজনৈতিক দলের দেওয়া আইডিয়া এবং Thoughts নির্লজ্জভাবে চুরি করতে পারে।BNP immitate করতে পারে। কিন্তু innovate করতে পারে না।

আপনারা জানেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির সামনে ‘ভিশন-২০২১’ তথা রূপকল্প-২০২১ উপস্থাপন করেছিলেন। ইতোপূর্বে কোন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য কোন ধরনের রোডম্যাপ উপস্থাপন করেনি। জনগণ ২০০৮ সালে নিরঙ্কুশভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘ভিশন-২০২১’ তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর ওপর আস্থা স্থাপন করে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। বাংলাদেশের জনগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে গত ৯ বছর ধরে প্রত্যক্ষ করেছে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কি ‘ভিশন’ থাকা উচিত। জননেত্রী শেখ হাসিনা শুধু কাগজে কলমে নয়, স্বপ্নে নয়, বাস্তব অর্থেই তার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়ন করে চলছেন। যার প্রতিফলন দেশের আজকে সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। এই ভিশন-২০২১ এর কারণেই আজ বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে।

আমরা আশাবাদী, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অগ্রসরমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবো এবং ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হব।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ, 

খালেদা জিয়ার আজকের এই ভিশন-২০৩০ একটি মেধাহীন, অন্ত:সারশূন্য, দ্বিচারিতাপূর্ণ ও জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রলাপ ছাড়া কিছুই নয়। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি’র ভিশন হচ্ছে হাওয়া ভবন বানিয়ে লুটপাট, দুর্নীতি আর এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার ভিশন।

মূলত, এই বিএনপি এবং তার প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সহযোগী ও বেনিফিশারি হিসেবে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল না করলে গণতন্ত্র, সংবিধান ও আইনের শাসনকে হত্যা না করলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্ব দরবারে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো এবং খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগের আইডিয়া চুরি করে জাতিকে ছবক দিতে হতো না।

খালেদা জিয়ার আজকের বক্তব্য তার দলের অজ্ঞতাকে নগ্নভাবে প্রকাশ করেছে। তিনি অনেক বিষয়ে উপস্থাপন করেছেন যেগুলি ইতোমধ্যেই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। তাদের কাছে সততার বুলি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কথা শ্রবণ জাতির জন্য খুবই অপমানজনক। কারণ তাদের নেতা জিয়াই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর ইনডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে বিচারহীনতার নজির স্থাপন করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত চেতনা ও মূল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের চরিত্র পরিবর্তন করেছিল। আজকে তারা ঠিক একই কায়দায় বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চায়।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
বাংলাদেশ- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ভারত নয়; ভৌগোলিক আয়তনের দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ একটি ছোট রাষ্ট্র। এখানে কোন প্রদেশ নাই যে, এখানে একটি ফেডারেল গর্ভমেন্ট কার্যকর আছে। এটা স্বয়ং বিএনপি’র স্থায়ী কমিটি বৈঠকেও মতবিরোধ হয়েছে যা আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আজকে খালেদা জিয়া দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট দাবীর মাধ্যমে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে চায়। আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা স্বত্তেও তিনি এ ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে কাদেরকে খুশি করতে চান?

উনি কী করে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান দিবেন? ক্ষমতায় থাকতে তো তিনি তার দলের রাষ্ট্রপতিকে বিনা কারণে অপসারণ করেছিলেন।

দেশবাসী ভুলে যায়নি যে, বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হামলায় রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী জীবন বাঁচাতে মহাখালির রেললাইন ধরে পালিয়ে ছিলেন।

তার কথায় মনে হয় তিনি রাষ্ট্রপতি আর তার দুর্নীতিবাজ পুত্র তারেককে প্রধানমন্ত্রী বানাতে চান!

তিনি সংসদকে কার্যকর করার কথা বলেছেন, অথচ তিনি তো বিরোধীদলীয় নেতা থাকতে মাত্র ১০ দিন সংসদে গিয়েছিলেন। তার মুখে সংসদ কার্যকরের কথা মানায় না।

তিনি বরাবরের ন্যায় এবারও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছেন। তিনি স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে আছেন এবং পক্ষেই থাকবেন। উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সাথে নিয়েই তারা রাজনীতি করবে। তাদের ভিশন যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার ভিশন, সন্ত্রাসবাদ কায়েমের ভিশন, দেশ বিক্রির ভিশন।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিএনপি নেত্রী মায়াকান্না করেছেন। আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই- আপনি তথাকথিত অবরোধের জন্য আপনার দলের নেতা-কর্মীরা যখন ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন তখন আপনার ভিশন ছিল? আপনি তো, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের সময় অবরোধের নামে বোমা মেরে মানুষ ও পুলিশ হত্যা, সম্পদহানিসহ যেসব নাশকতা, নৃশংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। বোমায় দগ্ধদের এবং নিহতদের পরিবারের কাউকে সমবেদনা জানানো দূরে থাক, কোন প্রকার শোক প্রস্তাবেও তাদের নাম উল্লেখ করেননি।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ
বিএনপির ইতিহাস নেতিবাচক রাজনীতির ইতিহাস; হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির স্রষ্টা বিএনপি। তাদের আন্দোলন করার মতো শক্তিমত্তা জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদের পদতলে দলিত হয়ে গেছে। ভিশন-২০৩০ সাল পর্যন্ত পৌঁছার পথ তাদের জন্য খোলা নেই। বেগম জিয়া ‘ভিশন-২০৩০’ বলে যে কর্মপরিকল্পনার কথা বলেছেন এসবের অনেক কিছুই আওয়ামী লীগ আগেই তাদের দেয়া ‘ভিশন-২০২১’-এ রয়েছে। বিএনপি’র ভিশন যেমনই হোক এতে কোন নতুনত্ব নেই।

জেনারেল জিয়া সৃষ্ট কারফিউ গণতন্ত্রের ধারক, প্রতিহিংসার নেশায় উন্মত্ত হয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টা, ইনডেমনিটি আইন করে জাতির পিতা হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করা এই বিএনপির মুখে কোন ধরনের ভিশনের কথা বিশ্বাস করার মতো বোকামী বাংলাদেশের জনগণ আর কোন দিন করবে না।

প্রিয় সাংবাদিকবন্ধুগণ,
ইতিহাস বলে এ দেশের জনগণকে স্বপ্ন দেখিয়েছে ভিশনারী আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বপ্ন দেখিয়ে জাতিকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ দিয়েছে। সংবিধান দিয়েছে। পঁচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে এ জাতির ভাতের এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ। আর অন্যরা সব জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখনো তাই হচ্ছে। দেশকে মধ্যম আয়ে নেয়ার স্বপ্ন ‘ভিশন-২০২১’ দেখিয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে দেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। প্রবৃদ্ধির এ ধারায় শিগগিরই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হব। এ জাতিকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে, ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবো ইনশাল্লাহ।

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

TOP