আদরের রাসেল

জাফর ওয়াজেদঃ বাসায় ফিরে ঘরে ঢুকে বাবা প্রথমেই তাকে খুঁজতেন। ভরাট কণ্ঠে হাঁক দিতেন তার নাম ধরে। তিন চাকার সাইকেল ছেড়ে তড়িঘড়ি দৌড়ে এসে চড়ে বসত বাবার কোলে। বাবার চশমাটাকে দারুণ লাগত তার। হাত দিয়ে টেনে নিয়ে বাবার চোখ, গোঁফ, মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত কখনও-সখনও। বাবা তাকে গল্প শোনাতেন, রূপকথা নয়, একটি নিপীড়িত দেশ ও তার মানুষ এবং সংগ্রাম করে তাদের স্বাধীনতা ল...

রাসেল, রাসেল তুমি কোথায়?

শেখ হাসিনাঃ রাসেল, রাসেল তুমি কোথায়?রাসেলকে মা ডাকে, আসো,খাবে না, খেতে আসো।মা মা মা, তুমি কোথায় মা?মা যে কোথায় গেল--মাকে ছাড়া রাসেল যে ঘুমাতে চায় না ঘুমের সময় মায়ের গলা ধরে ঘুমাতে হবে। মাকে ও মা বলে যেমন ডাক দিত, আবার সময় সময় আব্বা বলেও ডাকত। আব্বা ওর জন্মের পরপরই জেলে চলে গেলেন।৬ দফা দেওয়ার কারণে আব্বাকে বন্দি করল পাকিস্তানি শাসকরা। রাসেলের বয়স তখন...

যুদ্ধাপরাধ ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারে শেখ হাসিনা

বিচারপতি ওবায়দুল হাসানঃ বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘ যুদ্ধ করেই আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। বাঙালির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী পথচলা সদা সরব থেকেছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। লড়াইয়ের পথ ধরেই বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিব হয়ে ওঠেন 'বঙ্গবন্ধু'। 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'-ঐতিহাস...

পঁচাত্তরের খুনিদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ এবং আমাদের দায়

মো. জাকির হোসেন: ২৬ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালের এই দিনে। ১৫ই আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর নয়, রক্তাক্ত হয়েছিল সমগ্র বাংলাদেশ। খুনিরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বাঙালি জাতিকে পিতাহন্তারকের কাঠগড়ার দাঁড় করিয়ে ক্ষান্ত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের এক মাস ১০ দিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর সভ্যতা ...

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাঙালীর কলঙ্কজনক স্মৃতি

ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ: সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পুরো রাজনীতির মোড় পরিবর্তিত হয়ে যায় পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে। এ ঘটনার পর প্রায় দেড় দশক দেশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক শাসন চলে। এমনকি এ হত্যাকান্ডের বিচার আটকে দিতে এবং খুনীদের রক্ষায় একটি অধ্যাদেশ জারি করেন ‘স্বঘোষিত’ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহ...

জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন সময়ের দাবি

অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূরঃ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের মানুষকে পাকিস্তানী শোষণের হাত থেকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছিলেন। এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলায় রূপান্তরের স্বপ্ন দেখেছিলেন (যা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে)। পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু দ্রুত যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলা...

১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড একটি জাতিগোষ্ঠী ও জাতিসত্তাকে গণহত্যার সামিল

পৃথিবীতে যুগে যুগে বহু ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের উদয় ঘটেছে। এদের মধ্যে যারা তাদের সংগ্রামের ফসল হিসেবে সৃষ্টি করেছেন একটি রাষ্ট্র, একটি জাতিসত্তা। উল্লেখযোগ্যভাবে বলা যায়-জর্জ ওয়াশিংটন, মোস্তফা কামাল পাশা, মহাত্মা গান্ধী, হো চিন মিন, ইয়াসির আরাফাত, নেলসন ম্যান্ডেলা, চে গুয়েভারাসহ আরও অনেকে। এরা সবাই স্বপ্ন দেখেছেন স্বাধীন রাষ্ট্রের। আরও উন্নত দেশ ও স্বজাতি সত্তার বিকাশের এব...

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরীঃ সপরিবারে নির্মম হত্যার প্রায় ২৯ বছর পর এবং বিএনপির শাসনামলে ২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল মোতাবেক ১লা বৈশাখ ১৪১১ বঙ্গাব্দে বিবিসি বাংলা বিভাগের সকালের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি অভিধায় ভূষিত করে। ফেব্রুয়ারী মাসের ১১ তারিখ থেকে মার্চের ২২ তারিখ পর্যন্ত সারাবিশ্বের হাজার হাজার বাঙালি শ্রোতা চিঠি, ইমেইল...

বঙ্গবন্ধু হত্যা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সংবিধান লংঘন প্রসঙ্গ

শ ম রেজাউল করিম: ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। আত্মস্বীকৃত খুনিরা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেন যে “ক্ষমতা থেকে বঙ্গবন্ধুকে সরানোই ছিল তাদের লক্ষ্য। কিন্তু, তিনি এমন যোগ্যতা সম্পন্ন ছিলেন যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশ পাল্টে দিতে সক্ষম ছিলেন, সে কারণে তাকে হত্যা করা ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না&...

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়ার হাত ছিলঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ছিল বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান আসল খলনায়ক ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। রবিবার সকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্ত...

হত্যাকাণ্ডে জিয়ার মদদ

একাত্তরের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করায় একজন অখ্যাত মেজর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান। কে জানত যে পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পেছনে তার সমর্থন থাকবে! একদিন ইতিহাস নিশ্চয়ই ওই খলনায়ক জিয়াকে বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পেছনে বড় কারণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম...

আগস্ট ট্র্যাজেডি ও বাংলাদেশে হত্যার রাজনীতি

মিজানুর রহমান খান: ব্রিটিশ-ভারতে ভারতবাসীর ভুল রাজনীতির ফসল বর্তমান ভারত-উপমহাদেশে ক্রমাগত সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান। এ অঞ্চলের প্রধান তিনটি দেশ হিন্দুত্ব আর মুসলমানত্বের দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছে সেই ১৯৪৭ সাল থেকে। যে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি মুসলমান একদিন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য আন্দোলন করেছিলো, সেই একই বাঙালি মুসলমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করেছে দীর্ঘ চব্বিশ ব...

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দূরদর্শী বঙ্গবন্ধু

তোয়াব খানঃ দক্ষিণ এশিয়ার চিন্তা-চেতনা এবং মননে সব থেকে প্রগতিশীল রাষ্ট্রের স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর অগ্রগামী চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেই প্রতিফলিত হয়েছে এমন নয়। বিদেশে, বিশেষ করে শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলন এবং আলাপ-আলোচনায় অনুপম দক্ষতা লক্ষ করা যায়। কমনওয়েলথের সদস্য পদ লাভের পর বঙ্গবন্ধু কমনওয়েলথ ...

কী দুঃসময়ই না পিছে ফেলেছে বাংলাদেশ

অজয় দাশগুপ্তঃ বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের সে সময়ের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী) হেনরি কিসিঞ্জার তাদের ক্ষোভ-রোষ গোপন রাখতে পারেননি। তারা বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এবং বাংলাদেশের অধিকৃত এলাকায় দুই জল্লাদ কমান্ডার টিক্কা খান ও আমীর আবদুল্ল...

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রক্ষার ঘৃণ্য অপচেষ্টা ও ইনডেমনিটি আইন

যে কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচারের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিলেও বাংলাদেশে জাতির পিতার হত্যার বিচারই আটকে দেওয়া হয়েছিল, যা বিশ্ব ইতিহাসেই বিরল। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খুনিদের রক্ষায় একটি অধ্যাদেশ জারি করেন ‘স্বঘোষিত’ রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে খুনিদের রক্ষার পর পথটি স্থায়ী করার প্র...

বঙ্গবন্ধু হত্যায় প্রত্যক্ষ মদদ ছিলো জিয়াউর রহমানেরঃ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভায় বক্তারা

বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যার পেছনে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা এবং প্রত্যক্ষ মদদ ছিলো বলে মনে করেন সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনা সভায় এমন বক্তব্য উঠে এসেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আ...

জাতীয় শোক দিবসে সাড়ে ১৮ হাজার কর্মহীন পরিবারে কুমিল্লা-৬ এর সাংসদের সহায়তা

বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি’র নেতৃত্বে সাড়ে ১৮ হাজার ৫০০ কর্মহীন অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দেশের করোনা পরিস্থিতির কারণে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ,কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ...

শোক দিবসে এতিমখানায় খাবার পাঠালেন নড়াইল-২ এর সাংসদ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকল শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় নড়াইলে এতিমখানার কোমলমতি শিশুদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শনিবার দুপুরের খাবার পাঠিয়েছেন নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ১৫ আগস্ট নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খ...

১৫ আগস্ট নিয়ে আলোচনা আজও কেন প্রাসঙ্গিক?

ড. আব্দুল জব্বার খাঁনঃ লিখছি মূলত তরুণ প্রজন্মের জন্য। অনেককেই বলতে শুনি – ৪৫ বছর পরও এই দিনটি নিয়ে এতো আলোচনা, বক্তৃতা করার কী আছে? দেশে এতো এতো সমস্যা আছে, সেগুলো নিয়ে তো এতো আলোচনা হয় না। সত্যিই কি তাই? সারাবছরই কিন্তু আমরা অন্যান্য সমস্যা নিয়েই প্রাসঙ্গিক আলোচনায় ব্যস্ত থাকি, শুধু আগস্ট মাসেই বরং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আলোচনা করা ...

প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিতে সেই কালরাত

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঘাতকদের নৃশংসতার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন আবদুর রহমান শেখ ওরফে রমা ও মো. সেলিম ওরফে আবদুল। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আদালতে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের এই দুই বিশ্বস্ত গৃহকর্মী জবানবন্দি দিয়েছেন। সেই ভয়ংকর অমানিশার মুহূর্ত তাঁদের বয়ানে অবিকল তুলে ধরা হলো। রাসেল বলল, ‘আমি মার কাছে যাব’আবদুর রহ...

  • «
  • »