বাংলাদেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনাঃ মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান

190

Published on মে 27, 2020
  • Details Image

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় গৃহিত স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সমন্বয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ কর্তৃক চীন ও অন্যান্য দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে 'বাংলাদেশে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ক্রমান্বয়ে চালু করার সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থাপনা ও পেশার জন্য কারিগরি নির্দেশনা' প্রণয়ন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান

১. মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নেতৃত্বদানকারী একটি দল প্রতিষ্ঠা করুন। জরুরী পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি তৈরী করুন। কোভিড-১৯-এর প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের উপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন এবং সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ ও জীবাণুমুক্তকারী উপাদান সংরক্ষণ করুন।
২. কর্মীদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ জোরদার করুন। সন্দেহজনক উপসর্গ যেমন জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট সম্পন্ন ব্যক্তি স্ক্রিনিংয়ের জন্য সময়মতো চিকিৎসা সহায়তা নিন।
৩. মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখে কর্মী এবং বহিরাগতদের শরীরের তাপমাত্রা নিন। বেশী তাপমাত্রা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করুন।
৪. কোভিড-১৯ নির্ণয় ও চিকিৎসা দিতে সমর্থ এমন স্থানীয় সাধারণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করুন। বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন-এর জন্য অবজারভেশন ওয়ার্ড স্থাপন করুন। সাধারণ হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগেও কোয়ারেন্টাইন জরুরি ওয়ার্ড স্থাপন করা উচিত।
৫. সকল বিভাগ একসাথে কাজ করতে হবে যাতে হাসপাতালঘটিত বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়, জীবাণুমুক্তকরণ নিশ্চিত করা যায় এবং কোয়ারেন্টাইন এবং সুরক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করা যায়।
৬. পরিবেশগত স্যানিটেশন এবং সকল এলাকায় ভেন্টিলেশনের দিকে নজর দিন এবং যথাযথ পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করুন।
৭. কঠোর অন্তর্বিভাগ এবং বহির্বিভাগ বিধিনিষেধ গ্রহণ করুন। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এবং সুশৃঙ্খলভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করুন। পরপর আউট-পেশেন্ট ভিজিটকে কমানোর চেষ্টা করুন এবং হাসপাতালে থাকার সময়কে সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করুন।
৮. হাসপাতালে প্রবেশ ও বহির্গমনকে কমান এবং প্রবেশ ও বহির্গমনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন।
৯. পরিবারের সদস্য কর্তৃক ভিজিট কমিয়ে দিন এবং রোগীর সাথে আসা ব্যক্তির সংখ্যা সীমিত করুন।
১০. নতুন ভর্তি হওয়া মানসিক রোগীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন রোগীদের এলাকায়/ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণের পর সাধারণ রোগীদের এলাকায়/ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা উচিত।
১১. ইন-পেশেন্ট বিশেষ করে গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত ভর্তি রোগীর চিকিৎসা এবং তত্বাবধান জোরদার করুন। বাইরের কর্মকান্ডকে কমিয়ে দিন এবং অপ্রত্যাশিত আচরণের ঝুঁকি থেকে আনীত ঝুঁকিকে কমান।
১২. অন্তবিভাগে যদি কোনো সন্দেহভাজন বা নিশ্চিত কোভিড-১৯ কেস পাওয়া যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে কোয়ারেন্টাইন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তাকে মনোনীত কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করুন এবং সময়মত স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে রিপোর্ট করুন।
১৩. কোভিড-১৯ এর নিশ্চিত কেস যাকে ওই সময়ের জন্য একটি মনোনীত হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে না, তাকে এ হাসপাতালেই তাৎক্ষণিকভাবে একটি জ্বরের ওয়ার্ড স্থাপন করে ভর্তি করতে হবে। কোভিড-১৯ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ প্রদানের জন্য কর্মী পাঠাতে আহবান করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটিতে সংস্পর্শে আসা চিকিৎসা কর্মী ও রোগীদের ১৪ দিন মেডিকেল পর্যবেক্ষণের জন্য কোয়ারেন্টিনে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং ওয়ার্ডগুলোকে সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্তকরণ করতে হবে।
১৪. পেশাদারী কোন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে জীবাণুমুক্তকরণের কাজটি করিয়ে নিতে হবে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত