বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতির বুনিয়াদ: একটি বিশ্লেষণ

455

Published on সেপ্টেম্বর 9, 2022
  • Details Image

প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামান:

আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে ১৯২০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৩০ এর দশকের প্রথমদিকে সংঘটিত অর্থনৈতিক মন্দা পৃথিবীতে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দা হিসেবে বিবেচিত যা ১৯২৯ সালের শেষের দিকে শুরু হয়ে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই মন্দা পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রকে ঋনাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল। এর ফলে শিল্প উৎপাদন এবং উৎপাদিত দ্রব্যের দাম মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছিল, দারিদ্রের হারের উর্ধ্বগতি, ব্যাপক বেকারত্ব, এবং গৃহহারা মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ১৯২৯-৩৩ সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প উৎপাদন কমেছিল ৪৭%, জিডিপি কমেছিল ৩০% এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছিল ২০% হারে। পরবর্তীতে বিশ্ববাসী দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক মন্দা অবলোকন করেছিল ২০০৭-০৯ সময়কালে। সেই সময়ে মার্র্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি কমেছিল ৪.৩% এবং বেকারত্বের হার পৌছেছিল ১০% এ। এপ্রেক্ষিতে আমরা যদি ২০০৭-০৯ পুর্বের যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পযালোচনা করি তাহলে দেখতে পাবো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ২০০১ এ ছিল ১%, ২০০৪ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ৩.৮০% পরবর্তীতে হ্রাসমান গতিতে ২০০৭ এ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ১.৮৮%। অর্থ্যাৎ ২০০৭-০৯ এর অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির প্রবৃদ্ধি একরকম অস্থিতিশীলই ছিল। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই অস্থিতিশীলতাই হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সেই সময়ে নাড়া দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছিল।

২০০৭-০৯ অর্থনৈতিক মন্দার পরে বর্তমান করোনা ভাইরাস সংকটকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি বলেছেন যে, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত শতকের যেকোনো মন্দার তুলনায় বড় সংকটের মধ্যে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। যদিও বিশ্ব অর্থনীতির নিম্নমুখী গতি নিয়ে করোনা ভাইরাস সংকটের আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিল আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থা। উপরন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে নজিরবিহীন বিপর্যয় তৈরি করতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য এ অর্থনৈতিক মন্দায় বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ তো কয়েকধাপ এগিয়ে বলছেন বাংলাদেশের অর্থনীতি এক মহাদুর্যোগে পতিত হবে।

নানাবিধ আশংকার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনা ভাইরাস সংকট এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তার একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরছি আজকের লেখনীতে। আমরা যদি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পূর্বের ২০১০-২০১৯ বছরের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন চলক বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাবো বাংলদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৫৭ থেকে ৮.১০ তে উন্নীত হয়েছে। পাশাপশি মোট ভোগ ৭৯.২ থেকে কমে ৭৬.০৭ হয়েছে যার মধ্যে সরকারী ভোগ ৫.১ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬.৩ এবং বেসরকারী ভোগ ৭৪.১ থেকে হ্রাস পেয়ে ৬৯.৭৭ ভাগ হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির তত্ত্ব অনুযায়ী মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারী ভোগ ব্যয় বেসরকারী ভোগ ব্যয় অপেক্ষা অনেক বেশী কাযকর। কেননা বেসরকারী পযায়ে ব্যক্তি তার আয় ভোগ ব্যয়ে খরচ করতেও পারে আবার নাও করতে পারে। এটি নির্ভর করে ব্যক্তির প্রান্তিক ভোগ প্রবনতা তথা ব্যক্তির সঞ্চয় প্রবনতা কিংবা তার ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর। ব্যক্তির সঞ্চয় প্রবণতা বেশী হলে ভোগ ব্যয় কম হবে, বিনিয়োগ কম হবে, কর্মসংস্থান কম হবে, মানুষের আয় হ্রাস পাবে, দারিদ্রের দুষ্টু চক্র সক্রিয় হবে ফলশ্রুতে অর্থের প্রবাহের গতি কম হবে এবং জাতীয় আয়ের উপর ঋনাত্বক প্রভাব পরবে। এক্ষেত্রে সরকারী ভোগ ব্যয় একটি নিশ্চিত খরচ হিসেবে বিবেচিত হয় যা অর্থনীতির গতি সঞ্চারে একটি কাযকর রাজস্ব নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় হিসাব পরিসংখ্যান ২০২২ এর তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী এই সময়ে জাতীয় সঞ্চয় ২০.৯ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩০.৭৯ ভাগ হয়েছে, মোট বিনিয়োগ ২৬.২ ভাগ থেকে বৃদ্ধি যেয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩১.০২ ভাগ হয়েছে যার মধ্যে সরকারী বিনিয়োগ শতকরা ৪.৭ ভাগ থেকে বেড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে শতকরা ৭.৩২ ভাগ হয়েছে এবং একই সময়ে বেসরকারী বিনিয়োগ ২১.৬ ভাগ থেকে বেড়ে ২৩.৭ ভাগ হয়েছে। অর্থের সরবরাহ ৪৫.৫ ভাগ থেকে বেড়ে ৫২.৯ ভাগ হয়ে পুনরায় ৪৫.৮ এ স্থির হয়েছে (সারণী ১)। অর্থ্যাৎ বিগত ১০ বছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকসমূহ বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী সম্ভাব্য সকল চলকসমূহ ধনাত্বক আচরণ করছে বিধায় নিশ্চিত করে বলা যায় বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিত্তির উপর ক্রিয়াশীল রয়েছে। ফলশ্রুতে এটি আশা করা যায় করোনা ভাইরাস সংকট এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারনে অর্থনীতির উপর যে ধরনের ঋনাত্বক প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে সেই আশংকা বাস্তবে খুব বেশী রুপায়িত হবে না।

বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী আমরা যদি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বিগত ১১ বছরের অর্থ্যাৎ ২০১০ হতে ২০২১ পর্যন্ত অর্থনৈতিক চলকসমূহের মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি পযালোচনা করি তাহলে দেখতে পাবো বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫.৫৭ থেকে বেড়ে ৭.৮৮ শতাংশ হয়েছে , ভারতের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.৫০ থেকে হ্রাস পেয়ে ৩.৭৪ হয়েছে, শ্রীলংকার প্রবৃদ্ধি ৮.০২ থেকে কমে ২.৩৩ হয়েছে, মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধি ৭.২৭ থেকে হ্রাস-বৃদ্ধি হয়ে কমে ৬.৮৮ শতাংশ হয়েছে এবং মালদ্বীপের অর্থনীতির গতিধারা ছিল অস্থিতিশীল, নেপালের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪.৮২ থেকে কমে ২০১৬ অর্থবছরে ০.৪৩ ভাগ হয়েছে পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ অর্থবছরে ৬.৬৬ ভাগ হয়েছে যেটি একটি অস্থিতিশীল অর্থনীতির নির্দেশক (সারণী ২)। ভুটানের প্রবৃদ্ধি যেখানে ২০১০ অর্থবছরে ছিল ১১.৯৫ সেখানে ২০১৯ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ৫.৭৬, অন্যদিকে পাকিস্তানের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ১.৬১ থেকে হ্রাসবৃদ্ধির মাধ্যমে ২০১৯ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২.৫০ যা বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকার চাইতে অনেক কম। আমরা যদি বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতিধারা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাবো বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ায় সবচাইতে বেশী হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ বৃদ্ধির হার ছিল ২২.২ শতাংশ, অন্যদিকে ভারতের প্রবৃদ্ধির হারের বৃদ্ধি ছিল ১০.১ শতাংশ, শ্রীলংকার জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতিধারা ছিল ঋনাত্বক। শ্রীলংকার জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিগত ১১ বছরে হ্রাস পেয়েছে ৬৯.৮ শতাংশ হারে। মালদ্বীপ এবং ভুটানের জিডিপির প্রবৃদ্ধিও বিগত বছরগুলোতে কখনও হ্রাস পেয়েছে আবার কখনও বৃদ্ধি পেয়েছে ফলশ্রুতে বিগত ১১ বছরে মালদ্বীপের জিডিপির প্রবৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে হ্রাস পেয়েছে ৬ শতাংশ হারে এবং ভুটানের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে ৫৮.৫ শতাংশ হারে। উপরোক্ত আলোচনায় এটি ষ্পটতই প্রতীয়মান যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল এবং অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলেই করোনা ভাইরাসের বছরে দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ধনাত্বক অন্যদিকে ভারতসহ অন্যান্য দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ঋনাত্বক ফলশ্রুতে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির উপর আঘাত বা যে কোন বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দক্ষিন এশিয়ার অন্যান্য সকল দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত দেয়াল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যে দেয়াল ভেদ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি খুব বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া খুবই দুরুহ হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির এই শক্ত ভিত্তি রচিত হয়েছে মুলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রজ্ঞাবান দিকনির্দেশনায়, বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বে ভিশনারি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সুদক্ষ বাস্তবায়ন। বিশেষ করে রুপকল্প ২০২১ প্রণয়নকালীন সময়ে ৬ষ্ঠ ও ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার পুর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন। এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন অর্থনীতির মুল চালিকা শক্তি সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ, নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের আয় এবং ক্রয়ক্ষমতা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি ধারবাহিকভাবে ৬ শতাংশের নীচে রাখা।

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী আমরা যদি বিশ্বব্যাপী আয় ভিত্তিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ২০১০ হতে ২০২১ মেয়াদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাবো, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় সম্মিলিত ভাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৪৭ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১৯ সালে ৩.৯১ শতাংশ হয়েছে, নিম্ন উন্নত দেশ সমূহের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.২১ থেকে হ্রাস পেয়ে ৪.৮৭ শতাংশে দাড়িয়েছে, উচ্চ আয়ের দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.০১ থেকে কমে ১.৭৮ শতাংশ হয়েছে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.৪২ থেকে অবনমিত হয়ে ৪.০৯ শতাংশ, মধ্যম আয়ের দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৯৫ থেকে ক্রমশ হ্রাস পেয়ে ৪.০২ শতাংশ, নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশসমূহের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৯৩ থেকে কমে ৪.০১ শতাংশ এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশসমূহের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.৬০ থেকে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে ৩.৭৮ শতাংশ হয়েছে (সারণী ৩)। অর্থ্যাৎ আয় ভিত্তিক বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিবেচনাতেও দেখা যাচ্ছে আয় ভিত্তিক বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের সম্মিলিত জিডিপি ক্রমশ হ্রাসমান হলেও বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনীতির একটি শক্ত বুনিয়াদ রচনা করেছে। বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ২০১০ সালে যেখানে ছিল ৫.৫৭ শতাংশ সেখানে ২০১৯ সালে হয়েছে ৭.৮৮ শতাংশ। বাংলাদেশের জিডিপির ক্রমাগত বৃদ্ধির কারনে অর্থনীতি যে শক্ত ভিত্তির উপর দাড়িয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়েও বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি শতকরা ৩.৪৫ শতাংশ হয়েছে। অথচ এই সময়ে দক্ষিন এশিয়ায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঋনাত্বক ৫.২৪ শতাংশ, উচ্চ আয়ের দেশসমুহের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঋনাত্বক ৪.৫০ শতাংশ, মধ্যম আয়ের দেশসমুহের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঋনাত্বক ১.২৮ শতাংশ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলেও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দুরদর্শী নেতৃত্বে ইতোমধ্যে যে সকল সুদুরপ্রসারি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তার ফলে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির ধনাত্বক গতিধারা অব্যাহত থাকবে। তবে এটি সত্য যে বাংলাদেশ বিশ্বের বাইরের কোন ভিন গ্রহের দেশ নয়। সারা পৃথিবীতে যদি দ্রব্যমুল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি ঘটতে থাকে তাহলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে, সঞ্চয়ের পরিমান কমবে, বিনিয়োগ কম হবে, কর্মসংস্থান হ্রাস পাবে, বেকারত্ব বাড়বে, ফলশ্রুতে দারিদ্রের দুষ্টুচক্র ক্রিয়াশীল হবে। পৃথিবীব্যাপী দারিদ্রের দুষ্টুচক্রের প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে কোন সন্দেহ নেই। তারপরেও এটি যাতে কম অনুভুত হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি যাতে স্বনির্ভরতার মুলমন্ত্র থেকে বিচ্যুত না হয় সেজন্য বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছেন যাতে বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকে। বাংলাদেশ যদি খাদ্যঘাটতির কবলে না পড়ে তাহলে নিশ্চয়ই করে বলা যায় খাদ্য আমদানীর জন্য যে পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা হতো তা দিয়ে জ্বালানী তেল আমদানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এলক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল নাগরিককে জ্বালানী ও বিদ্যুত ব্যবহারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরন করা অবশ্য কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী মূলধন কাঠামোর বিষয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বাংলাদেশের মুলধন গঠনের পরিমান ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০ অর্থবছরে যেখানে মূলধন এর পরিমান ছিল জিডিপির ২৬.২৫ ভাগ সেখানে ২০২১ অর্থবছরে এর পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩১.০২ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মূলধন গঠনের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ভারতের মূলধন গঠনের পরিমান ২০১০ অর্থবছরের ৩৯.৭৯ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৩১.২০ শতাংশ হয়েছে, শ্রীলংকায় মূলধন গঠনের পরিমান ৩০.৩৫ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে ২৭.৭০ শতাংশ হয়েছে, ভুটানে এ হার ৬৩.১৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৩.৭৫ শতাংশ, পাকিস্তানে এর পরিমান ১৫.৮০ শতাংশ থেকে কমে ১৪.৪৭ শতাংশ হয়েছে (সারণী ৪)। অঞ্চলভিত্তিক মূলধন গঠনের হার পযালোচনা করলে দেখা যাবে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশসমূহের মূলধন গঠন জিডিপির শতকরা ৩১.৭৮ থেকে কমে শতকরা ২৮.০৫ ভাগ, দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার ৩৬.৩৯ থেকে কমে ২৯.৮০ শতাংশ হয়েছে (সারণী ৫)। মূলধন গঠনের উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়েছে মধ্যম আয়ের দেশসমুহে, মধ্যম আয়ের দেশের মূলধন গঠন ৩২.৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩.০৮ শতাংশ, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে এ হার ৩২.৫৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫.২৬ শতাংশ, উচ্চ আয়ের দেশসমূহে মূলধন গঠন ২০.৮৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২২.০৪ শতাংশ হয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যতীত দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশ, মধ্যম ও উচ্চ আয়ের দেশসমূহ ছাড়া আয়ভিত্তিক অন্যান্য সকল অঞ্চলের মুলধন গঠনের হারে নিম্নমূখী প্রবণতা বিদ্যমান । বাংলাদেশে মূলধন গঠনের এ উর্ধ্বমূখী প্রবনতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কেননা মূলধনী দ্রব্যের অধিকতর উৎপাদন দেশের অবকাঠামো শক্তিশালী করতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আর্থিক নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মজবুত অবস্থানের ফলে সেইসাথে অনুকুল অভ্যন্তরীন সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় মূলধন গঠন প্রক্রিয়াকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে। বাংলাদেশে সড়ক যোগাযোগের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরী, বৃহদাকার সেতু নির্মাণ, বিদ্যুত ও জ্বালানী ক্ষেত্রে ব্যাপক বিনিয়োগ বিশেষ করে পদ্মা সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, মেট্রোরেল নির্মাণ, রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলি টানেল নির্মাণ, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্বরোপ, নতুন নতুন সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ ইত্যাদি মূলধন গঠন প্রক্রিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এই সূচনা ভবিষ্যত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মুলধন গঠন শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়নেই অবদান রাখে না, ব্যপক হারে উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদের গুনগত মান বৃদ্ধি করণ, আধুনিক লাগসই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, কৃষি এবং শিল্প উন্নয়নে ব্যপকহারে অবদান রাখতে মূলধন গঠন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। উপরন্তু অধিকতর মূলধন গঠন মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখার মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা কাযকর চাহিদা সৃষ্টি করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে, মানুষের আয় বেড়ে যাওয়ার ফলে দারিদ্র দুরীকরণে অবদান রাখে সেই সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়াও মূলধন গঠনের এ প্রক্রিয়ায় বৈদেশিক নির্ভরশীলতা হ্রাস করে আত্মসম্মানবোধ বৃদ্ধিতেও অবদান রাখে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যেহেতু কম উন্নত দেশ থেকে উত্তরণ করে ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা মধ্যম আয়ের দেশ, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং উন্নত অর্থনীতিতে রুপান্তরিত হবে সেহেতু অর্থনীতির প্রধান তিনটি খাতের মধ্যে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রত্যাশিত ভাবেই ক্রমহ্রাসমান হচ্ছে, শিল্পের অবদান ক্রমবর্ধমান হচ্ছে এবং সেবা খাতের অবদানও ক্রমহ্রাসমান হচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান যেখানে ১৮.৩৮ ছিল সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে ১১.৫২ হয়েছে, শিল্পের অবদান যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৬.৭৮ ভাগ ছিল সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫.৪৭ ভাগ হয়েছে। একটি দেশের জিডিপির সামগ্রিক উল্লম্ফনে শিল্পখাত সবসময়েই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে কৃষিখাত নির্ভর শিল্পোন্নয়ন অনেক বেশী কাযকর হয়। এপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর শিল্পোন্নয়নে আরো অনেক বেশী মনোযোগী হতে হবে। জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৫৪.৮৪ ভাগের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৫৩.০১ ভাগ হয়েছে। এখানে যে বিষয়টি লক্ষনীয় তা হলো ধারাবাহিকতা যা একটি দেশের স্থিতিশীল অর্থনীতির একটি অন্যতম প্রধান নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর অবস্থান করছে।

সামগ্রিক বিবেচনায় করোনা ভাইরাস এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের এ সংকটকালীন সময়ে বাংলাদেশে অর্থনীতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো একদফা গতিশীল করা লক্ষ্যে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১), ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) এবং বাৎসরিক বাজেট প্রণয়ন রীতিনীতি পুনর্মূল্যায়ন করা অতীব জরুরী। সেই সাথে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দুতাবাসমূহকে অর্থনৈতিক কুটনীতি আরো সফলতার সাথে পরিচালনার জন্য এ টাস্কফোর্স গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ কিংবা বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞবৃন্দের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরী করে অর্থনৈতিক কুটনীতিকে আরো অর্থবহ করা যেতে পারে। উপরন্তু করোনা ভাইরাসের এযুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষ করে রোবোটিকস, আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স, আইওটি, ম্যাশিন লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি, মাইক্রোপ্রোসেসর ডেভেলপমেন্ট, তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনা, ফ্রি-ল্যান্সিং ওয়েব ব্যবস্থাপনা, হাইটেক-পার্ক সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়াদিকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করে একটি বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমানে রপ্তানী আয়ের একটি বিশেষ দ্বার উম্মোচিত হবে অন্যদিকে গুনগতমানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরী হবে যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সমর্থ হবে। যেহেতু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সফলতার সাথে সম্পৃক্ত সেজন্য শুধুমাত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর না করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি আন্ত-মন্ত্রণালয় পরামর্শক পরিষদ গঠন করে রপ্তানী উৎসাহপ্রদ কাযাবলী গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের যাবতীয় প্রস্তুতি এখনই গ্রহণ করা প্রয়োজন। এছাড়াও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের উপর যথাযথ গুরুত্বরোপ করা হলে রপ্তানী আয়ের উপর একটি ধনাত্বক প্রভাব পরবে। ফলশ্রুতে শুধুমাত্র তৈরী পোষাক শিল্পের উপর রপ্তানী নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং সেই সাথে লেনদেনের ভারসাম্যে উন্নতি ঘটবে যা অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক হবে।

উপরোক্ত আলোচনায় এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরকারী ও বেসরকারী ভোগ ও বিনিয়োগ, অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়, অর্থের সরবরাহ, মূলধন গঠন সব চলকেই একটি ধনাত্মক আচরণ বিরাজমান রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশসমূহ ব্যতীত দক্ষিণ এশিয়ার সকল রাষ্ট্র, আয় ভিত্তিক বিভিন্ন অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকসমূহের তুলনায় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকসমূহ অধিকতর উর্ধ্বমূখী অবস্থানে রয়েছে এবং চলকসমূহের এই ধনাত্মক আচরণ জিডিপির প্রবৃদ্ধিতেও কাযকর অবদান রেখেছে যার ফলে ধারাবাহিকভাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে একটি উর্ধ্বমুখী গতিধারা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী বুনিয়াদের উপর দাঁড় করিয়েছে। সুতরাং করোনা ভাইরাস সংকট এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে অর্থনীতিতে মন্দার যে আশংকা করা হচ্ছে সেই আশংকা বাস্তবে রুপ লাভ করার সম্ভাবনা খুবই কম। বরঞ্চ সংকটকে সুযোগে রুপান্তর করার যে সুযোগ বাংলাদেশের জন্য সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ সেখানেই অতীতের ধারাবাহিকতায় পারঙ্গমতার পরিচয় দিবে। পাশাপাশি তৈরী পোষাক শিল্পের বাইরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুত্তি খাত এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানী আয়, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে আরেকদফা গতিশীলতা সৃষ্টি হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে।

লেখকঃ ভাইস-চ্যান্সেলর, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত