বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৪ বছরে সরকারের উন্নয়ন ও পরিকল্পনা

762

Published on ফেব্রুয়ারি 3, 2023
  • Details Image

সারাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে সরকার কর্তৃক বিগত ১৪ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে জ্বালানি বহুমুখীকরণের জন্য গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি কয়লা, এলএনজি, তরল জ্বালানি, ডুয়েল-ফুয়েল, পরমাণু বিদ্যুৎ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণসহ বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ফলশ্রুতিতে মুজিব বর্ষে সরকার প্রতিশ্রুত শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের উন্নয়নে দেশের নতুন নতুন এলাকায় ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ এবং দ্বি-মাত্রিক ও ত্রি-মাত্রিক জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে নতুন কূপ খননের স্থান চিহ্নিত করে অনুসন্ধান কূপ খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে কয়েকটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।
গ্যাসের উৎপাদন ও উন্নয়ন কূপ খনন এবং বিভিন্ন কূপের ওয়ার্কওভার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে গ্যাসের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে কক্সবাজারের মহেশখালিতে স্থাপিত দু’টি ভিন্ন ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে ২০১৮ সাল থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এছাড়াওদেশে নতুন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন ও বিভিন্ন ধরণের গ্যাস স্টেশন স্থাপন করে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ এলাকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সাথে পুরাতন গ্যাস বিতরণ পাইপলাইন প্রতিস্থাপন ও স্টেশন আপগ্রেডেশন করা হয়েছে। গ্যাসের অপচয় রোধে বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক আঙ্গিনায় প্রি-পেইড মিটার ও ইভিসিযুক্ত মিটার স্থাপন করা হয়েছে। সর্বোপরি সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধানে জরিপ ও কূপ খননের মতো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিগত ১৪ বছরে গৃহীত উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা:

উৎপাদন পরিকল্পনা

* বিদ্যুৎ উৎপাদন মহাপরিকল্পনা (পিএসএমপি-২০১০) প্রণয়ন।

* বিদ্যুৎ উৎপাদন মহাপরিকল্পনা (পিএসএমপি-২০১৬) প্রণয়ন।

* বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমন্বিত মহাপরিকল্পনা Integrated Energy and Power Master Plan (IEPMP) প্রণয়ন।

* নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে ১০% বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

* ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০,০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন।

* ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

* ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হতে উৎপাদন।

* মাতারবাড়ি এলাকায় দৈনিক ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ উদ্যোগ গ্রহণ।

সঞ্চালন পরিকল্পনা

* ২০৩০ সালের মধ্যে ২৮ হাজার ৩০০ সার্কিট কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

* ১,৭৮,৬০০ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

বিতরণ পরিকল্পনা

* ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়ন যা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

* ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ লক্ষ ৬০ হাজার কি:মি: বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

* সকল বৈদ্যুতিক পোস্ট পেইড মিটারকে পর্যায়ক্রমে স্মার্ট/প্রি-পেইড মিটারে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিগত ১৪ বছরে উল্লেখযোগ্য অর্জন:

* বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী শতভাগে উন্নীত হয়েছে।

* বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪, ৯৪২ মেগাওয়াট থেকে ২৬,৭০০ মেগাওয়াটে (নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ক্যাপটিভসহ) উন্নীত হয়েছে।

* সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩,২৬৮ (৬ জানুয়ারি ২০০৯) মেগাওয়াট থেকে ১৪,৭৮২ (১৬ এপ্রিল ২০২২) মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

* জানুয়ারি ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিসহ মোট ২০, ৯৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

* ভারত থেকে আরও ১, ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

* পুরাতন ও অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্র রি-পাওয়ারিং এর মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ।

* নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ৬০ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন।

* ৬, ৫৩১ সার্কিট কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

* বৈদ্যুতিক গ্রিড সাবস্টেশন ক্ষমতা ৪২ হাজার ২০৬ এমভিএ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

* ৩ কোটি ৩৫ লক্ষ নতুন বিদ্যুৎ গ্রাহক সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।

* ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে।

* বিদ্যুতের সামগ্রিক সিষ্টেম লস (সঞ্চালন ও বিতরণ) ১৬.৮৫% থেকে ১০.৪১%এ হ্রাস।

* মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৬০৯ কিলোওয়াট আওয়ার এ উন্নীত।

* এ পর্যন্ত ৫২ লাখের অধিক বৈদ্যুতিক প্রিপেইড মিটার স্থাপন।

* বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৯৪
কিলোমিটার ওভারহেড ও ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন আন্ডারগ্রাউন্ডে রূপান্তর করা হয়েছে।

* বিদ্যুৎ খাতে Enterprise Resource Planning (ERP)বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

* গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালুকরণ।

* অন-লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন ও নিয়োগ ব্যবস্থাপনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনা চালুকরণ ইত্যাদি।

* ২০০৯ সালের গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট হতে বর্তমানে ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীতকরণ।

* নতুন ৫টি (জকিগঞ্জ, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, রূপগঞ্জ ও ভোলা নর্থ) গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার; এবং দৈনিক ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট সমতুল্য এলএনজি আমদানির সক্ষমতা অর্জন। গ্যাস খাতের উন্নয়নে আধুনিক ৪টি রিগ ক্রয় ও ১টি রিগ পুনর্বাসন।

* দেশব্যাপি ১৩৫৪ কি.মি. গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন; এবং ৩ লক্ষ ৮৮ হাজার ১৬৪টি প্রি-পেইড মিটার ও ২৫৮৭টি ইভিসি গ্যাস মিটার স্থাপন।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

লাইফ লাইন কনজ্যুমার : ১ কোটি ৬৫ লাখ, লাইফ লাইন কনজ্যুমারকে বিদ্যুৎ বিক্রি : ৪.১৪ টাকা, বাল্কক্রয় ৫.৮৯২৫ টাকা (কি.ও ঘণ্টা), গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৬৩.৫ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ লাইফ লাইন গ্রাহকদের দেয়া হয়। এতে ক্রয় মূল্য হত গড়ে ১০০ কোটি টাকা কমে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দেয়া হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ৮ হাজার ৯ শত ৯৫ কোটি ইউনিট। বিদ্যুৎ পাইকারি পর্যায় বিক্রিতব্য ৮ হাজার ৭ শত ২৫ কোটি ইউনিট
(৩% সঞ্চালনলস)।

ক) বিদ্যুৎ উৎপাদনে পাইকারি পর্যায় সরবরাহ ব্যয় ১১.৫৪ টাকা/ইউনিট। পাইকারি পর্যায় বিক্রয় ৬.৭০ টাকা/ইউনিট, প্রতি ইউনিটে ঘাটতি ৪.৮৪ টাকা। মোট ঘাটতি ৪২ হাজার ২ শত কোটি টাকা।

খ) খুচরা পর্যায় সরবরাহ ব্যয় ৮.৮০টাকা/ইউনিট। বাল্কে পিডিবির বিক্রয় (বিতরণ কোম্পানির ক্রয়) ৬.৭০ টাকা সঞ্চালনব্যয় ০.২৯ টাকা। সঞ্চালন ব্যয়সহ বিদ্যুৎ ক্রয়ে ব্যয় ৬.৯৯ টাকা। বিতরণ পর্যায় সিস্টেমলস (৭.৯৫%) ০.৬০ টাকা। বিতরণ পরিচালন ব্যয় (বেতন ভাতা, মেরামত ও সংরক্ষণ, আর্থিক ব্যয়) ১.২১ টাকা। সর্বমোট গ্রাহক পর্যায় বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয়৮.৮০ টাকা/ ইউনিট। গ্রাহক পর্যায় গড়ে বিক্রয় মূল্য ৭.৮৬ টাকা/ইউনিট (আবাসিক সর্বনিম্ন ৪.১৪, সর্বোচ্চ ১২.৬৩ টাকা)। বিতরণ কোম্পানি সমূহের ঘাটতি ০.৯৪ টাকা /ইউনিট। বিতরণ কোম্পানির সমূহের মোট ঘাটতি ৭ হাজার ৫ শত ৫০ কোটি টাকা।

ভর্তুকী না দিলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য হবে ১৪.০৬ টাকা। বিদ্যুৎ উৎপাদনে পাইকারি পর্যায় সরবরাহ ব্যয় ১১.৫৪টাকা/ইউনিট সঞ্চালন ব্যয় ০.২৯টাকা। বিতরণ পর্যায় সিস্টেমলস (৭.৯৫%) ১.০২টাকা। বিতরণ পরিচালন ব্যয় (বেতন ভাতা, মেরামত ও সংরক্ষণ, আর্থিক ব্যয়) ১.২১ টাকা।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত